Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / করোনাকালে অর্থনৈতিক সংকট ও উঠতি ধনিক শ্রেণি

করোনাকালে অর্থনৈতিক সংকট ও উঠতি ধনিক শ্রেণি

সালাম সালেহ উদদীন

করোনাকালে চরম সংকটে রয়েছে দেশের গরিব ও মধ্যবিত্তরা। গরিবরা রাস্তায় নেমেছে সাহায্যের জন্য, আর মধ্যবিত্তরা লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও গবেষকরা মধ্যবিত্তের একটা চেহারা দাঁড় করিয়েছেন আয় অথবা ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে; কিন্তু বাংলাদেশে এ করোনায় ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত চেনা যাচ্ছে চাকরি ব্যবসা হারিয়ে ভাড়াবাড়ি ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার মধ্যদিয়ে। মধ্যবিত্ত অভাবের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না, তারা কারও কাছে হাত পাততে পারে না। না খেয়ে থাকলেও বলতে পারে না কারও কাছে। পরিসংখ্যান বু্যরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০.৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল আর চরম দরিদ্র ছিল ১০ ভাগ। করোনাকালে এ পরিসংখ্যান বদলে গেছে। দরিদ্র বেড়েছে শতকরা ১০ ভাগ। কেবল দরিদ্রের সংখ্যা বাড়েনি দেশে নব্য কোটিপতির সংখ্যাও বেড়েছে। দেশে নব্য কোটিপতি দশ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৪ গুণ। সবচেয়ে কোটিপতি বেড়েছে ২০১০ সালে। বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি পৌনে দুই লাখের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকার অধিক আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে আমানতকারী ৮০ হাজার ৩৯৬ জন এবং ঋণগ্রহীতা ৯৬ হাজার ৩৬০ জন। অন্যদিকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন (আমানতকারী ১৯,১৬৩ ও ঋণগ্রহীতা ২৫,২০৬)। এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৬৮ হাজার ১৩৭ জন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের আমলেই কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবার রাষ্ট্র ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে একশ্রেণির নব্য কোটিপতির উত্থান ঘটছে। অন্যদিকে ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ। দেশে অসম ও অসুস্থ পুঁজির বিকাশের কারণেই নব্য ধনিক শ্রেণির উত্থান। দেশব্যাপী দুর্নীতির কারণেও এমনটা হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের ৪৮.৪ শতাংশ বেসরকারি চাকরি করেন। ২০ শতাংশের বেশি সরকারি চাকরি করেন প্রায় ২২ শতাংশ ব্যবসা করেন। ২০১৯ সালের জুন মাস শেষে অতি গরিব বা হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের কিছুটা বেশি। করোনাকালে এ সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘কোভিড-১৯ এর কারণে দরিদ্র মানুষের বেহাল অবস্থা। লকডাউনের ৬৬ দিনে নব দরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ছয় কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৭ কোটি। আর সব মিলিয়ে করোনা পূর্ববর্তী সময়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা সোয়া তিন কোটির কিছু বেশি। দেশের জনসংখ্যা যখন চরম দারিদ্র্যের সীমা অতিক্রম করে, তখন তারা সাধারণ দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। তারপরের ধাপ নিম্নমধ্যবিত্ত, তারপর মধ্যবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্ত। পরের ধাপ উচ্চবিত্ত। শুধু যদি আর্থিক সক্ষমতার নিরিখে বিচার করা হয়, তাহলে মধ্যবিত্তের শতকরা ৬০ ভাগ করোনাকালে বিপদে রয়েছে। বৈশ্বিক এ মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত; কাজ হারিয়েছেন ও হারাচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। এর একটি বড় অংশ থেকে এ মধ্যবিত্ত। তাদের হাতে বাড়তি অর্থ তো থাকছেই না; বরং মৌলিক চাহিদা মেটানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের। করোনাকালে মধ্যবিত্তের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাদের ইচ্ছা পূরণের জায়গাগুলো ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে পড়ছে। তাদের মৌলিক চাহিদা ও স্বপ্ন প্রতিনিয়ত মাঠে মারা যাচ্ছে। তারা হয়ে পড়ছে হতাশাগ্রস্ত দিশাহারা। ছোট হয়ে যাচ্ছে তাদের মনও। কেবল অর্থনৈতিক কারণে অনেক পরিবারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শারীরিক নির্যাতন, হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। যার সরল কথা হচ্ছে- মহামারিকালে গরিবের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা এখন ভর করেছে মধ্যবিত্তের ওপর। করোনার কয়েক মাসে জীবনযাত্রার মান নেমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত এখন নিজের পতন নিজেই দেখছে আর হতাশ হচ্ছে। মূলত মধ্যবিত্তের জীবন এখন হতাশার কাফনে মোড়া। কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা। কেউ আবার সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন।

মধ্যবিত্তের সংকট সমস্যা টানাপড়েন যেভাবেই বলি বা ব্যাখ্যা দিই না কেন, এটা আর্থ-সামাজিক ও পারিবারিক। তবে মূল সংকট হচ্ছে অর্থনৈতিক। প্রশ্ন উঠতে পারে মধ্যবিত্তের এ অবস্থার জন্য দায়ী কে? কেবল কি করোনা মহামারি? নিজেদের ভুল ও উচ্চাভিলাস তো আছেই। পাশাপাশি সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। সমাজে মধ্যবিত্ত এমন একটি শ্রেণি যারা সীমিত আয়ের মানুষ। অথচ জীবনযাত্রার মান বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া, বাস ভাড়া, গ্যাস, বিদু্যৎ পানির দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্তের অবস্থা বড়ই করুণ। করোনাকালে বাসা ভাড়া দিতে না পেরে অনেক মধ্যবিত্ত গ্রামে চলে গেছেন। গ্রামে গিয়েও তাদের শান্তি নেই স্বস্তি নেই। গ্রামের মানুষ তাদের আগের মতো গ্রহণ করছে না। এমনকি আত্মীয়-স্বজনরাও। তা ছাড়া করোনাকালের আগে থেকেই তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে এখন বিশাল ব্যবধান। কেবল অর্থের কারণেই মধ্যবিত্ত তাদের সন্তানদের দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াতে পারে না, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা তো দূরের কথা।

মধ্যবিত্তের একমাত্র উপার্জনক্ষম যে ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে, অথবা যে মহিলা বিধবা, এদের যে অংশ ব্যাংক কিংবা সঞ্চয়পত্রনির্ভর তাদের অবস্থা কেমন? এ প্রশ্নের উত্তর সুখকর নয়। আর যে অংশ তাদের পুঁজি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে তাদের অবস্থাই বা কেমন? এ প্রশ্নও অনায়াসে সামনে চলে আসতে পারে। শেয়ারবাজারে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশির ভাগই এখন পথে বসেছে। শেয়ারবাজার একটি সংবেদনশীল বাজার। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণেই বাজারে ধস নামতে পারে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো কারসাজি করে শেয়ারের দাম বাড়ানো এবং পরে দরপতন ঘটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। এর ফলে দেশের ৩০ লাখ পরিবার পথে বসেছে। একাধিক ব্যক্তি আত্মহত্যাও করেছে।

ব্যাংক আমানতে মুনাফার হার কমে যাওয়া এবং পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রত্যাশায়। সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমিয়ে দিয়েছে। এর আগে সরকার নারী তথা গৃহবধূদের মধ্যে সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তুলতে পরিবার সঞ্চয়পত্র চালু করেছে। এটাও একটি ভালো উদ্যোগ। তবে পরিবার সঞ্চয়পত্রসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে মূলত আঘাত এসেছে মধ্যবিত্তের ওপর। অন্যদিকে ব্যাংকের সুদের হার নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। এ অবস্থায় করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এভাবে তারা কতদিন বেঁচে থাকতে পারবেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মধ্যবিত্তের খরচের তিনটি দিক বেশ ব্যয়বহুল। বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও খাদ্য। যারা রাজধানী ঢাকায় থাকেন তাদের কথা বলাই বাহুল্য। কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতি বছর বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষা পরিস্থিতিও একই। যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালান তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক মানসিকতা অত্যন্ত প্রকট। তারা নানা অজুহাতে অভিভাবকদের গলা কাটছে। করোনাকালেও তারা বেতন নিচ্ছেন। অনলাইনের নামে যা পাঠদান করা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের কতটুকু কাজে আসছে, তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে না। আর খাদ্য! নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণেও দেশের মধ্যবিত্তের দিশাহারা অবস্থা। মধ্যবিত্ত তাদের সঞ্চয় থেকে যে মুনাফা পায়, দেশের মূল্যস্ফীতি তার চেয়ে বেশি। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার। মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ চিকিৎসা খাতে চলে যায়। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারই পথে বসেছে। নিত্যপণ্যের বাজারে চাল-আটা, মাছ-মাংস, সব কিছুর দামই এখন ঊর্ধ্বমুখি। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’- কথাটা পুরনো হলেও এর উপযোগিতা বা অনিবার্যতা এখনো হারিয়ে যায়নি। এ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত-মাছ। মাছ-ভাতনির্ভর বাঙালি যদি চাহিদা মতো এসব কিনতে না পারে কিংবা কিনতে হয় উচ্চমূল্যে- তবে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। বাজারে নাজিরশাইল, মিনিকেট, মোটা চাল সব ধরনের চালের দাম এখনো অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে সরকার চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। বেশ কিছু শর্তে বেসরকারি খাতে চার লাখ ৮৭ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এটা দেশের জন্য সুসংবাদ নয়। এই উদ্যোগের ফলে চালের দাম কমলেও, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ স্স্নোগান আর টেকসই হলো না।

পাশাপাশি বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম। এসব সামাল দিয়ে সমাজের গরিব ও মধ্যবিত্তরা কীভাবে জীবনযাপন করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে ধনিদের এ সংকট নেই। বাংলাদেশের অগ্রসরমান মধ্যবিত্ত করোনাকালে দারুণভাবে বিপর্যস্ত। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত শ্রেণি হয়তো নানা সাহায্য সহযোগিতা, নয়তো নানা রাষ্ট্রীয়-সামাজিক বলয়ের মধ্যদিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাবে; কিন্তু কয়েক দশকের অভ্যাস আর মানস গঠনের কারণে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে না। প্রশ্ন হচ্ছে- এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি কেন এত দ্রম্নত বিপদে পড়ছে? তারা কেন আর্থিকভাবে এত তাড়াতাড়ি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে, কেন তাদের নিম্নগামিতা এত দ্রম্নত ঘটছে? সেটা ভাবার বিষয়। আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা নিজেদের একটা মোড়কের মধ্যে আটকে রাখতে অভ্যস্ত। সেই মোড়ক আত্মসম্মানের, কিছুটা অহমিকার, কিছুটা মিছে প্রহেলিকার চাদরে ঢাকা। সংকটে পড়লে তারা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন ঠিকই; কিন্তু সবার অলক্ষ্যে সেই সংকট থেকে মুক্তি চান, মুক্ত হওয়ার পথ খোঁজেন- কখনো পেয়ে যান, কখনো-বা পান না। যখন পান না, তখন যন্ত্রণা নিজের মধ্যে চেপে রেখে আগুনে তপ্ত হন, দগ্ধ হন; কাউকে কিছু বলেন না- যতক্ষণ সেটা অনিবার্য সহ্যসীমা অতিক্রম না করে। ফলে তার সমস্যা সবার সমস্যা হয়ে ওঠে না। মধ্যবিত্ত সংগঠিত শক্তি হয়ে ওঠে না। তাদের দাবি সামগ্রিকভাবে দানা বাঁধতে সময় লাগে; আদায় হতেও তাই সময় লাগে অনেক; অথবা অনাদায়ই থেকে যায়। করোনার সময়ে সৃষ্ট আর্থিক সমস্যা তারা নিজেরা সামলানোর চেষ্টা করছেন। এটা এখনো তার নিজের সমস্যা, নিজেদের সমস্যা; সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সমস্যায় রূপ নেয়নি। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধানের লক্ষণীয় উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। আর্থিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ তার আয়ের একটা অংশ প্রতি মাসে জমিয়ে রাখবেন, যা আস্তে আস্তে একটা বড় সঞ্চয়ের প্রবাহ সৃষ্টি করবে। পরে সেই সঞ্চয় দিয়ে বিপদকাল সামাল দিতে পারবে। মধ্যবিত্ত ভাবেনি করোনা সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে- শুধু করোনা নয়; অন্য যেকোনো ধরনের সমস্যা হতে পারে। দেখা যাচ্ছে, আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার পেছনে। ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্য ভালো জায়গায় বাসা ভাড়া নিতে হচ্ছে। ভালো বাসা, ভালো পরিবহণ, ভালো রেস্তোরাঁ, ভালো কফিশপ, ভালো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, ভালোভাবে অতিথিদের আপ্যায়ন করা- এসব করতে গিয়ে সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে খরচ। ফলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বাড়ছে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ বাড়ছে। ফলে প্রতিমাসে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে, পরিবারের ঋণ বাড়ছে। মধ্যবিত্তকে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে নিজেদের দিকে একটু সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। ঋণ করে ঘি খাওয়া বা খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে বা কমিয়ে আনতে হবে; নিজের আয়সীমার দিকে সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

করোনার কারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের বিকাশ থেমে গেলে সেটা সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়। করোনাকালে শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তবে অতি ধনী শ্রেণির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ এখন ‘উচ্চ আয় বৈষম্য’ এবং ‘বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের’ দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যদিয়েই এর প্রমাণ মেলে। এর ফলে গরিব ও মধ্যবিত্তরা আরও চাপের মুখে পড়বে। তাদের জীবনযাপনে ধস নামবে। সমাজে বৈষম্য বাড়বে। এটা আর যা-ই হোক সুস্থ অর্থনৈতিক প্রবাহ কিংবা বিকাশ নয়।

Check Also

শেখ হাসিনাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কারিগর

তাপস হালদার আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতার একযুগ পূর্তি। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *