Home / সারা বাংলা / ডিমলায় তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত

ডিমলায় তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত

আমির হামজা সোহেল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি  :   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হওয়ায় প্রতি বছরে বন্যার পানি বৃদ্ধিতে ও নদীভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়৷
উজানের পাহাড়ী ঢল, সমতলে একটানা বৃষ্টি এবং ভারতের গজলডোবা ব্রীজ হতে প্রচুর পানি ছেড়ে আসার কারণে ভয়ংকর রূপে ফুঁসে উঠে তিস্তা৷ বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভারত কর্তৃপক্ষ তিস্তা নদীতে লাল সংকেত জারী করে দেয়। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয় বলে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম৷
তিস্তাপাড়ের বসবাসকৃত পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারাও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সঙ্গে নিয়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মানুষজন। তিস্তা নদী এলাকার বসবাসরত মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবু জানান, প্রতি বছরে তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে লোকজন কে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উপজেলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর , চরখড়িবাড়ি,পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গবাদী পশু সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপদের সম্মুখীন হয়।   কার্তিকের শুষ্ক মৌসুমে ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে আকাশের ভারী বৃষ্টিতে  পানি হুহু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।  ফলে দেখা দিয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা।এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে হাজার হাজার একর ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ব্যাপক হারে বাঁধ ভেঙ্গে রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয় হয়েছে। বুধবার ২০ অক্টোবর ভোর থেকে তিস্তার পানি  বৃদ্ধিতে তিস্তারচর অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার গুলো উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।কার্তিক মাসের শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ এমন বন্যা দেখেনি তিস্তাপারের চরবাসী।গতরাত থেকে বুঝে উঠার আগে ঘরবাড়িতে হু হু করে পানি প্রবেশ করলে আতঙ্ক বিরাজ করে।বুধবার সকাল ৯ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার। যা বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপরে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষায় ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তিস্তা শুকিয়ে জেগে উঠেছিল চর। হঠাৎ তিস্তার পানিতে সব ডুবে গিয়ে তিস্তা ফিরে পেয়েছে নতুন যৌবন।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারাজ পয়েন্টে  ৫২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। বুধবার সকাল ৯ টায় পয়েন্টে  ৫৩ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার  বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে  প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে  দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদৌলা প্রিন্স তিস্তা নদী ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে এই পরিস্থিতিতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে তারপরও পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে তিস্তা এলাকার মানুষদের লাল সংকেত দিয়ে নদী পশু পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ে  মাইকিং করা হচ্ছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী বন্যা এলাকা পরিদর্শন শেষে দূরগত মানুষ দের জন্য ৩০ মেঃ টন চাউল ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য সহায়তায় ব্যবস্থা করছেন।

Check Also

নেত্রকোণায় টিটিসি’র উদ্যোগে প্রবাসী কর্মীদের জীবন বীমা বিষয়ক সচেতনতা সভা

গোলাম কিবরিয়া সোহেল, নেত্রকোণা প্রতিনিধি :   নেত্রকোণা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর উদ্যোগে ২৫ মে সকাল ১১টায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x