Home / সারা বাংলা / বিরামপুরে ৪৫ লক্ষ্য টাকার গেট অযত্মে অবহেলায় পড়ে আছে দেখার কেহ নাই

বিরামপুরে ৪৫ লক্ষ্য টাকার গেট অযত্মে অবহেলায় পড়ে আছে দেখার কেহ নাই

রেজওয়ান আলী,বিরামপুর,(দিনাজপুর) প্রতিনিধি :-দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী কাটলা ও জোতবানি ইউনিয়নের শৈলান গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খাঁড়ির উপর নির্মিত সূইস গেট।

দুই ইউনিয়নের মাঝখানে ফসলী মাঠে প্রকৌশলীবাবুদের বৈঠক হয়েছিল। গ্রামের শত কৃষকের উৎসুক জনতার পানে। জমির পাশ দিয়ে বইয়ে যাওয়া খাঁড়িতে সুইস-গেই হবে। খরা মৌসুমে আবাদি জমিতে জলের সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মাস খানেক পর সেখানে তৈরি হয় সুইস-গেইট। ২ বছর ধরে সেটি খোলা ও বন্ধের কাজও চলছিল। কিন্তু দশ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুইস-গেইটটি কৃষকের কাজে আসছেনা। সুইস-গেইট থেকে কোন কৃষি সুবিধা না পেয়ে এসব কথা বলেন ঐ এলাকার কৃষক গণের পক্ষে- খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে থাকা সুইস-গেইটটির বর্তমান অবস্থা। এ বিষয়ে এলাকার কৃষকরা দাবি করেন,সরকার এত টাকা ব্যয় করে সুইস-গেইটটি কেনো নির্মাণ করেছে তা আমাদের জানা নেই। এটি সরকারের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয়ে সুইস-গেইটটি নির্মাণ করা হয়েছে। “চিরির খাল ডাবিং উআরএস নির্মাণ” প্রকল্প নাম দিয়ে নির্মিত সুইস-গেইটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। এটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন ফরিদপুর জেলার নজরুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার। বর্তমানে উক্ত খাঁড়িতে হাঁটু পরিমাণ পানির প্রবাহ থাকলেও আবারও সেখানে ৯ লক্ষ টাকা খরচ করে সুইস-গেইটের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের পশ্চিম পাড়ে সারা এক বর্গফুট সাইজের সিসি ব্লক বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন দিনাজপুরের মেসার্স মাহি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারি মিন্টু নামের একজন ঠিকাদার। অপ্রয়োজনীয় সুইস-গেইটের পাশে আবারও কেন সরকারের এত টাকা খরচ করে পাড় রক্ষার নামে ব্লক বসানোর কাজ করানো হচ্ছে এর কোনো সদুউত্তর দিতে পারেননি উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা। ঐ সময়ে

সুইস-গেইট সংলগ্ন পশ্চিম পাশের শরিষা ক্ষেতে কাজ করছিলেন জোতবানী গ্রামের কৃষক শামসুল মন্ডল জানান, “সুইস-গেইট তৈরি করার পর থেকে এটি আমাদের কোনো উপকারে আসে নাই। সরকার অযথায় এখানে এটি তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খাঁড়িটি খনন না করায় খরা মৌসুমে এই খাঁড়িতে কোনো পানি থাকে না। ফলে আমরা রবি শস্য উৎপাদনের সময় জমিতে পানি সেচ দিতে পারিনা।”
একই গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন,“সুইচ-গেটের গাওত নাকি ন্যাকা আছে এটা তৈয়ার করতে ৪৫ লাখ ট্যাকা নাগিছে। হারে বাপু,৪৫ লাখ ট্যাকার সুইস-গেট তো হামার কোনো কামোতই নাগেনা! কৃষকের জন্য নির্মাণ করা সুইস-গেট যদি কৃষকের কামোত না নাগে তাহলে সরকারের এতো টাকা খরচ করে কি হলো। হামরা তো সারাবছর ধরে স্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়েই সব ফসল আবাদ-সোবাদ করে থাকি।এলাকার আরও কৃষকরা দাবি করছেন,৪৫ লাখ টাকা খরচ করে খাঁড়ির উপর অপরিকল্পিতভাবে একটি সুইস গেইট তৈরি করা হয়েছে। এটি মাঠের মাঝখানে তৈরি করা হলে কৃষকরা সুফল পেতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খাঁড়িটির অনেক জায়গা পলিমাটি ও আবর্জনা দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সময়মত পানি থাকেনা। এতে করে যেসময় ফসলী জমিতে সেচের পানি দরকার হয় ওইসময় পানি পাওয়া যাওয়া যায়না। কর্তৃপক্ষ যদি খাঁড়িটি খনন ও সুইস-গেইট সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষন করেন তাহলে এলাকার কৃষকরা কিছুটা উপকৃত হবেন। এলাকার সচেতনমহল বলছেন,সুইস-গেইটটি তৈরি করার সময় এলাকার সাধারণ কৃষকদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। সুইস-গেইটির উত্তরে প্রায় ৩শ গজ দূরে খাঁড়ির উপরে কাটলা-জোতবানি পাকাসড়ক। দক্ষিণে কাটলা ইউনিয়নের শৈলান ও বেনুপুর গ্রামের কয়েক’শ বিঘার বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ। সুইস-গেইটটির নির্মাণের সময় বর্তমান অবস্থান থেকে দক্ষিণে ফসলী মাঠের মাঝখানে নির্মাণ করা হলে কৃষকরা বেশি উপকৃত হতেন। কৃষকের উপকারের কথা চিন্তা না করেই একটি বিশেষ মহল আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য বর্তমান জায়গায় সুইস-গেইটটি নির্মাণের বন্দোবস্ত করেন। জোতবানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন,খাঁড়ির উপর নির্মিত সুইস-গেইটটি দ্বারা এলাকার কৃষকের উপকার হচ্ছে কিনা তা জানিনা। আর এটি রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে কে আছে তাও জানিনা,সকালে চৌকিদারের নিকট খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো বলে জানান।”

উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদিক বলেন,“চিরির খালের উপর সুইস-গেইটটি কেনো নির্মাণ করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। তখন তো আমি এ উপজেলায় ছিলাম না। যতদূর জানি, স্থানীয় জোতবানি গ্রামের পাবসস (পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি) এখন এটি রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে আছেন। তবে সমিতির পক্ষে এটি খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্বে কে আছেন আমি জানিনা। নিয়ম মোতাবেক কাজ হিসেবে বর্তমানে সুইস-গেইটের উভয়পাশে নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে চিরির খালের পাড় রক্ষায় ব্লক বসানোর কাজ চলছে।”

Check Also

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শাহজাহান আলম সাজুর যে কথা

হাসান জাবেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পানিশ্বর ও আজবপুর সহ মেঘনার তীরবর্তী ভাটি এলাকার নদী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x