Home / বিশেষ প্রতিবেদন / বিদায় নিচ্ছেন সাঈদ খোকন, রেখে যাচ্ছেন ৫০-এর অধিক অর্জন

বিদায় নিচ্ছেন সাঈদ খোকন, রেখে যাচ্ছেন ৫০-এর অধিক অর্জন

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার পর আজ শনিবার বিদায় নিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এই দীর্ঘ সময়ে নানা সমালোচনার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু অর্জনও। বিদ্যমান খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, বেহাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঋণভারে জর্জরিত কোষাগার, অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়ক থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা বদলে যাওয়া এক আলোকিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। দায়িত্বগ্রহণের সময়কার বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে নগরবাসীকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে কাজ করে গেছেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ আধুনিকায়নসহ প্রায় ৫০টির বেশি ‘অর্জন’ রয়েছে বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকনের। আর এই বিষয়গুলোর কারণে ঢাকা দক্ষিণে নাগরিক সুবিধা বেড়েছে বলে মনে করছেন নাগরিকরাও।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নানা সমালোচনা থাকলেও মেয়র সাঈদ খোকন বেশি কিছু কাজ করেছেন নগরবাসীর জন্য। তার কাজগুলোর মধ্যে ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্প অন্যতম। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠকে বদলে দেয়া হয়েছে।

DSCC.jpg

এই প্রকল্প ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেট্রোরেল, জমি নিয়ে মামলা, উন্নত নকশা প্রণয়ন ও করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে পার্কগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধন শেষে বেশ কয়েকটি পার্ক-খেলার মাঠ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, প্রকল্পে নতুন দুটি পার্ক যুক্ত করায় কাজের অগ্রগতির শতকরা হার কমেছে। আগামীতে আরও একটি পার্ক যুক্ত করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পার্ক ও খেলার মাঠগুলোকে বিশ্বমানের করে সাজানো হয়েছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সবার জন্য বেড়ানোর জন্য এসব জায়গায় এখন মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। এজন্য বরাদ্দকৃত ১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার মধ্যে ৭০ শতাংশ সরকার ও বাকি ৩০ শতাংশ দেবে ডিএসসিসি। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩১টি পার্ক-মাঠের নতুন রূপ বদলে দেবে শহরের দৃশ্যপট। স্থপতি রফিক আজমের নেতৃত্বে মাঠ ও পার্কের নকশা প্রণয়ন করেছেন ৭০ জন স্থপতি।

প্রকল্পভুক্ত পার্ক ও মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে

মতিঝিলের সিরাজ উদ্দৌলা পার্ক, বংশালের ত্রিকোণাকার পার্ক, কলাবাগান খেলার মাঠ, গোলাপবাগ খেলার মাঠ, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পার্ক, মালিটোলা পার্ক, সিক্কাটুলী পার্ক, মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পার্ক, গুলিস্তান পার্ক, বাসাবো মাঠ, শহীদ আব্দুল আলীম খেলার মাঠ, জোড় পুকুর মাঠ, রসুলবাগ পার্ক, ধলপুর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার শিশুপার্ক, বাহাদুরশাহ পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, গজমহল পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, বাংলাদেশ মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ, পান্থকুঞ্জ পার্ক, আজিমপুর শিশুপার্ক, শহীদনগর মিনি স্টেডিয়াম, সামসাবাদ খেলার মাঠ, দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ, বালুরঘাট খেলার মাঠ, ওসমানী উদ্যান বা গোসস্যা নিবারণী পার্ক, বকশীবাজার পার্ক ও বশির উদ্দিন পার্ক।

এসব মাঠ ও পার্কগুলোতে থাকবে জাদুঘর, পাঠাগার, ব্যায়ামাগার, গ্রিন জোন, পাবলিক প্লাজা, লেডিস কর্নার, নেটে ক্রিকেট অনুশীলন, ফুটবল খেলা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বসার বেঞ্চ, ফুলবাগান, পানির ফোয়ারা, ওয়াটার বডি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ভাস্কর্য, পাবলিক টয়লেট, ছাদবাগান করার মডেল, এলইডি লাইটিং সিস্টেম, পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা, কফি হাউস, ফুড কোর্ট, কার পার্কিংসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা। এছাড়া পার্কগুলোতে হাতিরঝিলের মতো জলাধারের পাশাপাশি তৈরি করা হবে সবুজ বাগান ও বেষ্টনী।

DSCC.jpg

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পে নতুন দুটি পার্ক যুক্ত করায় কাজের অগ্রগতির শতকরা হার কমেছে। আগামীতে আরও একটি পার্ক যুক্ত করা হবে। তবুও মেয়র সাঈদ খোকনের মেয়াদকালেই বেশিরভাগ অংশের কাজ শেষ হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাঠ ও পার্ক ছাড়াও আরও বেশ কিছু অর্জন রয়েছে সাঈদ খোকনের, যা দক্ষিণ সিটির নাগরিক সুবিধা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন নাগরিকরা। এসব মধ্যে রয়েছে-

এলইডি বাতি স্থাপন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখন আলোকিত নগরী। রাজধানীর অলিগলিসহ সর্বত্র ইতোমধ্যে ৪০ হাজার ৪৬৬টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডেও ১৫ হাজার এলইডি বাতির মধ্যে ইতোমধ্যে সিংহভাগ বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

DSCC.jpg

যানজট নিরসন

যানজট মোকাবেলায় চারটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ, ৩০টি বাস স্টপেজ নির্মাণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন, জেব্রা ক্রসিং চালু করা, রাস্তাজুড়ে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে আট স্থানে ৫৬০টি অনস্ট্রিট পার্কিং চালু করা, যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রী উঠানামা বন্ধকরণ, বর্জ্যবাহী কন্টেইনারগুলো এসটিএসএর অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা, ৫২টি স্বচ্ছ পুলিশ বক্স নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

DSCC.jpg

বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোকে ২২টি রুট নির্ধারণ করে ছয়টি কোম্পানির আওতায় এনে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গাবতলী-আজিমপুর, সায়েন্সল্যাব-শাহবাগ ও কুড়িল-রামপুরা-যাত্রাবাড়ী এ তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজিমপুর-নিউমার্কেট এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট-মতিঝিল রুটে ডাবল ডেকার বাস চালু করা হয়েছে। পুরান ঢাকা থেকে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা হয়ে রামপুরা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া বছিলার ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জ-কাচপুর পর্যন্ত রুটে চলাচলকারী সকল পরিবহনকে একটি কোম্পানির অধীনে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাস ডিপো নির্মাণের বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর

করপোরেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সিটিজেনস এনগেজমেন্ট বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডকে চারটি ভাগে ভাগ করে একেকটি এলাকা থেকে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজসহ সাতজন করে নাগরিক প্রতিনিধি নিয়ে এক একটি গ্রুপ করে চার গ্রুপে মোট ২৮ জন কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য। মূলত করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে। তাছাড়া ফেসবুক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মশক নিধন, আর্বজনা অপসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, সড়কবাতি ইত্যাদি বিষয়ে কোনো অসঙ্গতি বা সমস্যা হলে এমনকি নাগরিকরা কোনো বিষয়ে এ গ্রুপে পোস্ট করলে তার দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধু জলবায়ু উদ্ধাস্তু আশ্রয়কেন্দ্র

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এসব পরিবারের অসহায় নারী, শিশু, বৃদ্ধরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এদেরকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয়দানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া অসহায় বৃদ্ধদের জন্য করপোরেশনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে।

বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থা

ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণির নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করপোরেশনের কবরস্থানে দাফন এবং শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা ছাড়াও বিনামূল্যে মরদেহ বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠান

মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২৫টি জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওয়াসা, ডেসা, তিতাস, রাজউক, ডিএমপিসহ ২৮টি সেবা সংস্থার প্রতিনিধিসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবাবদিহিতার এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ।

ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন

নগরীর সৌন্দর্য বজায় রেখে ব্যবসায়ীদের পণ্যের প্রচারের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে নগরীর সড়কের ওপর ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করে সেখানে বিভিন্ন আকারের ৭৩০টি এলইডি বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এতে করপোরেশনের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্যও বেড়েছে। কমেছে ঝড়ে বিলবোর্ড উপড়ে বা খুঁটি ভেঙে প্রাণহানি বা সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি।

DSCC.jpg

যাত্রী ছাউনি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স

সড়কে নগরবাসীকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছাউনি ও বাস স্টপেজ নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে ৪০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের কথা চিন্তা করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৫৫টি স্বচ্ছ ট্রাফিক পুলিশ বক্সও নির্মাণ করে দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে সড়কে পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা বেড়েছে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যানজট নিরসনে চারটি ইন্টারসেকশন ও ৩০টি বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হয়েছে।

অনলাইন হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স চালুকরণ

করদাতারা অতি সহজেই ঘরে বসে যাতে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি প্রদান করতে পারেন, সেজন্য অটোমেশন পদ্ধতিতে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি গ্রহণ ও নবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আধুনিক জবাইখানা নির্মাণ

হাজারীবাগ ও কাপ্তানবাজারে দুটি আধুনিক পশু জবাইখানা নির্মাণের পরিকল্পণা গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক এ জবাইখানা দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে খুব দ্রুতই।

