Home / ফিচার / ফ্রিজ ছাড়াই ফল-শাকসবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায় উদ্ভাবন

ফ্রিজ ছাড়াই ফল-শাকসবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায় উদ্ভাবন

ফলমূল ও শাকসবজি দ্রুত পচনশীল পণ্য। এদের দেহে শতকরা প্রায় ৭০-৮০ ভাগ পানি থাকে, তাই পোকামাকাড়, রোগবালাই বা পরিবেশগত কারণে এগুলো দ্রুত পচে যায় এবং গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।

পচন থেকে রক্ষা করার জন্য ফল ও শাকসবজি সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর দেশে শতকরা ১৫-২৫ ভাগ ফল ও সবজি নষ্ট হয়। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফল এবং শাকসবজি প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করা গেলে একদিকে যেমন ফল ও শাকসবজির পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে তেমনি তা থেকে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা যায়।

সম্প্রতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সঞ্জীবকুমার পাল ফলমূল-শাকসবজি বেশি দিন সংরক্ষণের উপায় উদ্ভাবন করেছেন। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে স্বাভাবিক সময়ের চার গুণ বেশি দিন ফলমূল-শাকসবজি ভাল রাখা যায়। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পর তার গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন ভারত সরকারের পেটেন্ট কর্তৃপক্ষও।

ভারতের হায়দরাবাদের ‘কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’-এ কর্মরত বিজ্ঞানী সঞ্জীবকুমার জানান, কাইটোসেন জাতীয় শর্করা, তামা ও মেন্থল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করা যেতে পারে। অতি পচনশীল ফল-আনাজের উপরে তার আবরণ দিলে, চার গুণ বেশি সময় তা ভাল রাখা যায়।

গবেষণায় সঞ্জীব দেখিয়েছেন, এক সপ্তাহও রাখা যায় না, এমন টমেটোর উপরে কাইটোসেন, তামার ন্যানো-পার্টিক্‌ল এবং মেন্থলের মিশ্রণ লাগিয়ে চার সপ্তাহ ভাল রাখা গিয়েছে। তিনি বলেন, মিশ্রণ তৈরিতেও কোনও দুর্লভ সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে না। মেন্থল, তামার ন্যানো পার্টিকল সহজেই মেলে। আর কাইটোসেন রয়েছে ছত্রাক, মাশরুম, সামুদ্রিক কাঁকড়া বা চিংড়ির খোলে।

বিশেষ করে বড় শিল্পপতিরাও এখন কৃষিজ সামগ্রীর ব্যবসা করছেন। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো একরের পর একর এলাকার ফসল কিনে হিমঘরে রাখছে। দাম অপরিবর্তিত রাখতে পরিমাণ মতো সামগ্রী বাজারে পাঠাচ্ছে। কিন্তু অতি পচনশীল ফলমূল-শাকসবজি এড়িয়ে যাচ্ছেন তারাও। এই ধরনের ফলমূল-শাকসবজি বেশি দিন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগেও কম গবেষণা হয়নি।

সঞ্জীব বলেন, আপেলের গায়ে মোমের প্রলেপের মতো কিছু ব্যবস্থা করাই যেতে পারে। কিন্তু তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আবার অন্যান্য শর্করার আবরণে প্রত্যাশিত ফল মেলে না। সাত দিনে পচে যাওয়ার জায়গায় বড় জোর ১০-১২ দিন টিকতে পারে। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে ধুবড়ির যুবক সঞ্জীবকুমারকে।

তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়েই এ নিয়ে চর্চা শুরু হয় তার। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য নাম লিখিয়ে একেই গবেষণার বিষয় করেন তিনি।

Check Also

হাফেজ আবশ্যক

আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ঢাকার নিয়ন্ত্রণাধীন, গাউসিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া একাডেমির জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x