Breaking News
Home / অর্থনীতি / রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ২১,৫০০ কোটি টাকা কাটছাঁট

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ২১,৫০০ কোটি টাকা কাটছাঁট

অর্থনীতি ডেস্ক :  করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চাপে পড়েছে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হচ্ছে। কমিয়ে আনা হয়েছে আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, বছর শেষে প্রকৃত বাস্তবায়ন সংশোধিত লক্ষ্যর চেয়েও অনেক কম হবে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। প্রথম দশ মাসে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও কম। এমন অবস্থায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে সংশোধিত বাজেটে। ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করবে ৩ লাখ ৫শ’ কোটি টাকা।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনা ভাইরাস পরবর্তীকালে বিশেষ করে বৈশাখ মাসের বিক্রি এবং ঈদের বিক্রি, এই দুটি বড় মৌসুম মিস হয়ে গেছে। এর ফলে ভ্যাট আদায় তো অনেক ঘাটতি হবে। সেটার কোনো রকম প্রতিফলন সংশোধিত লক্ষ্যে দেখা যাচ্ছে না। আমার ধারণা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় আরও ৮০ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম হতে পারে।’

আয় কমে যাওয়ায় ব্যয়ও কাটছাঁট করতে হয়েছে সরকারকে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৯ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা কমানো হয়েছে আগেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। কমে গেছে অনুন্নয়ন ব্যয়ও। ২০১৯-২০ অর্থ যেখানে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তা কাটছাট করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

সাউথ এশিয়ান নেটওর্য়াক অন ইকোনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘প্রকৃত যে বাজেট সেটা হয়তো আরও পরে আমাদের সামনে আসবে। এখানে প্রস্তাবিত এবং সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়ন হবে, সেটার ব্যাপারে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাবে। কারণ আমরা অতীতে যে বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি। প্রস্তাবিত বাজেট ৭৭ থেকে ৭৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে চলতি বছর বাস্তবায়নের হার আরও কমে আসবে। আমি মনে করি, সংশোধিত বাজেট আরও বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত।’

২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরুতে সরকার ১ লাখ ৪১ হাজার ২১১ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির হিসাব করেছিল। সংশোধিত বাজেটে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬শ ৯ কোটি টাকায়। বৈদেশিক উৎস ঋণ ধরা হয়েছিল ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, সংশোধন করে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের পরিমান ২৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা।

তবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণের পরিমান ২৫ হাজার ৬১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট ছিল এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও কিছুটা অর্থায়ন করা হচ্ছে। কাজেই ব্যাংকগুলোর পক্ষে বিল ও বন্ড কিনে সরকারকে অর্থায়ন করা কতটা সম্ভব হবে সেটা বলা মুশকিল। তবে সেটা সহজ হবে না। এজন্য আমরা যেটাকে বলি মনিটাইজেশন অব ডেফিসিয়েট অনেকটা বাড়বে।’

আগামী ১০ জুন শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। সেখানেই সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

Check Also

দাম কমেছে আট নিত্যপণ্যের

অর্থনীতি ডেস্ক :  গত এক সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় আট পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল, পেঁয়াজ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *