Home / জাতীয় / পেনশন-বেতন জটিলতা : অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার বাতিলের দাবি

পেনশন-বেতন জটিলতা : অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার বাতিলের দাবি

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল ধরেই বেতন, ছুটি, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের কথা রয়েছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সার্কুলার জারি করেছে- ‘প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়ার সুযোগ সেই’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ২০ শতাংশ কমে গেছে, কমে গেছে বেতনও। একই সঙ্গে পেনশন নিষ্পত্তিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তাই অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত দুটি সার্কুলার বাতিলের দাবি জানিয়েছে গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ।

অর্থ বিভাগের সার্কুলার বাতিলের দাবি জানিয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সহজ ও সরলীকরণ নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা ২০০৫’ এ বলা হয়েছে, নিয়মিতকৃত কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীর উন্নয়ন প্রকল্পে চাকরিকালে তার বেতন, ছুটি, পেনশন ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে।’

এতে বলা হয়, ‘উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই বলে ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে মতামত দেয় অর্থ বিভাগ।’

কিন্তু বিধিমালার সঙ্গে অর্থ বিভাগের এই মতামত সাংঘর্ষিক ও পরস্পরবিরোধী জানিয়ে এর সমাধানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ধর্না দেন।

পরে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিষয়টি স্পষ্ট করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অর্থ বিভাগ আরেকটি চিঠিতে জানিয়েছিল, ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ অর্থ বিভাগ যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল তা ২০০৫ সালের বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অসঙ্গতিপূর্ণ নয়।

অর্থ বিভাগের ১৯৮৪ সালের ১ ডিসেম্বরের অফিস স্মারক অনুযায়ী, আত্তীকৃত বা দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কর্মরতদের চাকরিকাল অনুসারে অর্থাৎ চাকরির ৮, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে পরপর তিনটি উচ্চতর স্কেল দেয়ার বিধান রয়েছে। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উচ্চতর স্কেল সুবিধা ভোগ করছিলেন। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন দফতরে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে নিয়মিত হওয়া শত শত অবসরমুখী ও পেনশনগামীদের পেনশন তোলায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই মতামত ও ব্যাখ্যা প্রত্যাহার কিংবা পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ কোনো প্রশাসনিক আদেশ জারি না করায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরগুলো পেনশনের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে পারছে না। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকেও পেনশনের আবেদনগুলো অহেতুক আটকে দেয়া হচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পেনশনগামী ও অবসরমুখী কর্মচারীদের পেনশন থেকে অন্যায়ভাবে ২০ শতাংশ কেটে রাখা হচ্ছে জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মচারীদের বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেলের আগে দেয়া তিনটি উচ্চতর বেতন স্কেল পাওয়ার সময় পার হলেও তা দেয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নতুন করে সমন্বয় করে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সংকট ও চরম ভোগান্তিতে দিন পার করতে হচ্ছে বলেও স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এসআরও-মূলে জারি করা বিধিমালাকে সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আদেশ, সার্কুলার, মতামত বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে কখনওই অতিক্রম করা যায় না বলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।

১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিলে থেকে ১৯৯৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্প থেকে যারা রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত হয়েছেন তাদের উন্নয়ন ও রাজস্ব উভয় চাকরিকালের ভিত্তিতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়া বন্ধ করা সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের দুটি সার্কুলার বাতিলের দাবি জানানো হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে।

Check Also

দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়াল

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *