Home / উপ-সম্পাদকীয় / অতিমারির প্রভাব ও সাম্প্রতিক বাস্তবতা

অতিমারির প্রভাব ও সাম্প্রতিক বাস্তবতা

রায়হান আহমেদ তপাদার

শত বছরের শোষণ-বঞ্চনার অধীনে থেকে, বাঙালি যখন নিজস্ব পরি মন্ডল থেকে ক্রমে পেছনে সরে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় পেছনের সব মহাপুরুষের কীর্তিগাথাকে ম্লান করে দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘুমিয়ে পড়া বাঙালিকে পুনরায় জাগালেন, একত্রিত করলেন। করলেন নবধারায় উজ্জীবিত। শোষণ-বঞ্চনার ঘেরাটোপ থেকে বাঙালি নতুন সূর্যের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল তারই নেতৃত্বে। তিনি আত্মবিশ্বাসহীন এবং শোষিত-বঞ্চিত জনগণের মাঝে জাগিয়েছিলেন আশা। নীরব দুর্দশামাখা কণ্ঠগুলোকে, নির্বাক কণ্ঠগুলোর মাঝে করেছিলেন জাগরণের ভাষাসঞ্চার। যে হতাশা গোটা জাতির ওপর ভর করেছিল, সেই হতাশা কাটাতে তিনি নিজে প্রস্তুতি নিয়েছেন, সহ্য করেছেন নানা ঘাত-প্রতিঘাত এবং ক্রমে এগিয়ে গেছেন শোষণ-বৈষম্যহীন কাম্য এক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে। তিনি তার কাজের মধ্য দিয়েই কেবল একজন ব্যক্তির পরিবর্তে পরিণত হয়েছেন একটি প্রতিষ্ঠানে, একটি বিপ্লবে, জাতি নির্মাণের কারিগরে।

এসব কিছুর মূলেই ছিল মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা, এই ভালোবাসা কেবল বাঙালিদের জন্যই নয়, গোটা মানবজাতির জন্যই ছিল উৎসারিত। তিনি দেখেছিলেন, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন বিশ্বজুড়েই বিদ্যমান শোষণ, নির্যাতিন-নিপীড়ন, বৈষম্য। অল্পকিছু মানুষের হাতে জিম্মি অধিকাংশ মানুষ। একদিকে চলে অপরিমেয় ভোগবিলাস আর অন্যদিকে কেবলই হাহাকার। মানবতাবাদী বঙ্গবন্ধুর পক্ষে যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা এই অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য, শোষণ মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না, নিলেনও না তা। নিজ জীবনের পরোয়া না করে আমৃত্যু চালিয়ে গেছন শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। অনেকেরই হয়তো স্মরণে আছে যে সাম্প্রতিক অতীতে দুই প্রথিতযশা বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমত্র্য সেন এবং কৌশিক বসু বিভিন্ন আলোচনায় স্বাস্থ্যের অধিকার নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটা বোঝাবার চেষ্টা করেছেন এবং করছেন যে খাদ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সু-স্বাস্থ্যের অধিকার সুনিশ্চিত করাটা দেশের দীর্ঘকালীন উন্নতির জন্য কতটা প্রয়োজনীয়। অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হওয়া মানেই কিন্তু সেই দ্রব্য বা পরিষেবার বণ্টন কাম্য পর্যায়ের হচ্ছে না। এবং হচ্ছে না বলেই আইন করে পর্যান্ত বণ্টন নিশ্চিত করার প্রয়াস থাকে। তখনই প্রশ্ন ওঠে এটা দেশের নাগরিকদের অধিকারের মধ্যে পড়ে কি না। সুতরাং, এটা বোঝাই যাচ্ছে যে স্বাস্থ্যের বণ্টনের মধ্যে এক ধরনের অসমতা রয়েছে যেটা অবাঞ্ছিত। বর্তমান প্রবন্ধটিতে আমরা স্বাস্থ্যের বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করব যদিও শব্দবন্ধটির সঙ্গে আমরা খুব একটা পরিচিত নই।

