Home / উপ-সম্পাদকীয় / কোথায় থামবেন পুতিন

কোথায় থামবেন পুতিন

জ্যোতিষ মন্ডল, এফসিএ : যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে চলছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিন। রাষ্ট্রপতি না বলে বোধ হয় রাশিয়ার জার’ও বলা যেতে পারে। রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি দেখে তাকে কিছুটা হলেও জার’র মতো মনে হয়। সম্ভবত এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচাইতে প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান পুতিন। যুদ্ধ যে শুরু হয়ে গেছে সেখবর এখন পুরাতন। এরই মধ্যে রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের একাধিক শহর দখল করে নিয়েছেন। খুব শীঘ্রই হয়তো সমগ্র ইউক্রেনই দখলে নেবেন। যুদ্ধ কখনোই কাম্য নয়, সভ্য সমাজে কাম্য হতেও পারেনা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ থামানো গেল না কেন? যুদ্ধ না থামানোর ব্যর্থতা কার ঘাড়ে বর্তাবে? পুতিনের নাকি পশ্চিমাদের আর পুতিনই বা কোথায় থামবেন ? তার গন্তব্যই বা কোথায় ? এ যুদ্ধের মাধ্যে কি কি লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছেন পুতিন? যদিও এইমুহুর্তে এসব প্রশ্নের নিখুত উত্তর পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। মানুষের মনে অনেক কামনাই থাকে, কিন্তু সময় ও প্রেক্ষাপটের কারনে সেগুলি অনেক সময় বাস্তবায়ন করা দুরুহ হয়ে যায়। এ যুদ্ধের কারনে পুতিনের দেশকে অনেক মাশুল গুনতে হবে এরই মধ্যে গুনতে শুরু করে দিয়েছেন। সেটা যেনেও পুতিন যুদ্ধে জড়িয়েছেন। পুতিনের দেশকে যদি যুদ্ধের মাশুল দিতেই হয়, তাহলে বড় কোন অর্জন ছাড়া পুতিন ঘরে ফিরবেনই বা কেন ? ব্যাপারটা নিশ্চয় এমন নয় যে প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া করলাম, তার পর রাতে বাসায় ফিরে ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পরলাম, কিছু দিন মুখ দেখা দেখি নাই, তারপর আবার ধীরে ধীরে কথাবর্তা শুরু। রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের মানোমানিন্যের উৎস কি সেটা একটু আলোচনা প্রয়োজন। আপনারা জানেন রাশিয়া আর পশ্চিমা দের ঠাÐা যুদ্ধ অনেক দশকের পুরনো, এমন কি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পিছনেও এই পশ্চিমাদের হাত ছিল। ইউক্রেন চাচ্ছে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো বাহিনীতে যোগ দিতে আর সেটাই রাশিয়ার পছন্দ নয়। ইউক্রেন যদি ন্যাটো বাহিনীতে যোগ দেয় তাহলে পশ্চিমাদের কামান আর পারমাণবিক শক্তি রাশিয়ার একেবারে সীমানায় পৌঁছে যাবে, এতে পশ্চিমারা মাত্রকয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্রেমলীনে বোমা ফেলতে পারবে। আর এই চাপে ক্রেমলীন লেজ গুটিয়ে থাকবে, আর আমেরিকা বিশ্বে এককভাবে ছড়ি ঘোরাবে এটাই পশ্চিমাদের পরিকল্পনা। তবে ইউক্রেনের হয়তো চিন্তা ছিল যদি তারা ন্যাটোতে যোগ দিতে পারে তাহলে তারা ন্যাটোর সামরিক সহায়তা পাবে আর তাদের সার্বভৌমত্ব রাশিয়ার কাছে বিপ্নন হবেনা, বরং দীর্ঘস্থায়ী হবে। নীতি গতভাবে দেখলে ইউক্রেন একটি স্বাধীনদেশ সে ন্যাটোতে যেতেই পারে, তাতে রাশিয়ার বলার কি ? সমস্যাটি এখানেই নিহিত। জাহাজের পাশে ডিঙ্গি নৌকার বসবাস থাকলে সেই ডিঙ্গি নৌকা কোনো দিনই স্বাধীন ভাবে চলাচল করতে পারেনা। জাহাজের চলাচলের গতি বিধি লক্ষ্য করেই ডিঙ্গি নৌকাকে চলতে হয়, নইলে ধাক্কা লাগলে ক্ষতি ডিঙ্গি নৌকারই বেশি হয়। ক্ষুদ্র প্রতিবেশীকে চিরকালই বৃহৎ প্রতিবেশীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। ইউক্রেনের বোঝা উচিৎ ছিল, যে যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত, সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করাই যুদ্ধ জয়ের শামিল। বিশ্বের একটি সুপার পাওয়ার, তার স্বাধীনতা খর্ব হয় তার দুর্বল প্রতিবেশীর কারনে এটা কোন বৃহৎ প্রতিবেশী নেমে নেবে? ইউক্রেনিয়ানরা কৌতুক পছন্দ করেন ভাল কথা, তবে রাশিয়ান্দের সাথে এভাবে কৌতুক করার আগে ভাবা উচিৎ ছিল। অনেকেই হয়তো তাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পুতিনের বিরুদ্ধে কেউই যে যুদ্ধক্ষেত্রে দাড়াবেননা সেটা কৌতুক অভিনেতা হয়তো বুঝতে ভুল করেছেন। তাই তার ভুলের মাশুল তাকে গুনতে ইহবে। কথায় আছে নাচতে নাচতে পুজোর প্রসাদের উপর উঠতে নাই, না চুনে যত ভালই নাচুকনা কেন সেটা দর্শক পছন্দ করেনা। চীন বা রাশিয়া কেউই মেক্সিকোতে ঘাঁটি বানায় নাই বা চেষ্টাও করেনাই, তাই আমেরিকার ও ন্যাটোর ও উচিৎ হয়নি একেবারে রাশিয়ার সীমানায় ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করা বা রাশিয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার চেষ্টা করা। যাই হোক, সময় অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। পুতিন ও আর এ যুদ্ধ না জিতে ঘরে ফিরতে পারবেন না কোনো ভাবেই। তার অর্থ, ধরেই নেয়া যায় যে, জেলেনস্কি আর ক্ষমতায় থাকবেননা। একথা সোজা ভাবেই বলা যায় যে, কিয়েভ দখল করেপুতিন তার অনুগত কাউকে সেখানের সনদে বসাবেন। এখানেই শেষ নাও হতে পারে। অনুগত কাউকে সেখানের সনদে বসিয়ে রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের একত্রী করনের জন্য হ্যাঁ/না গণভোট হলেও অবাক হবার কিছু থাকবেনা। প্রশ্ন হল, নাটক কি এখানেই পুতিন শেষ করবেন নাকি আরো মঞ্চায়ন বাকি রাখবেন ? কোথায় থামবেন পুতিন ? পুতিনের কি তার জন্মস্থান সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে স্বপ্নে দেখে ঘুম ভেঙ্গে যায় ? তার দেশকে ভেঙ্গে যারা টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন তাদেরকে চরম শত্রু মনে হয়? সে কি তার পুর্বজদের অর্জন সমুন্নত রাখতে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ ? এককালের সিংহ সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়তো নেই। কথায় বলে নদী শুকিয়ে গেলেও নদীর চিহ্ন থাকে অনেক কাল। সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়তো নেই কিন্তু রাশিয়া নামে একটি বিরাট রাষ্ট্র, সামরিক শক্তিতে বিশ্বের এক নাম্বার বা দুই নাম্বার এখনও বিদ্যমান। ক্রিমিয়া নামের যে ভাই সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এরই মধ্যে ক্রেমলিনতাকে ঘরে ফিরিয়ে এনেছেন। পুতিন কোথায় থামবেন, সেটা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে বলে মনে হয়না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 জ্যোতিষ মন্ডল, এফসিএ

Check Also

স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে জনজীবন সচল রাখতে হবে

ড. মোহা. হাছানাত আলী দেশে এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। ঢাকায় আক্রান্ত্রের হার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x