Home / উপ-সম্পাদকীয় / পাঁচ দশকে অর্জন ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে এগোতে হবে

পাঁচ দশকে অর্জন ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে এগোতে হবে

রায়হান আহমেদ তপাদার

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা যদি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চিত্রটির দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখব, আমাদের অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক চিত্র থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে একটি শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। অথচ সে সময় বিশ্বের কোনো দেশই আশা করেনি, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এতটা শক্তিশালী অবস্থানে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এক কথায় বাংলাদেশকে উড়িয়েই দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বটমলেস বাস্কেট। তার ধারণা ছিল, দেশটি কখনোই অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে না। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বন্যা, ঝড়-ঝঞ্ঝার এ দেশ প্রান্তিক পর্যায়েই থেকে যাবে।

সে সময়ের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তার এ ধারণা অমূলক ছিল না। তবে এদেশের মানুষ শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে টিকে থাকতে পারে এবং এগিয়ে যেতে পারে, এ দিকটি হয়তো কিসিঞ্জারের জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরে নিপীড়িত-নির্যাতিত, ক্ষুধা-দারিদ্র্যে জর্জড়িত মানুষের খাদ্যসংস্থান এবং অর্থনীতি বিনির্মাণে সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেই নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। তিনি সাড়ে সাত কোটি মানুষের ভাগ্য ফেরাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতির পিতা হিসেবে জাতির ভাগ্য অন্বেষণে এমন কোনো পথ নেই যা তিনি অবলম্বন করেননি। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি কৃষির পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে অগ্রগতি লাভ করছে। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রদর্শনে সমাজতন্ত্রের চাপ ছিল, যেখানে ব্যক্তি খাতের অবদানকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আশির দশকের মাঝ থেকে পরবর্তী সময় ব্যক্তি উদ্যোগে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতি নজর দেয়া হয়। ফলে ১৯৮৫ সালে সার্বিক বিনিয়োগের ৩৭ শতাংশের মধ্যে ব্যক্তি খাতের অবদান ছিল ৮০ শতাংশ।

তবে আমাদের আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী বলা যায়। এমনকি ২০০৮ থেকে ২০১০ সালে এর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৫০৯ শতাংশ। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সময়কালে বেড়েছে ৬০২ শতাংশ। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। এশিয়ার ১২টি দেশের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ আমাদের প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্জনের মধ্যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ বর্তমানে অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। অথচ দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন ১৬ কোটিরও বেশি। জনসংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য উৎপাদন তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ বছরে কৃষিতে সবুজ বিপ্লব হয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রফতানি হচ্ছে। ৫০ বছরে পণ্য ও সেবা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে বাংলাদেশ। আমাদের আরেকটি সাফল্য হলো অনাবাসী শ্রমিকে।

এ মুহূর্তে এক কোটি ২০ লাখ শ্রমিক বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবস্থানও আমাদের বড় অর্জন।কৃষিপ্রধান থেকে শিল্প ও সেবা খাতে অর্থনীতির রূপান্তর ঘটেছে। কৃষিতে আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিল্প খাত অর্থনীতিতে বিরাট অংশ দখল করে নিচ্ছে। পুরো শিল্প খাত জিডিপির প্রায় ৩৫ শতাংশ। ৫০ বছরে রফতানি খাতে অগ্রগতি লক্ষণীয়। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রফতানি ছিল ৫ শতাংশের নিচে। ২০১৭ সালে তা ১৫ শতাংশে দাঁড়ায়।১৯৭৫-৭৬ সালে বাংলাদেশ মাত্র ৩৮০ মিলিয়ন ডলার পণ্য রফতানি করে। এখন বছরে রফতানি হয় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন হাজার ৮৭৫ কোটি ডলারের মোট রফতানির মধ্যে পোশাক খাত থেকে এসেছে তিন হাজার ১৪৬ কোটি ডলার। বর্তমানে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে আছে চীন। দ্বিতীয় স্থানে ভিয়েতনাম। আশির দশকের গোড়ার দিকে পণ্য রফতানিতে যুক্ত হয়ে তৈরী পোশাক সার্বিক রফতানিতে ৮১ শতাংশ দখল করে আছে। বর্তমানে মোট রফতানিতে পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত খাদ্য প্রায় ৯০ শতাংশ।

স্বাধীনতার পরবর্তী রফতানি খাত ছিল দু-তিনটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্য, চা ও চামড়াজাত শিল্পই প্রধান রফতানি পণ্য ছিল। ওষুধ রফতানিতেও বাংলাদেশ ভালো করছে। বর্তমানে ১১৯টি দেশে বাংলাদেশী ওষুধ রফতানি হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর মাইলফলকে আমাদের অর্থনীতি অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করলেও এতে তুষ্টির অবকাশ নেই। এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে। আমাদের দীর্ঘ পথ চলা আশানুরূপ না হলেও সন্তোষজনক। তবে সম্ভাবনা ছিল অনেক বেশি। এগুলো আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন। ঠিক কোন কারণে আমরা আমাদের সম্পদের ব্যবহার সঠিকভাবে করতে পারিনি, দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে পারিনি? প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও এ সমস্যার সমাধান না করলে আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে তা ভেবে দেখতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। কাক্সিক্ষত মানের ও আশানুরূপভাবে এ খাতের উন্নয়ন আমরা ঘটাতে পারিনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ঢেলে সাজাতে পারিনি। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। তা ছাড়া করোনার আগে যারা দরিদ্র ছিল ও করোনার কারণে আরো দরিদ্র হয়েছে তাদের জন্য সরকারের যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও কার্যক্রম আছে তার ব্যাপ্তি, পরিধি ও বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

