Tuesday , October 26 2021
Home / উপ-সম্পাদকীয় / অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে হবে

অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে হবে

রায়হান আহমেদ তপাদার

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করণে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অতিমারি, অর্থনৈতিক মন্দা ও হাজারো হতাশার মাঝেও ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে পরবর্তী ১০ মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে,যা আমাদের মতো মধ্যম আয়ের দেশের জন্য অত্যন্ত উৎসাহ দায়ক ও আশাব্যঞ্জক। মজার ব্যাপার হলো গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশের রেমিটেন্স পাঠানোর হার উর্ধ্বমুখী। আমাদের দেশে রেমিটেন্সের পরিমাণ তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানী আয়কে ছাড়িয়ে গেছে, আরও মজার বিষয় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের চেয়েও রেমিটেন্সের পরিমাণ বেশি। এই অতিমারির মধ্যে ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এর পরিমান ছিল এক হাজার নয়শত সত্তর মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এপ্রিল মাসে যা বেড়ে হয়েছিল দুই হাজার সাতষট্টি মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মে মাসে তা আরও বেড়ে হয়েছে দুই হাজার একশত একাত্তর মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশের জন্য রেমিট্যান্সের গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।

রেমিট্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তাদের উন্নতির পেছনে অন্যতম কারণ বিদেশি বিনিয়োগ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ একে অন্যের পরিপূরক। বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছে চীন ও ভারত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অবশ্যই এটা আশাব্যঞ্জক একটা দিক। ক্রমাগত উন্নয়নের পথে চলমান বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে, প্রবাসীরা যেন হুন্ডি ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে না পড়েন, সেই কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রবাসীদের প্রেরিত পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। বৈধপথে অর্থ প্রেরণের জন্য প্রবাসীদের সকল প্রকার ভোগান্তি দূর করতে হবে। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের জন্য আরও সহজ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের প্রবাসী কর্মীরা অনেকেই লেখাপড়া জানে না। যদি অর্থ প্রেরণের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ না হয়, তবে অনেকেই ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আইএলওর মতে, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান তার ৪০ শতাংশ আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ আসে সরাসরি প্রবাসী বা তাদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নগদ আকারে।

আর বাকি ৩০ শতাংশ আসে হুন্ডির মাধ্যমে। এখন প্রয়োজন ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ। রেমিট্যান্স সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সকল অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণের সার্ভিস চার্জ অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। কারণ, বহিঃবিশ্বে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয় অনেক কমে গেছে। সার্ভিস চার্জ এড়ানোর জন্যও অনেকে এখন হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করছে। আর হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করলে, রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়বে না।আমাদের আসলে মনে রাখতে হবে, প্রায় এক কোটি অভিবাসী কর্মীদের পরিবার যাদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ৩-৪ কোটি মানুষ নির্ভরশীল প্রান্তিক পর্যায়েই বসবাস করে থাকে।

গ্রামীণ পর্যায়ের অর্থনৈতিক উন্নতিতে বা বাণিজ্য সম্প্রসারণে তাদের রয়েছে বিপুল সক্ষমতা ও সম্ভাবনা। তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের টাকার সঠিক ব্যবহার একদিকে যেমন পারে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা আনতে, তেমনি পারে উচ্চশিক্ষিত মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান তৈরি করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে। কিন্ত গ্রামীণপর্যায়ে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মকা- ও খুবই অপ্রতুল। কিছু নির্দিষ্ট এনজিও ছাড়া সরকারিভাবে খুব কমই তৃণমূলপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মকা- পরিচালনা করা হয়। যা-ও হয় তাও নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসনপ্রবণ জেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। আবার গ্রামীণপর্যায়ে দেখা যায় অনেক সেবা দানকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন: ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, সমবায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিবাসী পরিবারের সদস্যরা লেনদেন করে থাকে, কিন্তু এই সকল প্রতিষ্ঠানও অভিবাসীদের জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানেন না। ফলে, ব্যাহত হয় সংযোগ সেবা।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যারা ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন তারাও এখন তাদের আয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে আনতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অনুমোদনও রেমিটেন্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে শুধুমাত্র ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবাহারের মাধ্যমেই বৈধভাবে দেশে টাকা আনতে পারতেন এই সব ফ্রি-ল্যান্সার ও সফটওয়্যার নির্মাতারা। বছরের পর বছর রেমিটেন্স যেমন বাড়ছে এবং ইতিবাচক বিভিন্ন পথ যখন উন্মুক্ত হচ্ছে সেই সাথে কিছু ঝুঁকি কিন্তু আগের মতোই বিদ্যমান। সকল ব্যাংকিং চ্যানেলের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করণে যথোপযুগি পদক্ষেপ এখানে সকলের কাম্য। সরকারের পক্ষ থেকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবানতাকে উৎসাহিত করতে ব্যাংক ও মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর ছাড়ের আওতার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত।

সর্বোপারি মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি যেহেতু জনপ্রিয় হচ্ছে তাই সকলেই যাতে স্মার্টফোন সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রয় করতে পারেন এবং সমাজের অস্বচ্ছল অংশ যাতে এই সুবিধা ভোগ করতে পারেন সে বিষয়ে বিশেষ নজড় দেয়া উচিত।সর্বোপরি টাকার মান শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন। আমরা যদি দেশে শিক্ষিতের হার বাড়াতে পারি এবং সংখ্যা বা মোবাইল এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন আমাদের মধ্যে যে ভীতি তৈরি করে বিশেষ করে নারীদের মধ্যে তা দূর করতে হবে। এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা হতাশা তৈরি করে এবং মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফিলিপাইনে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের এ বিষয়ে সচতেনতা ও শিক্ষিত করার উদ্যোগ গ্রহণের ফলে তারা বিরাট সাফল্য পেয়েছে। এর ফলে আজ ফিলিপাইনের নারীরা বিভিন্ন সেক্টরে সফলতার সাথে কাজ করছেন। এর ফলে ফিলিপাইন টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করতে পারছে। বৈধ পথে টাকা পাঠানোর নতুন নতুন ব্যবস্থার কারণে এখন দেশে টাকা পাঠানো অনেক বেশি সহজতর।

এর আগে ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়া দেশে টাকা পাঠানোর বৈধ কোন উপায় ছিল না। গ্রাহকদের জন্য এটা ছিল কষ্টকর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আনার অনুমতি প্রদান করে, তখন থেকেই ইতিবাচক দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার খাতে অগ্রজ ও নেতৃত্বদানকারী কোম্পানি বিকাশ এই সুযোগটি কাজে লাগায় এবং প্রথম বছরেই তিন বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও প্রনোদনা ঘোষণার মাধ্যমে আজ বিকাশ বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর একটি বিশ্বস্ত মাধ্যমে পরিনত হয়েছে। ব্যাংকে যাওয়া ছাড়া দ্রুত দেশে টাকা পাঠানোর এই সুবিধাকে নিত না চাইবে তাছাড়া বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো উৎসাহিত করতে সরকারের দুই শতাংশ প্রনোদনা ঘোষণা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থের জন্য বাড়তি এক শতাংশ প্রনোদনা প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

সাথে দুশ্চিন্তা ও শারিরিক কষ্ট লাঘবের বিষয়টাতো আছেই।সর্বোপরি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলো আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকিং চ্যানেলগুলো এই সেবার প্রতিযোগী। আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশণ এই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নিশ্চিত ভাবেই সকল স্তরের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছে এবং পাবে।ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এই যুগে এই সেবা নিশ্চিতভাবেই আধিপত্য বিস্তার করবে। অনেক অভিবাসন ও রেমিট্যান্স বিষেশজ্ঞ মনে করেন, করোনাকালে অবৈধ বা হুন্ডি মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুযোগ অনেকাংশে কম থাকায় এবং সরকার প্রদত্ত ২% প্রণোদনার কারণে দেশে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। অথচ আগে দেখা গিয়েছে যে, অনেক অভিবাসী শ্রমিকই ব্যাংকিং মাধ্যমের চেয়ে হুন্ডি বা অন্য অবৈধ মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

আবার, অনেকে স্বজনদের জন্য ভিসা ক্রয় বা প্রসেসিংয়ের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করেছিল- তাও দেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যার কারণে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে গিয়েছে।এ ছাড়া বিদেশফেরত নারী অভিবাসীকর্মীরা যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও জয়ীতা ফাউন্ডেশনের মতন উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই সুযোগে সম্পর্কেও জ্ঞাত নয়। এই বিষয়টাও আমাদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বিদেশফেরত অভিবাসীকর্মীদের দেশে পুনর্বাসনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া বিদেশ থেকে দক্ষতা নিয়ে আসা কর্মীদের জন্য চালু করেছে বিশেষ দক্ষতা স্বীকৃতি সনদ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও তা বেশিরভাগ অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জ্ঞানবহির্ভূত।

করোনা মহামারিতে লকডাউন ও বিশ্ববাণিজ্যে স্থবিরতা নামার কারণে অনেক অভিবাসী শ্রমিক হারিয়েছেন নিয়মিত চাকরি ও চুক্তিভিত্তিক কাজ, যার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স-প্রবাহে। যদিও বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বিগত ২০২১ সালে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৈশ্বিকভাবে ৭.৫% কমে যাবে এবং যার প্রভাব বাংলাদেশের মতন অভিবাসী শ্রমিক প্রেরণকারী দেশের ওপর বিরূপভাবে পড়ার কথা। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স- প্রবাহ বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী যে পরিমাণে কমার কথা ছিল, তা কিন্তু কমেনি; বরং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া বিদেশে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগ এখানে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। অদক্ষ কোনও ব্যক্তির প্রবাসে যাওয়ার দরকার নেই।

কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বিদেশে যেতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। বিদেশে যে বিষয়ের ওপর দক্ষ কর্মী চাওয়া হয়, আমাদের তা থাকে না। অথচ আমরা যদি সঠিকভাবে দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারতাম, তবে বেকারত্বের হারও কমে যেত। এতে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং রেমিট্যান্সের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। আর দালালের খপ্পরে পড়ে কেউ যেন অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি না জমায়, বিষয়টি কঠোরভাবে বন্ধ করা উচিত। প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যেন দেশে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দেশে বিনিয়োগ করলে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, প্রবাসী-আয় নেতিবাচক হলে জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাহত হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সেটি অবশ্যই আমাদের কাম্য নয়।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

কৃষি ও গ্রামোন্নয়নে জোর দিতে হবে

আফতাব চৌধুরী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বাবলম্বনের ভিত্তি অবশ্যই কৃষি। এর তিন চতুর্থাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষিকে উপেক্ষা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x