Home / অর্থনীতি / সম্প্রসারণ হচ্ছে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর

সম্প্রসারণ হচ্ছে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর

অর্থনীতি ডেস্ক  :  মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয় বাড়বে। বর্তমান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫০টি শিল্প প্লট নির্মাণের কথা ছিল। সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন প্লটের সংখ্যা হবে ৫৩৯টি।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৫০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।  এখন প্রকল্পের ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। প্রথমে ২০২১ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু প্রকল্পের আকার বেড়ে যাওয়ায় এ সময় সীমা ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী পরিষদের (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হবে। সরকার আগামী ১৫ বছরে এই ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, শিল্প প্লটের সংখ্যা বাড়ানোর অর্থ হলো- অতিরিক্ত পরিমাণ জমি তৈরি করা এবং আরও ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা।  দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা বাড়াবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর হবে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।

সূত্র জানায়, সংশোধিত প্রস্তাবে ১ কোটি ১৫৬ কোটি ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৩ লাখ ৬৪ হাজার বর্গমিটার সড়ক ও ৩৬ হাজার ৬৫ বর্গমিটার ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। মোট ৬১,২৮৩ মিটার ড্রেন, ৯,০৩৮ মিটার কাঁটাতারের বেড়া এবং ৪,৪৬৫ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবাসিক ভবন, ক্লাব, প্রশাসনিক ভবন, কাস্টমস ভবন ও সার্ভিস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সে একটি মসজিদ, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিরসরাই থেকে ১০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে মিরসরাই, সীতাকুণ্ডু ও ফেনীর সোনাগাজীতে প্রায় ৩০ হাজার একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর।  বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বারে হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অর্থনীতির এক মহাজংশন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর হবে একটি অত্যাধুনিক শিল্পনগরী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক ও শিল্পজোন।

এই শিল্পনগরে এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সরাসরি শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বেসরকারি উদ্যোগ এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে অব্যাহতভাবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর অন্যতম। এটি নির্মিত হচ্ছে সাগরপাড়ে ইছাখালী, চরশরৎ, চর মোশাররফ ও সাধুর চর এলাকায়।

দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। প্রথমে মিরসরাই ইকোনমিক জোন হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলেও এর সঙ্গে সীতাকুণ্ডু ও ফেনীর সোনাগাজী অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে এখন শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার কর্মযজ্ঞ। তিনটি জোনকে একসঙ্গে নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরপাড়ে গড়ে ওঠা সমুদ্রবন্দর, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধাসহ বৃহৎ এ শিল্পাঞ্চল। মহাসড়ক, নদী, সমুদ্র ও রেলপথে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সঙ্গে সংযোগের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে।

তৈরি সম্পন্ন হলে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেট থাকলেও অর্থনৈতিক অঞ্চল ৩০ হাজার একরে সম্প্রসারিত হলে সেখানে কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। ফলে দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও এ জোনে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ পাবে।

Check Also

প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ছাড়াল ৩শ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক : সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মাধ্যমে সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x