তবে এ ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা উচিত। গত ৫০ বছরে নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে গেছে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, অবকাঠামোর অভাব ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার পরও বাংলাদেশের জনগণের টিকে থাকার সক্ষমতা দেশটিকে সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে তার মাঝে যেসব দুর্বলতা যেমন- বেকারত্ব বৃদ্ধি, হাতেগোনা রফতানিপণ্য, পোশাক শিল্পের কাঠামোগত দুর্বলতা, কৃষিকে আধুনিকীকরণের ঘাটতি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া প্রভৃতি; এ ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রের অবনতি ও সুশাসন এবং জবাবদিহিতার মতো সমস্যাগুলো দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী ৫০ বছরের বাংলাদেশের জন্য অংশগ্রহণমূলক টেকসই অর্থনীতির ভিত তৈরির জন্য কতটুকু প্রস্তুতি গ্রহণ করব তা ঠিক করতে হবে।৫০ বছরে রফতানি খাতে উন্নয়নের জন্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন তৈরি করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট অথরিটি করা হয়।

ফিলিপাইন থাইল্যান্ড ও চীনের সফলতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এক্সপোর্ট জোন তৈরি করা হয়। ৪০ বছরে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) আটটি ইপিজেড করেছে এবং এর আওতায় দুই হাজার ২৯০ একর জমি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এসেছে। ২০১০ সালে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০৪০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে। সভ্যতার ক্রমবিকাশের জন্য বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য উপাদান। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, বর্তমানে ১৪৬টি কেন্দ্র রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংশ হলো দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো যেমন-স্বপ্নের পদ্মা সেতু, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল, পর্যটকদের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ, চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীতে ট্যানেল, রামপাল ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ইত্যাদির বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশ। এসব প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সঠিক তদারকির মাধ্যমে, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সাথে অপচয় রোধ করে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো, বাজেট বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের জন্য এখন থেকে সম্পদের সুরক্ষা, অপচয় রোধ ও সঠিক সময়ে প্রকল্প শেষ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং স্মার্ট শহর উন্নয়নের কথা বলছি। এগুলো করতে হলে আমাদের জনবলকে স্মার্ট করতে হবে।

সিস্টেমের মধ্যে সবাইকে আসতে হবে। আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। অবকাঠামো টেকসই করতে হলে গুণগত মানে তা বানাতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে দূরদর্শী। আমাদের বড় বড় স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে বিজ্ঞান ও আধুনিক পরিকল্পিত উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করতে হবে।আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে সুশিক্ষিত, সৎ ও মেধা-মননসম্পন্ন করে। হতে হবে পরমতসহিষ্ণু। কর্মমুখী ও বিজ্ঞানবিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তিমুখী আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে নতুন করে নিজেদের অর্জন ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। আয় ও সম্পদের বৈষম্য আগের চেয়ে বেড়েছে। একই সময়ে দুর্যোগকালীন সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়েও ভাবতে হবে। আমাদের এসডিজির যাত্রা শুরুর সময় ২০১৬-২০ পর্যন্ত আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চলমান ছিল।

বর্তমানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক (২০২১-২৫) পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এগোতে হবে।আমাদের সাফল্যকে আরো সংহত করতে হলে দূর করতে হবে বৈষম্য। উন্নত বাংলাদেশ গঠন করতে হলে এখন থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুষ্ঠু ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগোতে হবে। আমাদের মনে রখতে হবে, যুবসমাজ হলো আমাদের বিরাট শক্তি। এই শক্তিকে প্রযুক্তি ও দক্ষতায় উন্নত করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। পরমতসহিষ্ণু জাতি গঠন, আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের মধ্য দিয়ে কৃষি ও শিল্পের অগ্রগতি বাংলাদেশকে উন্নত ও টেকসই উন্নয়নের দিকে ধাবিত করবে। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বর্তমান বাংলাদেশ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। দ্য ইকোনমিস্টের ২০২০ এর হিসাব অনুসারে বিশ্বের ৬৬টি উদীয়মান সবল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম স্থানে রয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন ও বিকাশের জন্য দেশে ইতিমধ্যেই অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া ১০০ বছরের জন্য একটি ডেল্টা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশ দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তখন বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।বৃটেনের এক জরিপ অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালে ১১৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতির দেশ। তখন বাংলাদেশ যে দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে সেগুলো হল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা, ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নাইজেরিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন, ইরান ও তাইওয়ান। সুতরাং, আমরা দেখতে পাই যে, নানা চড়াই উৎরাই ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও বাংলাদেশ বিজয় ও স্বাধীনতার ৫০ বছরে নানা ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করেছে। আমরা প্রত্যাশা করছি উন্নয়নের বর্তমান প্রচেষ্টা ও ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৪১ সালে এই দেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি

রায়হান আহমেদ তপাদার বিশ্বব্যাপী মানব অভিবাসন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x