Home / ক্যাম্পাস / খুলেছে কুয়েটের হল, ক্লাস শুরু আগামীকাল

খুলেছে কুয়েটের হল, ক্লাস শুরু আগামীকাল

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  :   টানা ৩৫ দিন বন্ধ থাকার পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) হলসমূহ শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী রোববার (৯ জানুয়ারি) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার মুখপাত্র মো. রবিউল ইসলাম শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হলগুলোতে উঠেছেন।

কুয়েট সূত্র জানায়,  ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৭৯তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দেশনা দৃঢ়ভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে,  বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্র শৃঙ্খলাবিধির ১২, ১৩, ১৪, ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারাসমূহ এবং আবাসিক হলের নিয়মাবলী। ছাত্র শৃঙ্খলাবিধির ১২ ধারা মোতাবেক পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ)-এর পূর্বানুমোদন ছাড়া শিক্ষার্থীদের যে কোনো প্রকার মিছিল, সভা-সমাবেশসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহ বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারসহ একাডেমিক এরিয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বহির্ভূত যে কোনো প্রকার ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কুয়েটের আবাসিক হলের নিয়মাবলীর ৩ (প) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ব্যাচ বা তার পূর্ববর্তী ব্যাচসমূহের আবাসিক হলে বসবাসরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে  সবকটি আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে।

কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃতুতে গত বছরের ২ ডিসেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন বিকেল ৪টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে ৭টি হলে থাকা শিক্ষার্থীরা হল ছাড়েন। পরে কুয়েট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আরো একবার বাড়ায় কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিকেলে কুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন মারা যান। অভিযোগ ওঠে এই মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ তার অনুগত ছাত্ররা দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালনশাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে ড. সেলিমকে চাপ দিচ্ছিলেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিমকে জেরা করে। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা শিক্ষকের রুমে ছিলেন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ড. সেলিম দুপুরের খাবার খেতে ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাসায় যান। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে ২ ডিসেম্বর কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান, হাসান আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ্জাক ও রিয়াজ খান নিলয়কে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটি। এ ছাড়া আরও ৪০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা প্রায় সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

Check Also

ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  :  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৮টি আবাসিক হলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। হলগুলোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x