Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / ভূতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতার জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য

ভূতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতার জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য

রায়হান আহমেদ তপাদার

ইরান-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা থাকলেও আঞ্চলিক কৌশলের ব্যাপারে অবিশ্বাস বিশেষভাবে তীব্র। একে অন্যকে আধিপত্য খুঁজছে বলে মনে করে তারা। ইরান সিরিয়ার শাসনের পতনের প্রচেষ্টায় বিরোধীদের প্রতি তুরস্কের সক্রিয় সমর্থন প্রত্যাখ্যান করে এবং মনে করে, এটি লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে ইরানের কৌশলগত সম্পর্ককে বিপন্ন করবে। সমাধান খুঁজে পেতে প্রতিটি ব্যর্থতার সাথে তুরস্ক ও ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপট আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সিরিয়ায় তাদের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো, তারা কেউই একটি বিভক্ত দেশ বা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য অনুকূল হবে মনে করে না।

ইরান যেকোনো ব্যবস্থাতেই সিরিয়ার ভূকৌশলগত দিককে প্রতিরোধের অক্ষ এর অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করতে চায়। সাধারণত লেভান্টে ক্ষমতা প্রদর্শন করা এবং ইসরাইলের সাথে কৌশলগত গভীরতা বজায় রাখাও তার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর সাথে সংযোগের মাধ্যমে এটি বজায় রাখতে চায় তেহরান। তুরস্ক বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে চাইলেও দামেস্কে সুন্নি-নেতৃত্বাধীন একটি শাসন তার জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। তবে তুরস্কের মূল অগ্রাধিকার হলো, একটি স্থিতিশীল সীমানা এবং পিকেকের নেতৃত্বাধীন কুর্দিদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার আকাক্সক্ষা দমন করা, যা তারা তুরস্কের অখ-তার স্বার্থে অর্জন করতে চায়। ইরান ও তুরস্ক উভয়েই ইরাকের আঞ্চলিক অখ-তা রক্ষা করতে চায়। কিন্তু শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসন নিশ্চিত করা ইরানের জন্য অগ্রাধিকারের বিষয়।

সমৃদ্ধ ইতিহাসের উত্তরাধিকার মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ অনারব তুরস্ক ও ইরান এখন বৈশ্বিক আলোচনার দুই প্রধান কেন্দ্র। ইরান হলো শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ থিওলজিক্যাল গণতান্ত্রিক ইসলামী রাষ্ট্র। অন্য দিকে তুরস্ক সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনতান্ত্রিকভাবে উদার সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ইতিহাসখ্যাত পারস্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার এবং উসমানীয় খেলাফতখ্যাত তুর্কি সাম্রাজ্যের আধুনিক উত্তরাধিকার। রাজতন্ত্রের অধীনে দীর্ঘকাল থেকে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে একধরনের গণতন্ত্র ও ইসলামী থিওলজির মিশেল শাসনব্যবস্থায় এখন পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর খেলাফতের অবসান ঘোষণা করে এবং মোস্তফা কামাল পাশার উগ্র সেক্যুলার শাসনে বিংশ শতকের পৌনে এক শতাব্দী শাসিত হয়েছে।

২০০২ সালে রজব তৈয়ব এরদোগানের নেতৃত্বে জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) ক্ষমতায় আসার পর নতুন এক শাসনধারার সূচনা হয় তুরস্কে। ২০২১ সালে এ কলাম লেখার সময় পর্যন্ত তুরস্কে শাসনতান্ত্রিকভাবে সেক্যুলার শাসন বজায় থাকলেও খেলাফত আমলের প্যান ইসলামিজম ধারা প্রবলভাবে এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।ইরান ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে জটিল টানাপড়েন এবং সহযোগিতা দু’টিই দেখা যায়। দু’টি দেশই পরস্পরের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং জাতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হয়। বৃহত্তর ইরানি নৃগোষ্ঠী কুর্দিরা তুরস্কের আর তুর্কি বংশোদ্ভূত গোষ্ঠী আজারবাইজানিরা ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী। দু’টি দেশই একসময়ের উল্লেখযোগ্য সভ্যতা ও সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার আর এখন উভয়ই বিভিন্ন ছায়াগোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য লড়াই করছে।ইতিহাস গন্তব্য ও কৌশল। তুরস্ক ও ইরান এমন দুই প্রতিবেশী দেশ যাদের মধ্যে নির্ভরতা সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতা তিনটি বিষয় সমান্তরালভাবে দৃশ্যমান।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নির্ভরতা দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিককাল থেকে চলে এসেছে। এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়েব এরদোগান ও তার দল একে পার্টির তুরস্ক নিয়ে একধরনের কৌশলগত পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয় গত দুই দশকে। সাধারণভাবে তুর্কি খেলাফতের কাঠামো তিনি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন বলে যে সমালোচনা এরদোগানের ব্যাপারে করা হয় সেটি বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। তবে তিনি মধ্যপন্থী মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি মুসলিম শক্তি বলয় তৈরি করতে চান। এই বলয়ে সৌদি আরব, মিসর, কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তানসহ মধ্যএশীয় প্রজাতন্ত্রগুলো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া রয়েছে। এই ফোরামের আনুষ্ঠানিক রূপদানে প্রথম কুয়ালালামপুর সম্মেলনে ইরান অংশগ্রহণ করেছিল আর এই সম্মেলন ব্যর্থ করার লক্ষ্যে সৌদি আরব-আমিরাত সর্বাত্মক বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ খুব বেশি দূর সামনে অগ্রসর হয়নি। তবে এ ধরনের একটি বলয় তৈরির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে ভেতর থেকে নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ অগ্রসর হচ্ছে। এ ব্যাপারে এরদোগানের নিজস্ব যে কৌশল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে তাতে কয়েকটি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়।

