Breaking News
Home / রাজনীতি / ‘ঢাকার যেখানে যাই সড়কের অফিস’

‘ঢাকার যেখানে যাই সড়কের অফিস’

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা শহরজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসবের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? যেখানে যাই সেখানেই সড়কের অফিস, প্রকল্পের অফিস। বেইলি রোড, বনানী, গুলশান, বনানী কবরস্থানের পাশে, শ্যামলী, মিরপুর, কত প্রয়োজন? তাহলে আলাদা করে সড়ক ভবন কেন? ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের সময় অফিসসহ অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এবং অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সভায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাস, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর তৃতীয় শীতালক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধন করলেও কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কাদের বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর সঙ্গে দুই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে। সৌদি ফান্ডের অর্থছাড়ে বিলম্বসহ করোনা এবং অন্যান্য কারণে প্রকল্পের ধীরগতি রয়েছে। আশা করি এ সেতুর নির্মাণকাজ এখন গতি পাবে।

মন্ত্রী বলেন, আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ঢাকায় অফিস করেন। সেতু নির্মিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে আর প্রকল্পের অফিস কেন ঢাকায়? এটিও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বিত হওয়ার একটি কারণ। আমি আগেও বলেছি আজও বলছি। প্রকল্প এলাকায় অফিস থাকবে, ঢাকায় নয়।

ভারত বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আমাদের সম্পর্ক একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ। বর্তমানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ, মসৃণ ও ভবিষ্যৎমুখী। ভারত আমাদের বড় প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে পিপল পিপল কানেক্টিভিটি শুদ্ধ হলে দুই দেশের মধ্যকার অনেক অমীমাংসিত সমস্যা সহজে সমাধান সম্ভব। দীর্ঘদিন দুই দেশের সম্পর্ক কোনো কোনো সরকার বৈরিতার পর্যায়ে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনা সরকার কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে বৈরিতার বিপরীতে গড়ে তুলেছে আস্থার সম্পর্ক। পারস্পরিক উন্নয়নে এগিয়ে নিতে এখন একে অপরের সহায়ক। তারই ধারাবাহিকতায় ঋণ কর্মসূচির আওতায় আমরা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছি কিছু প্রকল্প।

তিনি জানান, ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট বা এলওসি ওয়ান এর আওতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প ছিল, যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসির জন্য ৪২৮টি ডাবল ডেকার, সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস ও আর্টিকুলেটেড বাস সংগ্রহ করা হয়। এলওসি-২ এর আওতায় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় চারটি প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে দুটির কাজ বা প্রকিউরমেন্ট শেষ হয়েছে। দুটি চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে ২৫টি প্যাকেজের আওতায় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে নানা কারণে। আমি যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কার্যক্রম জোরদারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিচ্ছি।

তিনি জানান, এলওসি-৩ এর আওতায় বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ক (১৩৫ কি.মি) চার লেনে উন্নীতকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। ইতিমধ্যে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান। এটি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় তিনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী বলেন, এলওসি ছাড়াও ভারতের অনুদানে বিবির বাজার থেকে সোয়াগাজী পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে ভারতের সম্মতি গ্রহণের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আমি ভারতের হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এ বিষয়ে। সচিব মহোদয় ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পসমূহের কাজ শুরু হতে বেশি সময় লাগছে। সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতি, ইন্ডিয়ান এক্সিম ব্যাংকের কনকারেন্সসহ আমাদের অংশের কার্যক্রম সব মিলিয়ে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এলওসির আওতায় প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে বিশেষ নজর দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ প্রকল্পগুলো দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে আগ্রহী যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে তা এগিয়ে নিতে হবে উন্নয়নের স্বার্থেই। দাফতরিকসহ অন্যান্য যোগাযোগ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন আমি কথা বলব।

মন্ত্রী এ সময় এলওসির কাজে প্রকল্পভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের নির্দেশনা দেন।

Check Also

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কৃত্রিম দেয়াল এখন আর নেই : কাদের

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কৃত্রিম দেয়াল এখন আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *