Home / উপ-সম্পাদকীয় / নতুন মেরুকরণে ইসরাইল, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য

নতুন মেরুকরণে ইসরাইল, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য

রায়হান আহমেদ তপাদার

এবারের যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ফিলিস্তিন এজেন্ডাকে বিসর্জন দেয়ার যে আয়োজন চলছিল, সেটি আরো জোরালোভাবে ফিরে এসেছে। সামনে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে সময়ক্ষেপণের অবকাশ ইসরাইলের জন্য কমে যাবে। আর ফিলিস্তিনে আপসকামীরা কোণঠাসা হবে, ফিলিস্তিন স্বার্থের প্রকৃত ধারকরা জাতির নেতৃত্বে চলে আসবে। ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট এবারের যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগাগোড়াই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। ওলমার্টের মতে, এই লড়াইয়ে দুজন বিজয়ী রয়েছেন বহু ইসরাইলির মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা জাগিয়ে তুলতে পেরে হামাস জয়ী হয়েছে; আর নেতানিয়াহু, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই জানতেন যে হামাসের পতন ঘটবে না, তবে লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই কারণে যে যুদ্ধটি তার নিজস্ব ব্যক্তিগত এজেন্ডা বদলে দেবে।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক মেরুকরণের পথকে প্রশস্ত করবে বলে মনে হচ্ছে। এতে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এই ঘরানার বিরুদ্ধে যে ক্রাশ অভিযান রাজতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক দেশগুলো চালিয়ে আসছিল সেটি বন্ধ হয়ে যাবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে পার¯পরিক সঙ্ঘাতমুখর সম্পর্ককে যথাসম্ভব নমনীয় করে আবার মুসলিম উম্মাহর স্বার্থকে সামনে নিয়ে এসে ফিলিস্তিন সঙ্কটের সুরাহার চেষ্টা হতে পারে। এর অংশ হিসেবে কার্যকর সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে। ইসরাইলের জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে, সার্বভৌম ফিলিস্তিনকে মেনে না নেয়ার বিকল্প হবে বিশ্ব মানচিত্র থেকে নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্বকে মুছে দেয়া। ২০২১ সালে গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়েছে সেটি আগামী বছর গুলোতে একটি পরিণতির দিকে যাবে যেখানে বিশ্ব মুসলিম শক্তি বৈশ্বিক ব্যবস্থার একটি সিদ্ধান্তকারী শক্তিতে পরিণত হবে।

ইসরাইলের হামলার পরে হামাস শাসিত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য আল সিসি ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে মিসরীয় রাষ্ট্রপ্রধান ২০ মে গাজা ও ইসরাইলে দুটি নিরাপত্তা প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। এ ছাড়া মিসরীয় সরকার গাজায় সহায়তার জন্য বোঝাই করা ১৩০টি ট্রাকের একটি বিশাল সহায়তা কাফেলাও পাঠিয়েছে আর চিকিৎসা পাওয়ার জন্য আহত ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের অনুমতি দিতে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি পুনরায় চালু করেছে। এই ক্রসিংটি মিসরের সিনাই উপদ্বীপের সাথে গাজা ভূখ-ের সংযোগ স্থাপন করেছে। মিসরের ওপর ইসরাইলের চাপ সৃষ্টির নানা উদ্যোগ নেয়ার পর হামাসের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলোচনায় সুর পরিবর্তনের বিষয়টিও লক্ষ্য করা যায়। বেশির ভাগ সংবাদপত্রই ইসলামী দল এবং অন্যান্য সশস্ত্র দলকে প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ইসরাইলকে দখলদার হিসেবে অভিহিত করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে হামাসের আগের নেতিবাচক কভারেজ থেকে এটি একটি বড় অগ্রগতি ছিল।

হামাসের বিরুদ্ধে, মিসরের জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহযোগিতা করার কথা বলে ২০১৩ সালে কায়রো হামাসকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। নতুন পরিস্থিতিতে মিসরীয় সরকার হামাসের সাথে তার মতের পার্থক্যকে এক পাশে সরিয়ে রেখেছে। মিসরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার ২০১৩ সালে কায়রো সফরের পর মিসর ও হামাসের সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। এই সফরের পরে, কায়রো আন্তঃফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর মধ্যে সংলাপের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেছিল।এমনিতেই বিগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তথাকথিত শান্তিচুক্তির সময় সমঝোতার ব্যাপারে সৌদি আরব ও আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের সাথেই মূল আলোচনা করা হয়েছে। উপেক্ষিত থাকে মিসর ও জর্দানের মতো দেশ। তখন ধরে নেয়া হয়, সৌদি আরব ও ইউএই ইসরাইলের সাথে থাকলে অন্য কারো কিছু করার থাকবে না। মিসর ও জর্দান এটিকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি।

গোয়েন্দা পর্যায়ে ইরান ও তুরস্ক দুই দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে মিসর। ইসরাইল যেখানে লিবিয়ার ব্রাদারহুড ইস্যুকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছে এবং ভূমধ্যসাগর প্রশ্নে গ্রিস সাইপ্রাস বলয়ে মিসরকে আটকাতে চেয়েছিল, সেখানে মিসর ও তুরস্ক সঙ্ঘাত থেকে সরিয়ে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক নির্মাণের চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিক পর্ব পেরিয়ে তুরস্ক-মিসর আনুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রবেশ করেছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় দুই দেশের দূরত্ব ও বিরোধ কাটিয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বেশ অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে তুরস্ক-ইসরাইল। ইসরাইল যেখানে মিসরের প্রয়োজনীয় নীল নদের পানি প্রত্যাহার এবং সুয়েজ খালের বিকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে তুরস্ক ভূমধ্যসাগরের তেল গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতা দানের প্রস্তাব করেছে কায়রোকে। ইসরাইলের মধ্যপ্রাচ্য বিশারদরা গাজায় ইসরাইলের সামরিক বিপর্যয়ের পর এমন প্রশ্ন উত্থাপন করছেন। ইসরাইলের অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, গাজার সাথে ইসরাইলের সর্বশেষ যুদ্ধে মিসর ও সুদান দুটি দেশই ইসরাইলকে আশানুরূপ সহযোগিতা দেয়নি।

অধিকন্তু এটাও বলা হচ্ছে যে, হামাসের সাথে গোপন কোনো যোগসূত্র মিসরের না থাকলে তারা এভাবে ইসরাইলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারত না যার জের ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নদের পানির ওপর নির্ভর করে ১১টি দেশ। তার মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া এবং উগান্ডা। মিসরের মিষ্টি পানির ৯৬ শতাংশেরও বেশি নীল নদের মাধ্যমে আসে। সুদান ও মিসরের মধ্যে ১৯৫৯-এ স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে নীলের মিঠা পানির বরাদ্দ ঠিক করা হয়। এই চুক্তি অনুসারে মিসর ও সুদানকে প্রতি বছর ৫৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) এবং ১৮.৫ বিসিএম পানি দেয়া হয়। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্যার সময় প্রধান নীল নদের পানির বেশির ভাগ অংশ নাইল নীল এবং আটবারা হয়ে ইথিওপীয় মালভূমি থেকে আসে। এদিকে কায়রোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে ব্লিংকেন প্রেসিডেন্ট সিসির সাথে বৈঠক করেন, যেখানে তিনি বলেন যে, ওয়াশিংটন এবং কায়রো ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে বাস করার জন্য একত্রে কাজ করছে।

তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সর্বশেষ সহিংসতার মোকাবেলায় মিসরকে একটি সত্যিকারের এবং কার্যকর অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। গত সপ্তাহে, সিসি মার্কিন রাষ্ট্রপতি বাইডেনের সাথে গাজা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ও পরে দুইবার কথা বলেছেন। হামাসের সাথে মিসরের এই সম্পর্ক উন্নয়ন কেন হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে, মিসরের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সুরক্ষা সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রধান আহমেদ আল-আওয়াদি বলেছেন, কায়রো ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার রক্ষার স্বার্থে হামাসের সাথে তার পার্থক্য কাটিয়ে উঠেছে। আওয়াদি উল্লেখ করেন, হামাসের সাথে কিছুটা মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু ইসরাইলের অধীনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ হাসিলের আশায় সঙ্কট চলাকালে উভয় পক্ষই এই মতবিরোধকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।মিসর কর্তৃপক্ষ হামাসের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং তুরস্কের সাথে সহযোগিতা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ মূলত একই সূত্রে গাঁথা। এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার একটি যোগসূত্রও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো থেকে যতটা খবর পাওয়া যায় তাতে মনে হয়, মিসরের সাথে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরব বসন্তের আগে মুসলিম ব্রাদারহুড যে রাজনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার ভোগ করত, সেটি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে।

মিসর এর মধ্যে ব্রাদারহুডের মাঝারি কাতারের কয়েক শত নেতা ও কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো সিনিয়র নেতাদেরও মুক্তি দেয়া হতে পারে। সম্ভবত সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সময় যতটা রাজনীতি ও অন্যান্য কর্মকা- পরিচালনার সুযোগ ব্রাদারহুড পেত সেটি আবার দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে মিসরের রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আরো বাড়তে পারে। এছাড়া সৌদি আরবও এর মধ্যে হামাসের অনেক নেতাকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের ব্যাপারেও সৌদি কর্তৃপক্ষ উদার মনোভাব নেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের দেশ সিরিয়ায় এক ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার খবর পাওয়া যাচ্ছে যার অংশ হিসেবে, বাশার আল আসাদ সিরিয়ায় নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। পরে সবার অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচনের আয়োজনও হতে পারে। এটি আস্তানা শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরান তুরস্ক যে সমঝোতার চেষ্টা করে আসছিল, তারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। ইসরাইলের সাথে ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি’র মধ্য দিয়ে মিসর এবং ১৯৯৩ সালে শান্তিচুক্তি দিয়ে জর্দানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের আমলে আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর পুরনো কূটনৈতিক সম্পর্কে সম্পর্কিত দেশগুলোর সাথে এক ধরনের বৈরী আচরণ শুরু করে ইসরাইল।

এর মধ্যে মসজিদুল আকসার স্বীকৃত খাদেম হিসেবে জর্দানকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো দেশকে স্থলাভিষিক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। আর ট্রাম্পের কথিত শান্তিচুক্তির বিষয়ে জর্দানকে রাখা হয় অনেকটাই অন্ধকারে। এরপর আবার জর্দানে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বাদশাহ আব্দুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়। ফলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে শান্তিচুক্তি-পরবর্তী সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হয় জর্দানের।জর্দানের সাথে বৈরী এ আচরণের চেয়েও মিসরের পদক্ষেপগুলো ছিল আরো মারাত্মক। মিসরের অর্থনীতির প্রাণ হলো, নীল নদের মিঠাপানির প্রবাহ আর সুয়েজ খালের জাহাজ পারাপারের আয়। মিসরের আয়ের এই দুটি বড় উৎসকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসরাইল স্থায়ীভাবে দেশটিকে তেলআবিবের করুণানির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে। এবারের যুদ্ধে ইসরাইলের অনেক ক্ষতি সরাসরি সামনে চলে এসেছে। যেমন, ইসরাইলের শক্তিমত্তা ও নিরাপত্তা সক্ষমতার ব্যাপারে যে ধরনের অতিলৌকিক ধারণা তৈরি হয়েছিল তা ভেঙে গেছে। হামাসের মতো একটি অরাষ্ট্রিক শক্তির সামনে যেভাবে ইসরাইলি নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে তাতে অন্য আরব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধানে তারা বড় কিছু করতে পারবে, এমন আশা এখন আরব রাষ্ট্রগুলো খুব বেশি করতে পারবে না, ইসরাইলের নাগরিকদের প্রতি এত দিন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারে যে নিশ্চয়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে আসা হয়েছিল, তার সাথে বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান তারা প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে ইসরাইলি সমাজে এর মধ্যে ভাঙন দেখা গেছে যার কারণে দুই বছরে চারটি নির্বাচন করার পরও টেকসই সরকার গঠন সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থার আরো অবনতি ঘটে ভেতর থেকে ইসরাইল রাষ্ট্র দুর্বল হতে থাকবে।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন নীতি উদ্যোগের সাথে একেবারেই একত্মা হয়ে চীন ও রাশিয়ার বেশ কিছু স্বার্থে ইসরাইল আঘাত করেছে। কাশ্মির ফ্রন্টে ইসরাইল সরাসরি চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে সহায়তা করেছে। দিল্লিকে যথেচ্ছ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়েছে। সিরিয়ায় ক্রেমলিনের কথা না শুনে ইসরাইল আঘাত করেছে যা ইরানের সাথে মস্কোর সহযোগিতাকে ইসরাইলবিরোধী ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। আমেরিকার গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে চীন ও রাশিয়া দুই বিশ্বশক্তিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়ত।

একই সাথে তুরস্কের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী মুসলিম দেশগুলোও ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি সঙ্ঘাতের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান কূটনৈতিকভাবে এই ইস্যুতে অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিলেন। এবং ইসরাইলের সাথে যে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়েছে, সেসব দেশের জনমত, এবারের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি আলজাজিরা ও সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের ফলে, তীব্রভাবে বৈরী হয়ে উঠেছে। ফলে এসব দেশ ইসরাইলের সাথে সহযোগিতাকে বিস্তৃত করতে নানা ধরনের শঙ্কার মধ্যে থাকবে। নতুন কোনো দেশ আর ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বেশি আগ্রহ বোধ করবে না।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

অতিরিক্ত জনসংখ্যা উন্নয়নের অন্তরায়

আফতাব চৌধুরী যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত হল সে দেশের কাম্য জনসংখ্যা। জনসংখ্যাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x