Home / উপ-সম্পাদকীয় / অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি

অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি

রায়হান আহমেদ তপাদার

বিশ্বব্যাপী মানব অভিবাসন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অভিপ্রায়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করে। বাংলাদেশি অভিবাসীশ্রমিকেরা দেশ থেকে শুরু করে নানান পর্যায়ে, নানান ধরনের শোষণ, বঞ্চনা, প্রতারণা, লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হন। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীদের অনেককেই জীবন বা সম্পদ বাজি রেখে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়। অভিবাসন, অভিবাসী ও তাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া অনেক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। কিন্ত অভিবাসন ও অভিবাসীদের সেবার ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার কোনো দৃশ্যমান প্রবণতা নেই।

অথচ পৃথিবীতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিবাসন সংকট। অভিবাসন প্রক্রিয়া বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০১৫ অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি সপ্তাহে ৩০ লক্ষ মানুষ শহরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বে প্রতি ৩৫ জন মানুষের মধ্যে একজন অভিবাসী। যিনি নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্যদেশে বসবাস করেন। বিশ্ব অর্থনীতির একটি বিরাট অংশ নির্ভর করে অভিবাসীদের শ্রমের উপর। এই বাস্তবতায় অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সকলেরই দায়িত্ব। বাংলাদেশে দরিদ্রসীমার নিচে যে সমস্ত পরিবার রয়েছে তাদের যদি রেমিটেন্স প্রাপক পরিবারে রূপান্তর করা যায় তাহলে সেসব পরিবার দরিদ্র থাকবে না। দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে সহজ হবে। এটা সম্ভব হবে তখনই যখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। বাংলাদেশর অর্থনীতিতে অভিবাসীদের প্রেরিত অর্থ একটি বিরাট ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচনে অভিবাসীদের ভূমিকাকে আরও গতিশীল এবং শক্তিশালী করা দরকার। পৃথিবীর একশত আটষট্টিটি দেশে বাংলাদেশের মানুষ কর্মরত আছেন। এ সমস্ত দেশে প্রায় এক কোটি ছাব্বিশ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন নিঃসন্দেহ এটি আনন্দের খবর, কিন্তু বেদনাও রয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের বাষষ্টি শতাংশ অদক্ষ, ছত্রিশ শতাংশ আধা দক্ষ এবং মাত্র দুই শতাংশ দক্ষ। বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের বড় অংশই মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। এসব দেশেও আধুনিক প্রযুক্তি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই। বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের সত্যিকারভাবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী।প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। এ জন্য অভিবাসীদের সুযোগ-সুবিধাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।অনেক ব্যক্তি বিদেশে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেন। যেকোনো সমস্যাকে তারা মেনে নিতে রাজি থাকেন। কিন্তু বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা হয়। এসব সমস্যা ও সমাধানের উপায় বের করে সমাধান করা অতিব জরুরী। অনেক শ্রমিক দেশ থেকে ধার করা অর্থে বিদেশে যান।

অনেক সময় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। চাকরি করার সময় কঠোর পরিশ্রম করেন এবং দেশেও টাকা পাঠান। বিদেশ থেকে আয় আসার ফলে গ্রামীণসমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।অভিবাসীদের যথাযথ গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হবে। এটি কাম্য নয়। এছাড়া নারী অভিবাসন একটি জাতীয় বিষয়। নারীদের বিদেশ গমনের সময় মাঠপর্যায় থেকে দেশে ফেরত আসা পর্যন্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়। অভিবাসন নিয়ে বিভিন্ন দাবির কথাও বলা হচ্ছে। যেমন, একজন নারী বিদেশ যাওয়ার সময় দালালের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন। পরিবার ও সমাজে আত্মমর্যাদা কমে যাওয়ার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। বদলাতে হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ নারী অভিবাসীদের শতভাগ রেমিট্যান্স দেশে পাঠানো হয়। এটা গোটা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন নারী প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হয়ে শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গমনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট কেনা পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় একেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

এ জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। নারীর অভিবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে নিরাপদ অভিবাসনের অপরাধগুলো দূর হবে। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীব্যাপি জাতিসংঘের কর্মসূচীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করলেও সে একই পৃথিবীর মানুষ। মানুষ হিসেবে তার অধিকার ধর্ম বর্ণ বা জাতীয়তার কারণে বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। জাতিসংঘের আহ্বান হলো অভিবাসী শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদেরও অধিকার রয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি সনদ গৃহীত হয়েছিল। এই সনদ অনুযায়ী পৃথিবীর সব মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমমর্যাদা ও অধিকারের দাবিদার। প্রবাসীদের অনেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে বৈষম্যের শিকার হয়ে, খেয়ে না খেয়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সমৃদ্ধ করছেন দেশের অর্থনীতি।

বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসী রয়েছেন। এসব দেশে তারা নানাভাবে বঞ্চনা, শোষণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো নির্যাতিত হচ্ছেন আবার অনেকেই ন্যায় বিচার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো দেশের কারাগারে বাংলাদেশীরা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছেন। দেশের টেকসই উন্নয়নে প্রবাসী আয় বাড়ানো খুবই জরুরী। টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্রতা কমাতে হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী । বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্য সরকারের তদারকি ব্যবস্থাও জোরদার করা আবশ্যক। অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ যেতে নৌকা ডুবির ঘটনায় অনেক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছিল অসংখ্য গণকবর। প্রবাসীদের অনেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে বৈষম্যের শিকার হয়ে, খেয়ে না খেয়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সমৃদ্ধ করছেন দেশের অর্থনীতি। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসী রয়েছেন। এসব দেশে তারা নানাভাবে বঞ্চনা, শোষণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো নির্যাতিত হচ্ছেন আবার অনেকেই ন্যায় বিচার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

কোনো কোনো দেশের কারাগারে বাংলাদেশীরা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছেন। সুতরাং অভিবাসীদের অধিকার নিয়েও বাংলাদেশ সোচ্চার। তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই প্রতি বছর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়। দেশের টেকসই উন্নয়নে প্রবাসী আয় বাড়ানো খুবই জরুরী। টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্রতা কমাতে হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী । বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্য সরকারের তদারকি ব্যবস্থাও জোরদার করা আবশ্যক। অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ যেতে নৌকা ডুবির ঘটনায় অনেক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছিল অসংখ্য গণকবর।বিভিন্ন দেশে আধুনিক প্রযুক্তি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই। বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের সত্যিকার ভাবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।এজন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। শতবর্ষে জাতির পিতা স্মরণে স্বাধীনতা, অভিবাসনে আনবো মর্যাদা ও নৈতিকতা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকগুলোতে বাংলাদেশের ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারন হলো প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স। কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাকালে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। এর মূলে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স। বাংলাদেশের অনেক অদক্ষ কর্মী মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করেন। এসব অদক্ষ কর্মী অনেক সময় খালি হাতে দেশে ফেরত আসেন। দেশের ফেরত আসা এ সমস্ত কর্মীদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করি। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিটেন্স এবং রেমিটেন্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রানশক্তি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিটেন্সের অবস্থান মোট জিডিপির ১২ শতাংশ এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। প্রবাসীদের কারণে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ একটি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এ কারণেই ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে পেরেছে।প্রবাসীদের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে বিনিয়োগের জন্য এবং বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে হবে।

প্রবাসীরা তখনই আকৃষ্ট হবেন যখন তারা দেশে বিনিয়োগ করার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন। স্বাভাবিক কারনেই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের কারনে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। দেশে ক্রমবর্ধমান রেমিটেন্স প্রবাহের কারনে বিশ্বমন্দাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি যা প্রমাণিত। যে রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে এতটা শক্তি যোগায় সঙ্গত কারনেই রেমিটেন্স পাঠানো প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির নেপথ্য নায়ক ও চালিকা শক্তি। সুতরাং প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সকল বাধা দূর করা জরুরী। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স শুধু ভোগেই নয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা রাখছে। এছাড়াও প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ শাখা নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। নিঃসন্দেহে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

প্রবাসী কল্যাণ শাখাকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরী।বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন খাতে আমরা অনেক এগিয়েছি। তাই অভিবাসীদের সমস্যাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একই। কিন্তু তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারছি না। অভিবাসীদের নিয়ে আমাদের সফলতাও রয়েছে। বিদেশফেরত অনেকে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।অনেকে নতুন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা শুরু করতে চান কিন্তু সহযোগিতার অভাবে আবার বিদেশে চলে যান। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণ দিতে ভয় পায়। দেশের মধ্যে এসব মানুষের কর্মসংস্থান নেই। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। কর্মসংস্থানের জন্য তারা বিদেশে পা রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। অনেক নারী ছয় মাস, এক বছরের বাচ্চাকে রেখে কাজ করার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এসব বাস্তবতা আমাদের স্বীকার করতে হবে।

অভিবাসীদের কেবল আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা না করে মানবিক বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। বিদেশে যাওয়া থেকে শুরু করে ফেরত আসা পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে। এখান থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এখানে স্বচ্ছতার জন্য প্রশাসনের বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।দালালদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৯৭ শতাংশ কাজ দালালের মাধ্যমে করা হয়। অভিবাসী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রসেসিং ইত্যাদি কাজ দালাল করে থাকেন। এ জন্য এই শ্রেণির মানুষগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা উচিত। দেশের বাইরে ৩৯ শতাংশ অভিবাসী দালালের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন। শ্রমিকদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা, বেতন ইত্যাদি ঠিকমতো দেওয়া হয় না। এসব বিষয় রাষ্ট্রকে খতিয়ে দেখতে হবে।অদক্ষ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করতে হবে। এতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সর্বোপরি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে অভিবাসীদের দুর্দশা কমবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। অভিবাসীরা ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো দেখা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

পাঁচ দশকে অর্জন ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে এগোতে হবে

রায়হান আহমেদ তপাদার স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা যদি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চিত্রটির দিকে দৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x