তবে নামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ অন্য বেশ কিছু ধারণা অবশ্য আমরা প্রায় উঠতে বসতে নাম জপ করার মতো ব্যবহার করি। যেমন, আয়-বৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য ইত্যাদি। করোনা কালে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন দেশের নি¤œ আয়ের মানুষ। রাজধানীর ঢাকায় সকাল সকালই দেখা যায়, ব্যস্ততা বাড়ছে নানা কাজের, কাজের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও যারা কাজ জোটাতে পারেননি তাদের হিসেবের খাতাটাও শূন্য। যেদিন কাজ মেলে সেদিনও মেলে না তাদের সংসার খরচের সরল অঙ্ক। সারা পৃথিবীতেই আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৫ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষ এখন বিশ্বের ৫০ শতাংশ সম্পদের মালিক। আর ৫০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ মাত্র ১ শতাংশ সম্পদের মালিক। সম্প্রতি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও একই সুরে বললেন, দেশে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমলেও বৈষম্য বেড়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, এখনো দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। তার সাথে বৈষম্যের অনাকাক্সিক্ষত রুপ। কিন্তু কীভাবে এই বৈষম্য সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়, সেটাই আসল কথা।এই অসমতার পরিপ্রেক্ষিতেই বড় এক তথ্য ফাঁসের কা- ঘটল, যাকে বলা হচ্ছে পানামা পেপারস। আমরা জানতে পারলাম, বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড় ও এমনকি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দিচ্ছেন। এই কর ফাঁকির কয়েকটি দিক রয়েছে।

একদিকে আছেন তারা, যারা দুই নম্বরি পথে টাকা রোজগার করেন, ফলে সেই টাকার ওপর তাদের কর দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দ্বিতীয়ত, অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি বৈধভাবেই এত টাকা আয় করেন যে তার ওপর নির্ধারিত কর দিতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতছাড়া হয়ে যায়, যেটা তারা হতে দিতে চান না। খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এ কাতারে পড়েন। আর তার সঙ্গে আছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা বিশ্বায়নের সুযোগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, কিন্তু ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের (মূল কোম্পানির শাখা কোম্পানিগুলোর মধ্যকার লেনদেন) মাধ্যমে কর ফাঁকি দিচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে এরাই শ্রেষ্ঠ। সারা পৃথিবীর এই অবৈধ অর্থের গন্তব্য হচ্ছে সুইজারল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপসহ নানা এলাকা।অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন বাড়ে ৫ শতাংশেরও কম। উল্লেখ্য, এই নব্য উদারনীতিবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে একই সময়ে শুরু হলেও তারা ক্রমেই উত্তর-ঔপনিবেশিক দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলে তাদের ওপরও এই মডেল চাপিয়ে দিতে শুরু করে, যারা বাধ্য হয়েই তা কমবেশি গ্রহণ করে। মানুষের আয় যত বেশি হবে, তার করও তত বেশি দেওয়ার কথা। সে কারণে ধনবান মানুষেরা কর ফাঁকি দেয়। আর দুর্নীতিবাজদের তো কর দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