কবরস্থান ও শ্মশানঘাট উন্নয়ন

আজিমপুর কবরস্থানে আধুনিক ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ’ নির্মাণ কাজ সম্পন্নের পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আজিমপুর, জুরাইন ও মুরাদপুর কবরস্থানের আধুনিকায়নের কাজ সমাপ্তির পথে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, মিরনজল্লা সুইপার কলোনি মন্দির আধুনিকায়ন করে দেয়ার পাশাপাশি পোস্তগোলা এবং লালবাগ শ্মশানঘাটের আধুনিকায়নসহ শবদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এসটিএস নির্মাণ

ইতোমধ্যে ২২টি এসটিএস (আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভবন) নির্মাণ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। ডিএসসিসি ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় ৯৫০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০টি কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে প্রায় ১২ টন ক্ষতিকর মেডিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ সম্মতভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে।

পাবলিক টয়লেট নির্মাণ

নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ৩০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পুরনো ৮টি টয়লেট সংস্কার করে দেয়া হয়েছে। আরও ৪৭টির মধ্যে ১৫টির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে। প্রতিবন্ধীবান্ধব এসব আধুনিক টয়লেটে ব্রেস্ট ফিডিং রুম, চেঞ্জিং রুম, খাবার পানি, গোসল করার ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সুবিধা রয়েছে।

অবৈধ বিলবোড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ

আকাশ, প্রকৃতি ও পার্ক ঢেকে থাকা অবৈধ ও দৃষ্টিকটু বিলবোর্ড/ব্যানার/ফেস্টুন অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। মেয়র নিজে দায়িত্ব নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার অবৈধ ব্যানার/ফেস্টুন অপসারণের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ২০০টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে।

DSCC.jpg

রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন

গত চার বছরে জিওবি ও নিজস্ব অর্থায়নে নাগরিকদের এবং যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ৬৬৯.৯১ কি.মি রাস্তা, ৬৩১.৭০ কি.মি নর্দমা এবং ১৩৩.১৬ কি. মি. ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। আরও ৬০০.০০ কি.মি রাস্তা, ৫০০.০০ কি.মি নর্দমা এবং ১০০.০০ কি.মি ফুটপাথ নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

জলাবদ্ধতা দূরীকরণ

বৃষ্টির পানি অপসারণের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নাগরিকরা মেয়রের কাছে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করে। শান্তিনগর এলাকার দীর্ঘ ৩০-৪০ বছরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করা হয়েছে। নাজিমউদ্দিন রোডে জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর হয়েছে। নগরীর অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা অপসারণের জন্য ২৬১.৮৫ কি.মি. নর্দমা, ২৫৯.৬১ কি.মি সড়ক, ৫১.৫১ কি.মি ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ১৩৫ কি. মি. রাস্তা, ২৭ কি. মি ফুটপাত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় ৬০০.০০ কি. মি সারফেস ড্রেন ও পাইপ ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে।

কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ

স্বল্প ব্যয়ে সামাজিক নানা অনুষ্ঠানাদি সম্পন্নের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ছয় তলাবিশিষ্ট মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া হাজারীবাগে খলিল সরদার কমিউনিটি সেন্টার, লালবাগে শায়েস্তাখান কমিউনিটি সেন্টার এবং নাজিমউদ্দিন রোডে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যমান বাসাবো ও সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

হাসপাতাল উন্নয়ন ও সংস্কার

নয়াবাজারে অবস্থিত করপোরেশনের মহানগর জেনারেল হাসাপাতালে অসহায়, দুস্থ, দরিদ্র নগরবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে রক্ত, কফ, মলমূত্র পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নাজিরাবাজার মাতৃসদন কেন্দ্রসহ আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নামমাত্র মূল্যে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রজননসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চকবাজারের শহীদনগরের শিশু হাসপাতালটিও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খাল উদ্ধার

মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। ডিএসসিসি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে হাজারীবাগের কালুনগর খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। কুতুবখালী খাল পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ডিএসসিসির অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১২০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালু, সিম ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু, তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নগরবাসীদের এ কাজে শামিল করতে সেলিব্রেটি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়ে মোটিভেশনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গারবেজবাহী কন্টেইনারগুলোকে মূল সড়ক থেকে সরিয়ে এসটিএস ভেতরে রাখার লক্ষ্যে নতুন এসটিএস নির্মাণ করা হয়।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ

ডিএসসিসি এলাকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির হাটের বর্জ্য এবং কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিগত চার বছর ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। যার ফলে গত ঈদুল আজহায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্য নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়।

৮ ইউনিয়নের উন্নয়ন

৭৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া-এ চার ইউনিয়নের ১৬৭.৮৮ কি.মি রাস্তা, ৮.৮১ কি.মি ফুটপাথ, ১৭১.৬৫ কি.মি নর্দমা, ১৪৩.৪৭ কি.মি রাস্তায় এলইডি লাইট, ৭ হাজার ৬৩টি বৃক্ষরোপণসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ ৮৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। মান্ডা, ডেমরা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও-এ চারটি ইউনিয়নের জন্য ৫১৫.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১.৩৬ কি.মি রাস্তা, ৬১.৭৯ কি.মি নর্দমা, ৭.৯৫ কি.মি ফুটপাথ, ১২টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ

পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৯টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন আরও সাতটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বিদ্যমান ১৬টি ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পথচারীদের পারাপারের লক্ষ্যে জেব্রা ক্রসিংগুলো কার্যকরী করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্বচ্ছ ঢাকা কর্মসূচি

পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিকল্পে জিরো পয়েন্টে আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে ১৫ হাজারের অধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে, যা গৌরবদীপ্ত ওয়ার্ল্ড গিনেজ রেকর্ড অর্জন করে।

DSCC.jpg

সবুজ ঢাকা

ঢাকা মহানগরীকে সৌন্দর্যময়ী সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগরবাসীদের নিজ নিজ বসতবাড়ির ছাদে বা আঙিনায় বাগান করার জন্য ১০% ট্যাক্স রিবেট প্রদান করা হয়। ফুটওভার ব্রিজগুলোকে সবুজ বৃক্ষশোভিত করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সবজি বাগান, হেয়ার রোড, শেরাটন মোড়, বঙ্গভবন, জিপিও, পল্টন মতিঝিলসহ প্রায় ৭.৫ কি. মি সড়ক মিডিয়ানে বিউটিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন

কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকল্পে ডিজিটাল হাজিরা, লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম, শতভাগ ই-টেন্ডারিং চালু, ইনসট্যান্ট মনিটরিংয়ের জন্য হোয়াটস আপ এবং লাইভ মনিটরিং চালু, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নগর ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ধলপুর, লালবাগ ও গণকটুলীতে ছয়তলা বিশিষ্ট ছয়টি ক্লিনার কলোনি নির্মাণ করা হয়েছে। গণকটুলিতে আরও ছয়টি, মিরনজল্লা ক্লিনার কলোনিতে তিনটি এবং ধলপুরে দুটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি ১০ তলাবিশিষ্ট ভবনে সর্বমোট ১ হাজার ২১৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ওয়েস্ট বিন স্থাপন

চিপসের খোসা, পানির বোতল, ক্যান, টিস্যু পেপার ইত্যাদি হালকা আর্বজনা যত্রতত্র না ফেলে এসব বিনে ফেলার জন্য ৫ হাজার ৭০০টি ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়েছিল। নতুন উদ্যোগ হিসেবে এটি প্রশংসিতও হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে এটি কার্যকরী রাখা সম্ভব হয়নি। এগুলো পুনরায় মেরামত/রিপ্লেস করার চেষ্টা চলছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কর্মসূচি

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৫০০ বর্গফুট আয়তন পর্যন্ত ফ্ল্যাট, বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, তাদের জন্য আজিমপুর ও জুরাইন কবরস্থানে সংরক্ষণ, তাদের স্বজনদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার অর্ধেক ভাড়ায় ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৭২৫ কোটি টাকার ‘মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ল্যান্ডফিলের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু কাজ মেয়র সাঈদ খোকনের সময় করা হয়েছে।

DSCC.jpg

নিজের কাজের মূল্যায়নের দায়িত্ব নগরবাসীকে তুলে দিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, “কখনও কাজে অবহেলা করিনি। নগরবাসীর জন্য যা যা করা দরকার তাই করেছি। নাগরিকদের অন্যতম চাহিদাগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। খেলার মাঠ ও পার্কগুলো বিশ্বমানের করে দিয়েছি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা এনেছি। ডিজিটাল এলইডি বাতি ও বিলবোর্ডে নগরকে বদলে দিয়েছি। অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা ‘পঙ্গু’ সংস্থাকে নিয়ে যে উন্নয়ন কাজ করেছি তা অবশ্যই নগরবাসী মনে রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ঋণভারে জর্জরিত কোষাগার নিয়ে নগরভবন চালিয়েছি। ভঙ্গুর অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছিলাম, সেখান থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছি। প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নের সংখ্যাই বেশি।’

‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব শেষ হতে চলেছে। দায়িত্বকালে পাঁচ বছরে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, বিগত এক যুগেও সে কাজ হয়নি। যেসব উন্নয়ন কাজ করেছি তার মূল্যায়নের দায়িত্ব নগরবাসীর হাতে ছেড়ে দিলাম। সবসময় নাগরিকদের পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকব’-যোগ করেন বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন।

আজ শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্বগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে পরাজিত করেন মেয়র নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

Check Also

শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন যুবলীগের কমিটিতে

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     জাতীয় কংগ্রেসের আগে দেশব্যাপী চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন থাকবে বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *