Home / উপ-সম্পাদকীয় / মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি হচ্ছে মানবাধিকার

মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি হচ্ছে মানবাধিকার

রায়হান আহমেদ তপাদার

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলতে বোঝায়, সব ব্যক্তি কোনো আর্থিক ভোগান্তি ছাড়াই মানস¤পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাবে। তাই সবার জন্য শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ মহামারী করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমনই একটি বিষয় যেটা নিশ্চিতকরণের কারণে আমরা কাক্সিক্ষত বিশ্ব লাভ করতে পারব। এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে হলে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। জাতিসঙ্ঘে যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গৃহীত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা। প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে সবার জন্য সমান ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস পালন করা হয়।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ১২ ডিসেম্বরকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।বিশ্বের শীর্ষ স্বাস্থ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংগঠনগুলো মনে করে দেয়া, মানুষকে সুরক্ষা, মারাÍক দারিদ্র্যের অবসান ঘটানো, জলবায়ুসংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করা এবং মারাÍক মহামারীর অবসান প্রভৃতি বিষয়ের সাথে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা স¤পর্কিত, কারণ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে ওই সব বিষয় অর্জন করা সম্ভব। ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। সব চেয়ে সত্যি কথা,স্বাস্থ্য অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে সবার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হয়। সবার জন্য স্বাস্থ্য এ বিষয়টি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চারিত হয়ে আসছে। কিন্তু সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, অবকাঠামো, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন সেটি লক্ষ্য করা যায় না। করোনাভাইরাস আসায় এই দুর্বলতাগুলো আবার যেন সবার সামনে ¯পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এটা সু¯পষ্ট যে, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ হতদরিদ্র, দরিদ্র ও দারিদ্র্যের হুমকিগ্রস্থ মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা অনুপস্থিত। অন্যদিকে মানুষের রোগ বিশেষভাবে অসংক্রামক রোগ দিন দিন নানা কারণে বেড়ে চলেছে। এছাড়া এখন আমরা নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। অনেক পুরোনো রোগও আবার নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসছে। ফলে ক্রমবর্ধমান রোগের জন্য জনসাধারণকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূর করে সার্বিকভাবে করোনাভাইরাস অতিমারি পরিস্থিতি মোকাবেলা করাটা সত্যিই রাষ্ট্রের ও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ব্যয় জনগণের আয় ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুসারে জুন, ২০১৯ মাসের শেষে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ আর অতি দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ বিবিএসের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ জনগোষ্ঠী আছে।

সবমিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সোয়া তিন কোটি মানুষ।এছাড়া বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, বিষাক্ত খাদ্যগ্রহণ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাত্রার পরিবর্তনের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটছে। বিশেষ করে বাড়ছে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং কিডনি সমস্যাসহ অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধি। চিকিৎসা হয়ে উঠছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ঔষধ, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠমো তৈরিতে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করা হচ্ছে। তারপরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি রোগী সুস্থ হলেও রোগী ও তার পরিবারবর্গ, সমাজ ও রাষ্ট্র নানাভাবে যারপরনাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা এমন অনেক ঘটনাই লক্ষ্য করেছি। যেমন: একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন করোনা রোগীকে ৩০ মিনিট অক্সিজেন দেওয়ার পর ওই রোগীর স্বজনদের হাতে ৮৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের সর্বশেষ ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জিডিপির তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম খরচ করা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। আবার জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের (এসকাপ) ২০১৮ সালের জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি অনুপাতে বরাদ্দ পাওয়া এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৫২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংক ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য খাতের আর্থিক সুরক্ষার বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বে সবচেয়ে কম খরচ হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। দেশের চার শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে যায় স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত খরচের জন্য। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কত খারাপ। অসুস্থতার কারণে স¤পদ বিক্রি এবং দরিদ্রতার নিুস্তরে নেমে আসা এদেশে খুব ব্যতিক্রম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, কোনো দেশে কোনো নাগরিকের স্বাস্থ্য ব্যয় তার সামগ্রিক ব্যয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেই দেশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল বলে বিবেচিত হয়। অথচ বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বছর বছর বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংবিধানে উল্লেখ আছে, সর্বোচ্চ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি হচ্ছে মানবাধিকার। তাই বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের জাতীয় সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবার অধিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ ধারার ক অনুচ্ছেদে এবং ১৮ ধারার এক অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। আসলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অর্থ হলো উন্নত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন অর্জন করা, কেউ যাতে অসুস্থতাজনিত কারণে দারিদ্র্যের কবলে না পড়ে সেটি প্রতিরোধ এবং মানুষকে স্বাস্থ্যবান ও অধিকতর উৎপাদনশীল জীবনযাপনে সহায়তা করা। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিনিয়োগ করা হলে ব্যাপক সুবিধা অর্জিত হয়। সহজে প্রাপ্তিসাধ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিবার ও জাতি দারিদ্র্যের কবলে পড়ে।সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য হলো জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে উন্নত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। উক্ত লক্ষ্যমাত্রা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আর্থিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা, মানসম্মত, কার্যকর ও সহজে পাওয়া যায় এমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। যেসব দেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে, তারা এর উপকারিতা লক্ষ করেছে।

তারা অধিকতর স্বাস্থ্যবান সম্প্রদায় ও অধিকতর শক্তিশালী অর্থনীতি অর্জন করেছে। স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও আমরা এখনো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারিনি। দেশের প্রায় দু-তৃতীয়াংশ মানুষ সুরক্ষার বাইরে রয়েছে এখনো।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মিটাতে গিয়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে চার কোটি ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে এবং প্রতি বছর অসুস্থতার কারণে ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণায় ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে; অথচ আমাদের দেশে চিকিৎসা পেতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় এর ৬৭ শতাংশই রোগীকে বহন করতে হচ্ছে। দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নেয় বেসরকারি খাত থেকে। এখানে চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি এবং এই খাতে সরকারের প্রায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আরো দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সেবার মান বাড়ার পরও দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৯৩ শতাংশ রোগী কোনো ওষুধ পায় না।যদিও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সে জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে আছে একশ্রেণীর চিকিৎসকের দলাদলি।

নিজ নিজ সংসদীয় আসনের এমপিদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটি আছে। কিছু কমিটি দায়িত্ব পালন করলেও অন্যরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে না। ঐতিহ্যগত এই চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের একটি সুবিধা হলো এই যে, ব্যয়বহুল বিদেশী ওষুধ আমদানির ওপর আমরা নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলতে পারি, তার পরিবর্তে আমরা স্থানীয় স¤পদ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরাই কম খরচের ওষুধ তৈরি করতে পারি। এ পদ্ধতির
মাধ্যমে যে, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব তা এখন পরীক্ষিত সত্য।দেশের অনেকেই বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশে যান চিকিৎসার জন্য। দেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা এটি প্রতিরোধ করতে পারি।আমাদের দেশের বেশির ভাগ জনগণ গরিব। তাই তাদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা চালানো দুরূহ ব্যাপার। অথচ হাজার বছরের ঐতিহ্যগত চিকিৎসাপদ্ধতিতে অল্প খরচেই একজন মানুষ চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে দেশের প্রথিতযশা জনস্বাস্থ্যবিদদের অংশগ্রহণ, সংযুক্তকরণ, মতামত-পরামর্শ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি, স্বাস্থ্য সেক্টরে দুর্নীতি প্রতিরোধ, যথাস্থানে যথাব্যক্তির পদায়নসহ নিয়মিত মনিটরিং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগীর সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বীমা চালু থাকলেও বাংলাদেশে এখনও এ সেবা সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গত এক বছর ধরে বিষয়টি কোন আলোচনায় আসেনি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য সেক্টরে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা প্রশ্ন থাকলেও স্বাস্থ্য সেক্টরে অর্থ বরাদ্দের তেমন কমতি নেই। কর্মসূচী গ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে দৃশ্যমান। কিন্তু কর্মসূচী ও পরিকল্পনা সমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আনাটাই সম্ভব হচ্ছে না। কর্মসূচী গ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও ২০১৯ সালে দেশের সরকারী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার মান প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) অর্জনে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক পর্যায়ে সবার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়টি গুরুত্ব পায় ১৯৭৮ সালে সে সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ও বর্তমানে কাজাখস্তানের রাজধানী আলমা আতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে। এরপর দীর্ঘ সময় চলে গেছে।

দেখা গেল, সবার জন্য স্বাস্থ্যের কথা বলা হলেও ব্যবস্থার বদল খুব হয়নি। স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে হয়তো হাসপাতাল করা হয়েছে, কিন্তু সেই হাসপাতাল থেকে জনগণ আদৌ সেবা পেল কি না, বা সেই সেবার মান কেমন-এসব বিষয় নিয়ে পরে আলোচনা শুরু হয়। এসব বিবেচনায় নিয়েই ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আবার একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় বেসরকারি খাতও রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, খরচের বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে জনগণ আর্থিকভাবে ফতুর হয়ে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে, তা হচ্ছে কার্যকর ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং বিনা মূল্যে না হলেও ব্যয়সাধ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

নৈতিক অবক্ষয় থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে

রায়হান আহমেদ তপাদার বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির কারণে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথেষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x