Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / বাজারে নিত্য পণ্যের অসহনীয় মূল্য বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের করণীয় – সম্পাদকীয়

বাজারে নিত্য পণ্যের অসহনীয় মূল্য বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের করণীয় – সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

যে সকল নিত্য পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে যেমন : চাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, মাছ, দেশী মুরগী, গরুর মাংস, এ সকল পণ্য ন্যূনতম এক সপ্তাহ ০৭ (সাত) দিন না কিনে ভোক্তাগণ যদি একটু কষ্ট করে চলে বা খাদ্যাভাসে কিছুটা পরিবর্তন আনে তবে মনে হয় বাজারের এই তেজীভাব ভবিষ্যতে কিছুটা হলেও নিম্নমূখী হবে। আমরা দেখেছি কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী পিয়াজ সংরক্ষণ করেছিল যা পরবর্তীতে চারা অর্থাৎ গাছ গজিয়ে ১০০ টাকা থেকে এখন ৪০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। ঠিক এভাবে ০৭ (সাত) দিন আমরা যদি আলু কেনা বন্ধ করে দেই, দেখা যাবে তাতেও আলুর চোখ গুলোতে চারা গজাবে, ফলে আলু খেতে মিস্টি লাগবে, শক্ত হয়ে যাবে, যার চাহিদা পূর্বের চেয়ে অনেক কমে যাবে। সেরূপ কাঁচামরিচও বেশী দিন গাছে থাকলে পেকে যাবে, গাছ থেকে ছাড়ানো থাকলে পঁচে যাবে, তাই অন্তত:- ০৭ (সাত) দিন যদি আমরা ভোক্তাগণ এই নিয়ম মেনে চলি তবে নিত্য প্রণ্যের উর্ধ্বগতি অবশ্যই নিম্নমূখী হবে বলে আমরা মনে করি।

তদরূপ মাছ-মাংস-মুরগী যাই হোক না কেন সিন্ডিকেট করে যখন যেই পণ্যের দাম বাড়ানো হবে ঠিক তখন ঐ পণ্য ০৭ (সাত) দিনের জন্য সীমিত আকারে ক্রয় বা সম্পূর্ণ বর্জন করলে অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে কালোবাজারী মজুদদাররা যদি এক হয়ে জনগনের স্বার্থ বিরোধী তথা রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করে জনগণের উচিৎ সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। সরকার কখনোই জনগণের বাইরের কেউ নয়। সরকারের মূল উপাদান হচ্ছে জনগণ তাই আমাদের সকলেরই উচিৎ স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। আমাদের কাছে কেউ যদি ১২টি কলা ১২০ টাকা চায় আমাদের উচিৎ হবে প্রকৃত মূল্য দিয়ে কেনা যদি না হয় আমরা ০৭ (সাত) দিন ঐ পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা। এভাবে আমরা সাধারণ ভোক্তারা যদি সচেতন হই তবে সামান্য পরিমাণে হলেও সকলেই উপকৃত হবো বলে আমি মনে করি। আমরা ক্রেতা/ভোক্তাগণ যখন দেখি যে কোন পণ্যের দাম একটু বেশী, আমরা অস্থির হয়ে ঐ পণ্য মাত্রাতিরিক্ত কিনতে শুরু করি। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রচার- প্রচারনা থাকলেও আমরা কেউই তা মানছিনা। ফলে বাজারে অস্থির ভাব পরিলক্ষিত হয়। সুযোগটি গ্রহন করে এক শ্রেণীর কালোবাজারী, আড়ৎদার/মজুৎদাররা, আর আমরা দোষারোপ করি সরকারের নজরদারী নেই।

কেউ কি কোন দিন এমন করেছেন যে, যে কোন পণ্যের দাম বেশী হলে তা না কেনা বা অল্প করে কেনা? করেননি। তাই বলছি আমরা নিজেরাই কিন্তু পারি কাউকে দোষারোপ না করে কালোবাজারী মজুদদারদের ঠেকাতে। জনগণ/সাধারণ ভোক্তাগণ চাইলে যে কোন বিষয়ই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। এতে সরকার তথা ভোক্তা অধিকার আইন করে কিছুই হবেনা কেননা আমরা ভোক্তারাই যখন বেহুস তখন আইন করে কি সমাধান করা যাবে? দেশে তো অনেক আইনই প্রচলিত রয়েছে, আমরা কোন আইনটিই পালন করছি বা মানছি। শুধু শুধু সরকারকে দোষারোপ করে কি লাভ। পুলিশ দিয়ে জোর করে আইন মানানো কতটুকু সম্ভবপর। আমরা যদি নিজেরাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হই, শুধু নতুন নতুন আইন করাই যাবে, কিন্তু ফলাফল হবে মাত্রাহীন শূন্য। একটি কথা না বললেই নয়, কোন পণ্যের দাম তখনই বৃদ্ধি পাবার কথা যখন চাহিদার তুলনায় তার সরবরাহ কম থাকে, কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাজারে আগাম শীতকালীন শাক-সবজিসহ, মাছ, মাংস, মুরগী, চাল, ডাল কোন কিছুরই কমতি নেই, প্রচুর সরবরাহ রয়েছে, যা দাম হাঁকা হচ্ছে আমরা তাই দিচ্ছি। কখনোকি সকল ভোক্তা মিলে প্রতিবাদ করেছি, যে কেন বেশী দাম চাওয়া হচ্ছে? কখনোকি না কিনে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি? তাই আসুন যে পণ্যের দাম বেশী চাইবে ০৭ (সাত) দিন- মাত্র ০৭ (সাত) দিন সেই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকি, আশা করি সুফল অবশ্যই পাওয়া যাবে।

আরেকটি কথা না বললেই নয়, মিডিয়ার কারনেও অনেক সময় পণ্যের দাম উর্ধ্বমূখী হতে দেখা যাচ্ছে। যেমন একটি পণ্য আগাম শিম কোন বাজারে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোন কোন মিডিয়াতে সরাসরি দেখানো হচ্ছে হাতিরপুল বাজারে ১৯০-২১০ টাকা প্রতি কেজি। সাথে সাথেই সকল বিক্রেতা সচেতন- দাম হাঁকাচ্ছে আগাম শিম প্রতি কেজি ২১০ টাকা, এবার আপনারাই বলুন দোষ কি ঐ বিক্রেতার? বাজারে ভিন্নতায় প্রতি কেজি পণ্যের দামের তারতম্য কত হতে পারে? কত হওয়া উচিৎ? একজন বিক্রেতা প্রতি কেজি নিত্য পণ্যের উপর কত টাকা লাভ করবে বা করা উচিৎ? এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে আমরা যদি কেনাকাটা করি তাহলে ভোক্তা অধিকার আইন বা কমিটি বা সরকারের কোন তদারকী প্রয়োজন হবে বলে মনে হয় না। তাই যেখানে যে পণ্যের দাম আপনার মনে হবে অস্বাভাবিক অন্তত: ০৭ (সাত), মাত্র ০৭ (সাত) দিন সেই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন। নিশ্চয়ই আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া প্রতিটি কাঁচা বাজারে মূল্য তালিকা দেয়া আছে আপনি তার বাইরে বা বেশী মূল্যে কখনোই কোন প্রকার পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকবেন।

Check Also

বিজ্ঞান গবেষণা, সহযোগিতা ও অর্থায়ন বৃদ্ধিতে ইউনেসকোর আহ্বান

বিধান চন্দ্র দাস পৃথিবীজুড়ে এখন বড় দুঃসময় চলছে। বিগত কয়েক মাসে আমাদের চেনা পৃথিবীটা অনেকটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *