Home / জাতীয় / পদ্মা সেতু, দূর হবে লঞ্চডুবির বিভীষিকা

পদ্মা সেতু, দূর হবে লঞ্চডুবির বিভীষিকা

ঢাকার ডাক ডেস্ক : 

অপার সম্ভাবনার পদ্মার সেতুর উদ্বোধন হয়ে গেলো। সেই সঙ্গে সূচনা হলো নতুন একটি অধ্যায়ের। বলা হচ্ছে-জীবন মানের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে এই সেতু। তবে কেবলই কী জীবনমানের উন্নয়ন হবে, নাকি আক্ষরিক অর্থেই বাঁচাবে বহু প্রাণ!

৮ বছর আগের একটি ঘটনা তুলে ধরলেই হয়তো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। অন্য আর দশটি সকালের মতো ছিল না সেদিন। ঘাটের মুখরিত পরিবেশ ছাপিয়ে মাওয়ায় বিরাজ করছিল নিস্তব্ধতা। অনেক মানুষের ভিড়। তবে তাদের কারো মুখে কথা নেই। কপালে কেবলই দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

পুলিশ বসে আছে লাশের ব্যাগ নিয়ে। উদ্বিগ্ন স্বজনরা, কখন মিলেবে মরদেহ। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০১৪। তার তিনদিন আগেই ৪ আগস্ট, ওপারে কাওড়াকান্দি থেকে আড়াইশ যাত্রী নিয়ে ফেরার পথে ডুবেছিল পিনাক-৬ লঞ্চ। সবচেয়ে প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত উদ্ধারকারী জাহাজ কাণ্ডারী-২ তন্ততন্ত করে খুঁজেও হদিস পাইনি লঞ্চটির। সে সময় পাশের লঞ্চ থেকে ধারণ করা পিনাক-৬ প্রবল স্রোতে ডুবে যাওয়ার ভিডিওর কথা মনে পড়লে এখনো হাহাকার তুলে যায় মনে। এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ান অনেকে।

দেশের লঞ্চডুবি বড় পাঁচটি ঘটনার একটি পিনাক-৬ দুর্ঘটনা। এতে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা যায়। নিখোঁজ হন ৬৪ জন।

পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ হওয়ায় দুইপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তাই আজ স্বস্তি। আর অকালে প্রাণ যাবে না, কারো এই আনন্দ ঘরে-ঘরে। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অভিব্যক্তি জানাচ্ছেন কেউ কেউ।

নুর হেলেন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন-আমি ফেনীর মেয়ে। বিয়ে করে যখন শরীয়তপুর আসি তখন সবার একটাই প্রশ্ন ছিল, লঞ্চে যাও কত রিস্ক! কত লঞ্চ ডুবি হয়! আমার ফ্যামিলির সবাই ভয় পেতো। কালকের আগ পর্যন্ত বোধকরি সারা বাংলাদেশের মানুষ ভয় পেতো লঞ্চে কিংবা ফেরি পার হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে। বৈরী আবহাওয়ায় সেটা বেড়ে যেত।

আমার এখনও মনে আছে, ২০১৪ সালের ৪ই আগস্ট যখন পদ্মায় লঞ্চডুবি হয়ে একসঙ্গে ৪৮ জন মানুষ মারা যায়, নিঁখোজ হয় ৬৪ জনেরও বেশি। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি মোবাইল ফোনের এপাশ থেকে কাঁদছিলাম। আর লাইনের ওপাশে ছিল আমার মেয়ের বাবা। সেদিন ও শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিল। পিনাক ৬ লঞ্চটাতে উঠতে গিয়ে কি মনে করে যেনো  নেমে যায়। পরে অন্য আরেকটি লঞ্চে উঠে রওনা হয়।

কিন্তু সেদিন যখন সে লঞ্চ থেকেই কল করে কান্নাজড়িত গলায় বার বার বলছিল,  চোখের সামনে মানুষগুলো মরে গেল, কিচ্ছু করার ছিল না! আমার ও চোখ ভেসে গিয়েছিল।

মনির হোসেন নামের একজন লিখেছেন- পদ্মা সেতু থাকলে হয়তো পিনাক-৬ ডুবে যেত না। আজ আর লঞ্চ ডুবির সেই শঙ্কা নেই।

তবে কেবল লঞ্চ ডুবি নয়, পদ্মায় ফেরি পারাপারের ভোগান্তিও কম ছিল না। আরিফ রহমান লিখেছেন- বয়সে সামান্য বড় হলেও পুরোপুরি বন্ধুর মতো ছিল সোহেল ভাই (বড় ভাবির একমাত্র ভাই)। কত আড্ডা-ইয়ার্কি আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল আমাদের।

২০১৭ সালের জুলাইয়ের এক সকালে হঠাৎ খবর পাই রোড অ্যাক্সিডেন্টে সোহেল ভাই মারাত্মক ভাবে আহত এবং তার পরপরই এলো মৃত্যুর খবর! তখন আমি অফিসে ছিলাম অফিস থেকে দ্রুত বের হয়ে বাসায় এসে ড্রেসটা চেঞ্জ করে রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।

ঢাকা থেকে বাড়ির দূরত্ব ২০০+ কিলোমিটার, ফেরিঘাট ক্লিয়ার থাকলে মোটামুটি সাড়ে ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব।

গাড়িতে বসে দোয়া পড়তে পড়তে যাচ্ছিলাম যেন ফেরি ঘাটে জ্যামটা কম থাকে। কিন্তু ঘাটের কাছাকাছি এসে দেখলাম যে কোনো সমস্যার কারণে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ, ঘাটে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জ্যাম।

সেদিন কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবশেষে নদী পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ভাইকে শেষ বারের মতো দেখতে পারিনি।

সেই ঘটনার পর থেকে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই, তাহলে কি ফেরিঘাটের এই ভোগান্তির কারণে প্রিয়জনকে শেষ বারের মতো দেখতেও পারবো না!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার উদ্বোধন করেন পদ্মা সেতু। আর তিনিই প্রথম টোল দিয়ে পার হন।

Check Also

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রেমিট্যান্সের পরিবর্তে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার ডাক ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x