Home / বিশেষ প্রতিবেদন / করোনা পরিস্থিতির উন্নতিতে বিক্রি বেড়েছে বেনারসির

করোনা পরিস্থিতির উন্নতিতে বিক্রি বেড়েছে বেনারসির

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিয়েসহ পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়েছে। এ কারণে শীতের শেষে বেচাকেনা বেড়েছে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের বেনারসি পল্লীতে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর করোনা মহামারি শুরু হলে মাস তিনেকের মতো দোকান বন্ধ রাখতে হয়। জুন-জুলাইয়ে ব্যবসা শুরু হলেও বড় অংকের ক্ষতি গুনতে হয়। তবে গত বছরের শেষে ও চলতি মাসে তাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। পুরোদমে বেচাকেনা চললে এক বছরের মধ্যে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের বেনারসি পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়।

 ক্রেতারা সকাল থেকে এসে মার্কেট বুঝে বিকেলে শাড়ি কিনে নিয়ে যান। এ জন্য সকালে শাড়ির দাম একটু কম বলেন। তবে সব মিলিয়ে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা দামের শাড়ির ক্রেতাই বেশি। 

বিক্রেতারা বলছেন, মিরপুর ১০ নম্বরের এ ব্লকের ২৫০টির বেশি দোকানে বেনারসি ও অন্যান্য শাড়ি বিক্রি হয়। পল্লীতে প্রবেশে করা হয়েছে ৪টি গেট। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর গেট সংলগ্ন দোকানগুলোতে বিক্রি বেশি।

এদিকে একটু ভেতরের দোকান ও মেট্রোরেলের কাজে বন্ধ থাকায় ৩ ও ৪ নম্বর গেটের দোকানগুলোতে বিক্রি তুলনামূলক কম। হাঁকডাক দিয়ে ক্রেতা ধরা ছাড়াও দেয়া হচ্ছে নানা অফার।

ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে বিক্রি

গত বছরের নভেম্বর থেকে বেনারসি পল্লীতে বিকিকিনি স্বাভাবিক হলেও চলছি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আশানুরূপ বিক্রি হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

ওয়েডিং গ্যালারির জুয়েল বলেন, আগের তুলনায় ব্যবসা অনেক উন্নতি হয়েছে। অন্যান্য মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসটা ভালো গেছে। অক্টোবর ও নভেম্বরে বিয়ের সিজনে অনেকেই অনুষ্ঠান করে নাই। তারা এখন অনুষ্ঠান করছে, আবার অনেকেই ঈদের জন্য আগাম শাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।

বেনারসি কুটিরের ম্যানেজার তাজুল ইসলাম বলেন, শীত শেষ। করোনা পরিস্থিতিও ভালো হচ্ছে। মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে, বিয়েসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান করছে। বেচাকেনা চলছে ভালো।

দিয়া শাড়ির ম্যানেজার রাজু বলেন, বছরের শেষে প্রচুর প্রবাসী দেশে এসেছে। তখন প্রচুর প্রোগ্রাম হয়। করোনার কারণে এবার একটু দেরি করে প্রবাসীরা ফিরেছেন। এবার চাপটা পড়েছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন যেহেতু এসে গেছে মার্চের পর থেকে বেচাকেনা আরও ভালো হবে।

বেশি দামের শাড়িতে আগ্রহ নেই, প্যাকেজ শাড়ি বিক্রি কম

করোনার কারণে খরচের হাত ছোট হয়েছে ক্রেতাদের এমনটাই দাবি ব্যবসায়ীদের। ক্রেতারা শাড়ির দাম কম বলছেন।

শাড়ি মিউজিয়ামের সেলসম্যান সাদ্দাম জানান, ১০-১৫ হাজার টাকার শাড়ির ক্রেতা কম। যারা শাড়ি কিনছেন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যেই কিনছেন। এমনকি ক্রেতারা শাড়ির দাম বলছেনও কম।

বেনারসি কুঠির ম্যানেজার তাজুল ইসলাম বলেন, ক্রেতাদের পকেট ছোট হয়েছে। এখন শাড়ির দাম বলে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতারা সকাল থেকে এসে মার্কেট বুঝে বিকেলে শাড়ি কিনে নিয়ে যান। এ জন্য সকালে শাড়ির দাম একটু কম বলেন। তবে সব মিলিয়ে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা দামের শাড়ির ক্রেতাই বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় আর অনুষ্ঠান কমে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন একাধিক শাড়ি কিনছেন না।

ওয়েডিং গ্যালারির জুয়েল আরও জানান, প্যাকেজ শাড়ির ক্রেতা একেবারেই কম। গায়ে হলুদ ও কনের পরিবারের জন্য ১৫-২০ শাড়ির কেনার চল ছিল, সেটা কমে গেছে। এখন বিয়ের শাড়ির সঙ্গে একটা দুইটা শাড়ি কিনেই কেনাকাটা শেষ করছেন।

ঢাকাই জামদানি শাড়ির মালিক মো বেলাল বলেন, সিম্পলের এক দুইটা শাড়ি কিনেই বিয়ের কেনাকাটা শেষ করছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রি বাড়ায় সামান্য লাভেই ছেড়ে দিচ্ছি।

ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কাতান, সিল্ক ও জামদানি

বড় ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে শাড়ি কিনতে এসেছেন মোহাম্মদপুর থেকে মিতালী বোস। মা, ছোটবোন, দুলাভাইসহ পরিবারের সাতজন এসেছেন শাড়ি কিনতে। তিনি বলেন, আমাদের অন্যান্য কেনাকাটা শেষ, আজকে শাড়ি কিনতে এলাম। একটা আটকাতান আরেকটা বেনারসি শাড়ি নিলাম, দামেও সন্তুষ্ট আমরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাতান, সিল্ক জামদানি তসর মসলিন এগুলো বেশি কিনছে ক্রেতারা। এছাড়া বেনারসির মধ্যে; কসমস বেনারসি, প্লেইন বেনারসি। কাতানের মধ্যে; আটকাতান, ফুলকলি কাতান, দুলহান কাতান, রেশমি কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, বেনারসি কসমস, অরগন্ডি কাতান, ব্রকেট কাতান, রেশমি কাতান, প্রিন্স কাতান, রিমঝিম কাতান, টিসু কাতানের চাহিদা আছে।

এছাড়া খাদি, কাঞ্চিপুরাম শাড়ির চাহিদাও রয়েছে। শাড়ি ভেদে ৩ হাজার থেকে শুরু করে কয়েকলাখ টাকার শাড়ি পাওয়া যায় দোকানগুলোতে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হাফিজ আহমেদ জানান, দোকানদাররা দাম হাতে রেখে কথা বলছে। সহজে কমাতে চাচ্ছেন না। যে শাড়ির দাম হওয়া উচিত ৬-৭ হাজার টাকা, সেটা ১০ হাজার টাকার নিচে দিতে চাইছে না।

ধীরে ধীরে বাড়ছে অন্য শাড়ি বিক্রি

বিয়ের শাড়ির পাশাপাশি সুতি, সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ির বিক্রি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাস আগে দিনে ১০ হাজার টাকার শাড়ি বিক্রি করতে কষ্ট হতো। এখন ১০-১২ হাজার টাকার শাড়ি বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকাই জামদানি শাড়ির মালিক মো বেলাল বলেন, বিয়ের শাড়ি সিজনে বিক্রি হয়। কিন্তু অন্য শাড়ি সব সময়ই বিক্রি হয়। ঘরে পড়ার জন্য কিংবা গিফটের শাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে।

তিনি বলেন, মাঝে একটু খারাপ সময় গেছে। এখন আবার সব ঠিক হচ্ছে। মানুষ আর কতদিন ঘরে থাকবে এভাবেই জীবনকে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।

Check Also

যেখানে এক বিদ্যুৎকেন্দ্রই ‘ভুলিয়ে দেবে’ লোডশেডিং, সেখানে আরও দুটি

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     যেখানে ১৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে লোডশেডিং কী, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *