Home / জাতীয় / পানগাঁও আইসিটি থেকে একজন সৎ যুগ্ম কমিশনারকে সরাতে ষড়যন্ত্রে সংঘবদ্ধ চক্র – আড়ালে প্রভাবশালী মহল

পানগাঁও আইসিটি থেকে একজন সৎ যুগ্ম কমিশনারকে সরাতে ষড়যন্ত্রে সংঘবদ্ধ চক্র – আড়ালে প্রভাবশালী মহল

ঢাকার ডাক ডেস্ক : রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) থেকে অন্যায় সুবিধা না পেয়ে এক যুগ্ম কমিশনারকে সরাতে উঠে পড়ে লেগেছে এক প্রভাবশালী মহল। ভূক্তভোগী যুগ্ম কমিশনারের নাম মো. লুৎফুল কবির। এই মহলটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে এস আর ও এর বেনিফিট প্রদান করে পণ্য চালানসমূহ খালাস প্রদানে বাধ্য করা সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছে। সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু লুৎফুল কবির যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর গত সাত (৭) মাসে তাদের এসব অপকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অন্যায়ভাবে তাদের অপকর্মে সহায়তা করতে অস্বিকৃতি জানান এবং লিখিতভাবে পানগাঁও কাষ্টমস কমিশনার ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে সব জানান। এতে করে ঐ প্রভাবশালী মহল তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যুৎসা রটিয়ে তাকে সরাতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে রাজস্ব ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে মো. লুৎফুল কবিরকে অবিলম্বে অব্যাহতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাকাএভ) ও তাদের অন্তর্ভুক্ত তিনটি কর অঞ্চলের কর্মীরা। সোমবার সকালে জাতীয় রাজস্ব ভবন (এনবিআর) কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা জানান, যুগ্ম কমিশনার মো. লুৎফুল কবির গত বুধবার অফিস রুমে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের সামনে এক রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এনবিআর থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় সারাদেশে সহকারী কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যুগ্ম কমিশনার মো. লুৎফুল কবিরের অব্যাহতিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। আর দাবি আদায় না হলে সাময়িক কর্মবিরতিসহ আরও কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান তারা। বাকাএভের আহবায়ক খন্দকার লুৎফুল আজম, সদস্য মো. মজিবুর রহমানসহ কাস্টমাস এক্সাইজ ও ভ্যাটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

অথচ প্রকৃত ঘটনা তার উল্টো। ঢাকার ডাক অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে, গত বুধবার TVS অটোর এস আর ও সুবিধার আওতায় চালান খালাসের প্রক্রিয়ায় যুগ্ম কমিশনার বাধা দিলে তার সিপাহীকে অন্যত্র সরিয়ে তাকে রুমে দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রাখা হয়। উল্লেখ থাকে যে, বর্তমান বছরের বি/ই নং- C- 2156, C- 2082, C- 2255, C- 2088 সহ মোট ১০৬ টি বিল অব এন্ট্রি টিভিএস অটোর নামে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। যা প্রত্যেকটি চালানে উক্ত আরও / এআরও গণ কোটি কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহন করে মোটরসাইকেল সংক্রান্ত এস আর ও এর বেনিফিট প্রদান করে পণ্য চালানসমূহ খালাস প্রদান করে। এছাড়াও, সম্প্রতি TVS অটো ভারত থেকে চেসিস ক্রয় করছে, পাশাপাশি হুইলের সাথে সংযুক্ত টায়ারও নিয়ে আসছে যা এসআরও বহির্ভূত। এ বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার বাধা প্রদান করলে রাজস্ব ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা তাকে রুমে অবরুদ্ধ করে বাইরে থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করে। বিষয়টি নজরে এলে বুধবারই ঢাকার ডাক এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পানগাঁও কাষ্টমস কমিশনার নুরুজ্জামানকে ( মোবাইল নং- ০১৭১১-৩৯০২১৮) কল দেওয়া হলে তিনি মিথ্যাচার করেন। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অফিসে স্টেক হোল্ডারদের সাথে মিটিং করছি বলে ঢাকার ডাককে জানান। যুগান্তরের একজন রিপোর্টার বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বাসায় আছেন বলে অভিহিত করেন এবং পরবর্তী দিন (বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর-২০২০) অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখবে বলে জানান। এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনারের নীরব ভূমিকা সন্দেহাতীত।

কাষ্টমস সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২০) কমিশনার নিজে যুগ্ম কমিশনারের মো. লুৎফুল কবিরের রুমে ঢুকে তার সিপাহীকে দিয়ে ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে তার সিল ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যায় এবং কিছু কিছু কাগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেয়। কমিশনার অফিসের মিটিং রুম তার বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে মিছিল-মিটিং, অতিরিক্ত কমিশনারের সাথে আতাত করে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতানোর জন্যই একজন সৎ বিসিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এহেন আচরণ সত্যিই দু:খজনক। কমিশনার-অতিরিক্ত কমিশনার চাইলে শুরুতেই এই পরিস্থিতির সমাধান করতে পারত তা না করে আগুনে ঘি ঢেলেছে স্বয়ং কমিশনার। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘেরাও করে রাখা, অবরুদ্ধ রাখা, মিডিয়াতে কথা বলা, প্রপাগান্ডা ছড়ানো-এসব সরকারী চাকরিবিধীর চরম লঙ্ঘন। অথচ কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকার ডাক এর অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল রেভিনিউ অফিসার (RO) ও সহকারী রেভিনিউ অফিসারদের (ARO) হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের ঘুষ-দুর্নীতি বাণিজ্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার সহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা। পানগাঁও কাষ্টমস সূত্রে জানা যায়, রেভিনিউ অফিসার ভবেষ চন্দ্র বিশ্বাস, রেভিনিউ অফিসার কাজী হাবিবুর রহমান, সহকারী রেভিনিউ অফিসার মাসুদুর রহমান ওরফে বোমা মাসুদ, সহকারী রেভিনিউ অফিসার আরিফুর রহমান ও সহকারী রেভিনিউ অফিসার হেলালের নেতৃত্বে চলে এসব সিন্ডিকেটের অপকর্ম। তাদের অন্যায় কাজে কেউ বাধা দিলে অপমান-অপদস্থ, অবরুদ্ধ করে রাখা, কর্মবিরতি পালন করে কাষ্টমস এর স্বাভাবিক কাজকর্মে স্থবিরতা সৃষ্টি করা তাদের এক ধরণের রুটিন ওয়ার্ক। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বেই সোমবার এনবিআর এর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। শুধু তাই নয়, তারা অর্থের বিনিময়ে কিছু অখ্যাত/দুর্নীতবাজ সংবাদমাধ্যমে ভূয়া সংবাদ প্রচার করে আসছে। আর এসব কর্মকান্ডের পেছনে অর্থায়ন করছে TVS মোটরসহ পুরান ঢাকার কিছু অসাধু আমদানিকারক।

যুগ্ম কমিশনারকে সহযোগিতা না করে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকিতে আরও/এআরও’রা এহেন কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে, যাতে সহযোগিতা করছে উচ্চ পদস্থ অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। TVS অটোর ১০৬টি বিল অব এন্ট্রি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক পুণ:যাচাই করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা জাতীয় স্বার্থে জরুরী।

Check Also

মুজিববর্ষে এটিই আমাদের বড় উৎসব : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     মুজিববর্ষে ৯ লাখ পরিবারকে বাড়ি করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *