Home / উপ-সম্পাদকীয় / ঘুমন্ত বিবেক, ডুবন্ত মানবতা, অসহায় মানুষ

ঘুমন্ত বিবেক, ডুবন্ত মানবতা, অসহায় মানুষ

রায়হান আহমেদ তপাদার

আর কত রক্ত জল হয়ে সাগরে মিশলে বিশ্ব মোড়লদের ঘুমন্ত বিবেক জেগে উঠবে? বর্তমান সময়ে মোড়লরা ঘুম থেকে জেগে উঠলেও তাদের ঘুমন্ত বিবেক কিন্তু জাগে না। মানবতা আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গুমরে গুমরে কাঁদছে। পৃথিবীর মানুষগুলো মনে হয় দু চোখ বন্ধ করে বসে আছে। অসহায় মানুষগুলোর চোখের জল যেন মূল্যহীন এক বস্তুতে পরিণত হয়েছে। যেখানে কেবল জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বৈষম্য বিদ্যমান। তথাকথিত মানবাধিকারের প্রবক্তাদের কাছে মানুষের রক্ত, মানবাধিকার এবং জীবন যেন ইতর প্রাণীর চেয়েও মূল্যহীন।কেন এত অত্যাচার? পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে তাদের কি কোনো দেশ থাকবে না? কেন তাদের স্থায়ী কোনো বসবাসের জায়গা থাকবে না? মানুষ হয়ে জন্ম নেয়াই কি তাদের পাপ? এসব প্রশ্নের জবাব আজ না হোক কাল বিশ্ব মোড়লদের দিতে হবে। নইলে আয়লানদের আত্মার কষ্টে তাদের ধ্বংস নিশ্চিত করবে।

মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের এক ধরনের অধিকার যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। মানুষ এ অধিকার ভোগ করবে এবং চর্চা করবে। তবে এ চর্চা অন্যের ক্ষতিসাধন ও প্রশান্তি বিনষ্টের কারণ হতে পারবে না। মানবাধিকার সব জায়গায়এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এ অধিকার একই সাথে সহজাত ও আইনগত অধিকার। স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম দায়িত্ব হল এসব অধিকার রক্ষণাবেক্ষণ করা। আরো সহজভাবে বলতে গেলে মানবাধিকারের প্রধান বিষয়গুলো দাঁড়ায়, জীবনধারণের অধিকার, সম্পদের অধিকার, মান-মর্যাদা ও ইজ্জত আব্রু রক্ষার অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার, বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তালাভের অধিকার, বসবাস, যাতায়াত ও স্থানান্তরের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, পারিশ্রমিক লাভের অধিকার, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও শ্রমিকের অধিকার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।ফের উত্তপ্ত ইসরাইল-প্যালেস্তাইন। রাতারাতি বাড়ল উত্তেজনা। ২০১৪ সালের গাজায় ইসরাইল সরকার ও হামাস গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধের পর, দুই পক্ষের মধ্যে এত তীব্র সংঘর্ষ আর দেখা যায়নি, এমনটাই বলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল।

রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিদূত টর ওয়েনেসল্যান্ড টুইট করে বলেছেন: অবিলম্বে এই আগুন না নিভলে ফের যুদ্ধ শুরু হবে গাজায়। দুই পক্ষের নেতাদেরই উত্তেজনা কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ হলে তার ফল হবে ধ্বংসাত্মক, সাধারণ মানুষকেই তার মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু,কীভাবে শুরু হল এই হিংসা? জানা গিয়েছে গত কয়েকদিন ধরেই ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছিল জেরুজালেমে। রমজান মাসে আল আকসা মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে এই উত্তেজনার সূচনা হয়। শহরের প্রধানত আরব অধ্যুষিত এলাকায় গত এক মাস ধরেই প্যালেস্তাইনপন্থী ও ইসরাইলি পুলিশদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। এরপর, গাজা থেকে জেরুজালেম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল হামাস গোষ্ঠী। এই ঘটনার পরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, লাল রেখা পার করেছে। যদিও, হাসাম বলেছিল, আল-আকসা মসজিদকে ইসরাইলি আগ্রাসন ও সন্ত্রাসএর হাত থেকে রক্ষার জন্যই তারা রকেট হামলা চালিয়েছে। সেখান থেকেই তীব্র হানাহানির শুরু হয়।পূর্ব জেরুজালেম, গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে ফিলিস্তিনিরা থাকেন, তাদের সঙ্গে ইসরাইলিদের উত্তেজনা প্রায়ই চরমে উঠে। গাজা শাসন করে ফিলিস্তিনি দল হামাস।

ইসরাইলের সংগে তাদের অনেকবার যুদ্ধ হয়েছে। গাজার সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইল এবং মিশর, যাতে হামাসের কাছে কোন অস্ত্র পৌঁছাতে না পারে। গাজা এবং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা বলছে, ইসরাইলের নানা পদক্ষেপ এবং কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তারা খুবই দুর্দশার মধ্যে আছে। অন্যদিকে ইসরাইল দাবি করে যে, ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য তাদের এই কাজ করতে হয়। এবছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি রমজানের শুরু থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তখন প্রায় প্রতি রাতেই ফিলিস্তিনিদের সংগে ইসরাইলি পুলিশের সংঘর্ষ চলছিলো। পূর্ব জেরুজালেম থেকে কিছু ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি ফিলিস্তিনিদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। গাজা এবং ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিরা বেশ কিছু ইস্যুতে মোটেই একমত হতে পারছে না। এর মধ্যে আছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ব্যাপারে কী হবে; পশ্চিম তীরে যেসব ইহুদী বসতি স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো থাকবে, নাকি সরিয়ে নেয়া হবে; জেরুজালেম নগরী কি উভয়ের মধ্যে ভাগাভাগি হবে; আর সবচেয়ে জটিল ইস্যু হচ্ছে- ইসরাইলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন। গত ২৫ বছর ধরেই শান্তি আলোচনা চলছে থেমে থেমে। কিন্তু সংঘাতের কোন সমাধান এখনো মেলেনি।এক কথায় বলতে গেলে, খুব সহসা এই পরিস্থিতির কোন সমাধান মিলবে না।

সংকট সমাধানের সাম্প্রতিক উদ্যোগটি নিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি বলে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এই উদ্যোগকে নাকচ করে দিয়েছিলো একেবারেই একতরফা একটি উদ্যোগ বলে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ নিয়ে আসলে কাজ মোটেই এগোয়নি।ভবিষ্যতের যেকোনো শান্তি চুক্তির আগে দু’পক্ষকে জটিল সব সমস্যার সমাধানে একমত হতে হবে। সেটি যতদিন না হচ্ছে, দুপক্ষের এই সংঘাত চলতেই থাকবে।ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার লড়াই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। সবশেষ এই সহিংসতা শুরু হয়েছে জেরুজালেমে এক মাস ধরে চলতে থাকা তীব্র উত্তেজনার পর। কিন্তু ইসরাইলি আর ফিলিস্তিনিদের এই দীর্ঘ সংঘাতের পেছনের ইতিহাস আসলে কী? মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিলো অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো আরব, সেই সংগে কিছু ইহুদী, যারা ছিলো সংখ্যালঘু। কিন্তু এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলো, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্রিটেনকে দায়িত্ব দিলো ইহুদী জনগোষ্ঠীর জন্য ফিলিস্তিনে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। ইহুদীরা এই অঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ বলে দাবি করে। কিন্তু আরবরাও দাবি করে এই ভূমি তাদের এবং ইহুদীদের জন্য সেখানে রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টার তারা বিরোধিতা করে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে ইহুদী মিলিশিয়া বাহিনী ‘হাগানাহ’র এক যোদ্ধা। ১৯২০ থেকে ১৯৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ইউরোপে ইহুদী নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়ংকর ইহুদী নিধনযজ্ঞের পর সেখান থেকে পালিয়ে এরা নতুন এক মাতৃভূমি তৈরির স্বপ্ন দেখছিলো।ফিলিস্তিনে তখন ইহুদী আর আরবদের মধ্যে সহিংসতা শুরু হলো, একই সংগে সহিংসতা বাড়ছিলো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও।১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনকে দুই টুকরো করে দুটি পৃথক ইহুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলো। বলা হলো, জেরুজালেম থাকবে একটি আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে। ইহুদী নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নেন, কিন্তু আরব নেতারা প্রত্যাখ্যান করেন। জাতিসংঘের এই পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় আরব মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা ইহুদী মিলিশয়া বাহিনী ‘হাগানাহ অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। ব্রিটিশরা এই সমস্যার কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে। ইহুদী নেতারা এরপর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বহু ফিলিস্তিনি এর প্রতিবাদ জানান এবং এরপর যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সৈন্যরাও যেখানে যায় যুদ্ধ করতে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তখন হয় তাদের ঘরবাড়ি ফেলে পালাতে হয় অথবা চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে ‘আল নাকবা’ বা মহা-বিপর্যয় বলে থাকে। পরের বছর এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যখন যুদ্ধ শেষ হলো, ততদিনে ইসরাইল ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

জর্ডান দখল করেছিলো একটি অঞ্চল, যেটি এখন পশ্চিম তীর বলে পরিচিত। আর মিশর দখল করেছিল গাজা।জেরুজালেম নগরী ভাগ হয়ে যায়, ইসরাইলি বাহিনী দখল করে নগরীর পশ্চিম অংশ, আর জর্ডানের বাহিনী পূর্ব অংশ।দু’পক্ষের মধ্যে যেহেতু কখনোই কোন শান্তিচুক্তি হয়নি, তাই উভয় পক্ষই অপর পক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। দু’পক্ষের মধ্যে পরের দশকগুলোতে এরপর আরও বহু যুদ্ধ হয়েছে।উনিশশো সাতষট্টি সালে আরেকটি যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর, সিরিয়ার গোলান মালভূমি, গাজা, এবং মিশরের সিনাই অঞ্চল দখল করে নেয়। বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি শরণার্থী থাকে গাজা এবং পশ্চিম তীরে। প্রতিবেশী জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননেও আছে অনেক ফিলিস্তিনি।ইসরাইল এই ফিলিস্তিনি এবং তাদের বংশধরদের কাউকেই আর তাদের বাড়িঘরে ফিরতে দেয়নি। ইসরাইল বলে থাকে, এদের ফিরতে দিলে সেই চাপ ইসরাইল নিতে পারবে না এবং ইহুদী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেওয়ার পর ইসরাইলি সামরিক অধিনায়করা সেখানে ঢুকছে। ইসরাইল এখনো পশ্চিম তীর দখল করে আছে।

গাজা থেকে তারা যদিও সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে, জাতিসংঘের দৃষ্টিতে এটি এখনো ইসরাইলের দখলে থাকা একটি এলাকা। ইসরাইল এখন পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী বলে দাবি করে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায়। পুরো জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ।গত ৫০ বছর ধরে ইসরাইল এসব দখলীকৃত জায়গায় ইহুদী বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। ছয় লাখের বেশি ইহুদী এখন এসব এলাকায় থাকে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈধ বসতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের পক্ষে রয়েছে খুবই ক্ষমতাধর একটি লবি। সেখানে জনমতও ইসরায়েলের পক্ষে। এর ফলে কোন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইসরায়েলেও ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়া কঠিন। ২০১৩ সালে বিবিসি ২২টি দেশে একটি জরিপ চালিয়েছিল। সেই জরিপে দেখা যায়, পুরো পশ্চিমা দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে একমাত্র দেশ, যেখানে জনমত ইসরায়েলের পক্ষে সহানুভূতিশীল। শুধু তাই নয়, এই দুইদেশ ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্য পায় ইসরায়েল। এই সাহায্যের একটা বড় অংশই খরচ হয় ইসরায়েলের জন্য সামরিক অস্ত্র কেনার জন্য।

জেরুসালেমের প্রাচীন নগর প্রাচীরে ইসরায়েলি এবং মার্কিন পতাকা। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে খোলাখুলি সমর্থন যোগানোর মতে একটি বৃহৎ শক্তিও নেই।ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এক সময় মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। কিন্তু মিশরের সেনাবাহিনী ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর সেখান থেকে হামাস আর কোন সমর্থন পায় না। হামাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এখন সিরিয়া, ইরান এবং লেবাননের হেযবোল্লাহ গোষ্ঠী। ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল বিশ্বের আরও অনেক দেশ। কিন্তু এই সহানুভূতি কাজে পরিণত হয় কম। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন যে অস্থিরতা, তার কারণেও ফিলিস্তিনিদের ইস্যুটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের টার্গেটেড জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জনগোষ্ঠীর নাম সিরিয়ান মুসলমান।নির্মমভাবে এমন বীভৎস হত্যাযজ্ঞ ঘটনা কি বিশ্ববাসীকে হতবাক করে না? মুসলমানদের উপর পৈশাচিক নির্মমতার ঘটনাগুলো বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষকে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করতে পারলেও পারেনি বিশ্ব মোড়লদের।

কালো চশমা পরে তারা বসে আছে মুসলিম নিধনের খেলা দেখায়। বিশ্ব মোড়লরা ধমক দিলে সারা দুনিয়ায় কি না হয়, কিন্ত তারা কেন চুপ? একটা দেশ নিশ্চিহ্নকরণ অভিযানের মর্মস্পর্শী ঘটনাগুলো যখন পুরো মানব সভ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলছে তখনো কিন্তু মোড়লেরা নিশ্চুপ থাকার কথা না। সত্যি পৃথিবীটা যত সুন্দর তার থেকে বড় নিষ্ঠুর এই পৃথিবীর ক্ষমতাবান মানুষগুলো। মানবতাকে বৃদ্ধাক্সগুলি না দেখিয়ে বিশ্ব মোড়লদের উচিত হবে মানবিক এই পৃথিবী নির্মাণে সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে এ ধরণের জঘন্য হত্যাকা- বন্ধ করার জন্য জোরালো ভুমিকা পালন করা।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

Check Also

কাম্য পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে

ইছমত হানিফা চৌধুরী মানুষ পরিবেশের অংশ। তাই তো পরিবেশ বিজ্ঞানী ডি, এইচ, লরেন্স বলেছেন ‘কার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x