একই সঙ্গে, রাজস্ব আইন এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়, যাতে তাদের পক্ষে কর ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। অর্থাৎ একদিকে করপোরেশনের হাতে বিপুল টাকা জড়ো হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তার মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কর ফাঁকি দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা দুদিক থেকেই লাভবান হচ্ছেন। এদিকে করোনায় বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি ২২ লাখ মানুষের আয় কমে গেছে। আর পরিবার হিসেবে আয় কমেছে শতকরা ৭৪ ভাগ পরিবারের। এখন প্রধান কাজ হলো আয় যাতে না কমে তার ব্যবস্থা করা। আর সেটা না করা গেলে দারিদ্র্য আরো বাড়বে। আর্থ-সামাজিক ভাবে যারা দুর্বল, কম শিক্ষিত, তাদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে দীর্ঘস্থায়ী ভগ্নস্বাস্থ্য পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের অসমতা জাতি বিভেদেও হতে পারে। খুব সহজ ভাবে বলতে গেলে এটাই হল স্বাস্থ্য বৈষম্য যেটা কি না অন্যান্য অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। তার মানে বর্তমানে যারা বয়োজ্যেষ্ঠ, তাদের স্বাস্থ্যের হাল-হকিকত থেকেই বোঝা যাবে কী ধরনের সরকারি এবং বেসরকারি নীতি গ্রহণ করা উচিত ভবিষ্যত উন্নয়নের আশায়। বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও একটি আশঙ্কার কথা হল, বয়স বাড়লে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে এবং অসুস্থতাজনিত খরচ বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য বৈষম্য যদি প্রকট থাকে তা হলে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে আয়-বৈষম্যও নগণ্য নয়, সেখানে অসুস্থ বয়স্কদের খরচের ও দায়িত্বের চাপে অর্থনীতি বেহাল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়।

যদি ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার দিকে নজর দেওয়া যায়, তা হলে আশঙ্কা আরও দৃঢ় হয়। সারা বিশ্বের ১১% মানুষের বয়স ৬০ বা তার বেশি, সংখ্যাটা হল প্রায় ৭৬ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ সংখ্যাটা ২০০ কোটিতে পৌঁছুবে। শুধু ভারত এবং চিন মিলে থাকবে প্রায় ৭৫ কোটি লোক। তা হলেই বুঝুন স্বাস্থ্য বৈষম্য এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যের গুণগত মান নিয়ে সঠিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা কতটা। দারিদ্র্যের পরিমাপ মূলত আপেক্ষিক এবং অনপেক্ষ হিসেবে বিবেচিত। দারিদ্র্যরেখার নীচে কত শতাংশ মানুষ আছেন তা দিয়ে মাপা হয় অনপেক্ষ দারিদ্র্য। যে দারিদ্রের পরিসংখ্যান সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং যা নিয়ে আপাতত রাজনৈতিক মহল তোলপাড়। কি›ত্ত এই ডামাডোলে কিছুটা আড়ালেই পড়ে গিয়েছে আপেক্ষিক দারিদ্র্যের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটি। অথচ আপেক্ষিক দারিদ্র্যের পরিমাপ এক অর্থে অর্থনৈতিক অসাম্যের পরিমাপ। ভারতে অর্থনৈতিক অসাম্য অতি দ্রুত হারে বেড়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে বলা যায়,শহরে ও গ্রামে ধনী ও দরিদ্রের জীবনযাত্রার ব্যবধান বেড়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ও জাতীয় আয়বৃদ্ধির সুফল যতটা ধনীরা ভোগ করেছেন, সেই মাত্রায় তা পৌঁছায়নি দরিদ্রদের কাছে। ব¯ত্তত এই পরিসংখ্যানে অসাম্যের যে স্তর দেখা যাচ্ছে , সার্বিক অসাম্য তার থেকে বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও উপেক্ষা করা যায় না। ঐতিহাসিক ভাবে দেখা গিয়েছে ব্যয়ের প্রেক্ষিতে যা অসাম্য , আয়ের প্রেক্ষিতে অসাম্য সাধারণত তার থেকেও বেশি।