প্রথমত, তুরস্কের প্রতিপক্ষ শক্তিচক্রের সাথে বৈরিতা কমিয়ে আনা। এটি সৌদি আরব, মিসর, আমিরাতের সাথে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক নির্মাণ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাথে ন্যাটো জোটের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর প্রতিপক্ষের মধ্যে রাশিয়া ও চীনের সাথে ভিন্নমতের বিষয়গুলোকে একপ্রান্তে সরিয়ে সম্পর্ক তৈরি করা হয়। রাশিয়ার সাথে ইউক্রেন-ক্রিমিয়া সিরিয়া লিবিয়া ফ্রন্টে বিরোধ রয়েছে আঙ্কারার। তবে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সমঝোতা রয়েছে দুই দেশের। রাশিয়ার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তুরস্ক আজারবাইজান ও সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধান করতে চাইছে। চীনের সাথেও জোরালো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরি করেছে তুরস্ক। এমনকি সিরিয়া ছাড়াও মধ্য এশিয়ায়, বিশেষ করে মুসলিম প্রজাতন্ত্রগুলোতে প্রভাব বিস্তারের জন্য তুরস্ক ইরান যখন প্রতিযোগিতা করে তখনো তাদের বৈরিতা প্রকাশ পায়। লিবিয়ার দ্বিতীয় দফা সঙ্ঘাতে ইরানের বহুমুখী ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় তুর্কিবিরোধী যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতারকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ করে ইসরাইল। ইরান পরে অবশ্য প্রকাশ্যে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে তুর্কি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। যদিও জাতিসঙ্ঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান হাফতারের বাহিনীকে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল। ২০২০ সালে নাগরনো-কারাবাখ সংঘর্ষের সময় আর্মেনিয়ায় রুশ অস্ত্রশস্ত্র হস্তান্তরের সাথে ইরানি ট্রাক জড়িত থাকার খবর বের হয়। ইরান অবশ্য জোরালোভাবে এটি অস্বীকার করে এবং আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। পরে ইরান আজারবাইজানের আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি তার সমর্থন নিশ্চিত করে। তবে ইরানে এই সঙ্ঘাতে তুরস্কের ভূমিকার সমালোচনাও করে আর আগুনে ঘি ঢালার পরিবর্তে শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য আঙ্কারার প্রতি আহ্বান জানায়।

ইরান তার সীমান্তের কাছাকাছি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি সম্পর্কেও সতর্ক করে এবং সিরিয়ার জিহাদিদের নাগরনো-কারাবাখ ব্যবহার করার জন্য অভিযোগ করে তুরস্ক এবং আজারবাইজানের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ দ্বারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বিরুদ্ধে তুর্কি আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সমর্থিত প্রক্সি গ্রুপ আশাব আল-কাহফ ইরাকের একটি তুর্কি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। উপরন্তু, ইরানের আরেক প্রক্সি হরকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা ইরাকে তার কার্যক্রম শেষ না করলে তুরস্ক আক্রমণ করবে বলে হুমকি দেয়। পিকেকের বিরুদ্ধে পরবর্তী অভিযানের ব্যাপারে ইরান থেকে তুরস্কের প্রতি এই হামলাকে একটি সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

তাছাড়া তুর্কি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম দাবি করে যে হামলাটি এই গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থনকে প্রতিফলিত করে।সঙ্ঘাত পরিহারের বিকল্প পথ দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে আঙ্কারা ও তেহরান পারস্পরিক প্রতিযোগিতা কমাতে আবার সক্রিয় হতে পারে। সাময়িকভাবে অনেক ডিনামিকস দুই দেশের জন্য স্বল্পমেয়াদি লাভ নিয়ে আসে, তবে সেগুলো পরে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেও পড়ে। এখন যে প্রক্সি দ্বন্দ্ব চলছে, তা সঙ্ঘাতকে আরো বৃদ্ধি করতে পারে, এমনকি যদি অসাবধানতাবশত, উত্তর সিরিয়া বা ইরাকে সামরিক সংঘর্ষ হয় তা হলে পরিবেশের আরো অবনতি ঘটবে। এটি ছাড়াও ক্রস-আঞ্চলিক জোটগুলো আরো বেশি আক্রমণাত্মক অভিনেতাদের সাথে জড়িত হলে অবিশ্বাস ও জাতিগত কোন্দল আরো গভীর হবে আর বিরোধকে দীর্ঘায়িত করবে। আঙ্কারা ও তেহরানের কর্মকর্তারা পারস্পরিক সহযোগিতা পুনঃসক্রিয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন; কিন্তু তাদের মধ্যে এ সংশয় কাজ করে যে, অন্যপক্ষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাবে কি না। ইরানি কর্মকর্তারা তুরস্কের মতভেদ নিরসনে নমনীয় কতটা হবে, সে বিষয়টিকে অনিশ্চিত বলে মনে করেন।

তুর্কিরা বলছেন, ইরানিরা তুরস্কের বৈধ স্বার্থকে স্বীকৃতি দেয় না এবং আসাদ-পরবর্তী উত্তরণ বা ইরাক ও সিরিয়ায় ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা ভাগাভাগির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো নমনীয়তা প্রদর্শন করে না। এর পরও উভয়েই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অতীতে প্রদর্শন করেছে। উত্তর সিরিয়ায়, ক্রমবর্ধমান পিওয়াইডি-ওয়াইপিজি শক্তি, তুরস্কের অভ্যন্তরে হামলা চালানো জিহাদিদের অনুপ্রবেশ এবং ৩০ লাখ সিরিয়ান শরণার্থীর উপস্থিতি তুরস্কের জন্য গত এক দশকে জাতীয় নিরাপত্তায় সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।তাদের একসাথে কাজ করতে না পারা আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা কমাবে। তবে দেখা যাবে ইরানের জন্য রাশিয়া, তুরস্কের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে তাদের স্বার্থকে বিবেচনায় নেয়ার পরিবর্তে তাদের আকাক্সক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী হিসেবে তুরস্ক ও ইরানকে তাদের চার পাশে এখন যে দ্বন্দ্ব জ্বলছে, তার পরিণতি নিয়েই বাঁচতে হবে। যেকোনো টেকসই সমাধানের জন্য উভয়ের জন্য সহনীয় একটি আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য প্রয়োজন হবে। এটি তখনই সম্ভব যখন তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করবে, তাদের প্রক্সিদের লাগাম টেনে ধরবে আর সিরিয়া ও ইরাকে একে অপরের মূল কৌশলগত ও নিরাপত্তা স্বার্থকে স্বীকৃতি দেবে।

তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে আজকের ভূতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা একটি পুরনো শক্তি খেলার সর্বশেষ পুনরাবৃত্তি, কিন্তু তা ক্রমবর্ধমানভাবে অশুভ মোড় নেয়ায় ইরাক ও সিরিয়ায় একে অপরের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে। এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ যে, দুই দেশ কিভাবে তাদের ক্ষমতা মোতায়েন করতে পছন্দ করে, কার সাথে তারা একত্রিত হয় এবং তারা তাদের মতপার্থক্যগুলো পরিচালনা বা অতিক্রম কিভাবে করছে। তা কেবল তাদের জন্যই নয়, তাদের প্রতিবেশী এবং মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের অবস্থা যদি আরো খারাপ হয়, ভবিষ্যৎ আরো অনির্দেশ্য হয়ে ওঠে, তা হলে কোনো অভিনেতাই সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে না।

তাই আজকের প্রলোভনসঙ্কুল সুযোগ আগামীকালের স্মৃতিময় ফাঁদে পরিণত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের যোগ্যতা, পরিপক্বতা ও দীর্ঘ ইতিহাস আছে এমন ব্যক্তিদের আগ্রহী হওয়া উচিত; যাতে তারা নিজেদের আরো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে না নিয়ে যেতে পারে। তবে একটি সমালোচনামূলক পথ সংশোধনে সম্মত হতে পারে, যা সব দ্বন্দ্বের নি®পত্তি না হলেও অন্তত সামগ্রিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।এটি করার জন্য একটি অগ্রাধিকার হিসেবে তাদের উচিত তাদের আঞ্চলিক ভঙ্গির ওপর ক্রমাগত উচ্চস্তরের আলোচনার জন্য একটি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

নৈতিক অবক্ষয় থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে

রায়হান আহমেদ তপাদার বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির কারণে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথেষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x