অতএব,এ ক্ষেত্রে যেহেতু অসাম্য পরিমাপের ভিত্তি ভোগের খাতে খরচ,অতএব আয়ের অসাম্য তার থেকে বেশি বলে অনুমান অযৌক্তিক নয়। এই সমীক্ষা দেশের ধনীতম পরিবারগুলির ব্যয় সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করতে পেরেছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদি সেই ব্যয়কে হিসেবের মধ্যে আনা যায় , তবে অসাম্যের মাত্রা আরও বাড়ে। পরিসংখ্যানটি উদ্বেগজনক। উদ্বেগের কারণ দ্বিবিধ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। দারিদ্র্যরেখার নীচে থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে কিনা সেই বিতর্কের মধ্যে না গিয়েও বলা চলে যে এখনও ভারতে দারিদ্র্যরেখার নীচে থাকা মানুষের সংখ্যা বিপুল। এই বিপুল দরিদ্র জনসংখ্যার সঙ্গে বর্ধিত অর্থনৈতিক অসাম্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে খুব একটা শুভ সঙ্কেত নয়। বিশ্বের হিংসাদীর্ণ দেশগুলির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক অসাম্য সামাজিক হিংসা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ভারতের অনুন্নত অঞ্চলগুলিতেও একই ভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক হিংসার মাত্রা ক্রমবর্ধমান। দ্বিতীয় কারণটি অর্থনৈতিক। রঘুরাম রাজনের মতো বহু অর্থনীতিবিদ ইতিমধ্যেই দেখিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালে শুরু হওয়া মহামন্দার পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনৈতিক অসাম্যের বৃদ্ধি। কিন্ত এই অসাম্যের হাত ধরে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে যে বড় ধরনের অশনিসংকেত ঘনীভূত হচ্ছে, তা যেন এক সর্বগ্রাসী আকালে পরিণত না হয় তা নিয়ে ভাবতে হবে সবাইকে। সমাজের যে স্তরের মানুষই হোক না কেন, দায়বদ্ধতার আবেগটি শিল্পমানের উতকর্ষ ছুঁতে না পারলে তা নেহাতই প্রচারমূলক বা প্রোপাগান্ডা হয়ে যায়। এ দায়বদ্ধতাই আজকের অসাম্যের বাতারণে সবচেয়ে প্রধান অনুভূতিসম্পন্ন ভাবনা হওয়ার কথা ছিল।

এ ভাবনা শুধু অর্থনীতিবিদের নয়, একজন দায়িত্বশীল শিল্পীও এ ভাবনা থেকে দূরে নয়। শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব একে অপরের পরিপূরক। সত্য কথা বলা এবং মিথ্যাকে প্রকাশ করা বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী-উভয় শ্রেণিরই কাজ। সত্য হলো তারই প্রকাশ, যা মানুষের কাজ আর জ্ঞানকে নিশ্চিত করবে, স্পষ্টতা দেবে, শক্তিশালী করবে। কিন্তু বাস্তব আমাদের উলটোটাই দেখাচ্ছে। আজ এ মহাদুর্যোগে সত্যের অস্তিত্ব বিপন্ন। আসল সত্য যে কোথায়, তা গুলিয়ে দেওয়ার সব ব্যবস্থাই কিন্তু তৈরি হয়ে আছে। আর সে কারণেই সত্য কথাটা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে সবাই। অতিমারির মুহুর্মুহু ঢেউয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত, বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে বিশেষজ্ঞরা যখন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা এবং অর্থনীতির হাল ফেরাতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সরব, তখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে দুবেলা দুমুঠো খেতে পাওয়ার মতো মৌলিক অধিকারও বৃহত অংশের নাগরিকের জন্য সুরক্ষিত নয়।

শিল্পী হোক, বুদ্ধিজীবী হোক, সমাজসেবক হোক, অর্থনীতিবিদ হোক-তারা বরং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের ওপর লেখালেখি করতে চায়; কিন্তু ভুলেও দুর্গত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থার কথা জোরেশোড়ে বলতে পারে না। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজন সেই সত্যটি বলা, সেই অসাম্যের কথাটি বলা। সমাজে অসাম্য আগেও ছিল; বেড়েও যাচ্ছিল গত তিন দশক ধরে দেশে এবং বিদেশে; কিন্তু বর্তমান অসাম্যের প্রকৃতি আগের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অভূতপূর্ব।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

কৃষিতে জৈবপ্রযুক্তি

ইসরাত জাহান বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য: ১ জানুয়ারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x