Home / বিশেষ প্রতিবেদন / স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ব্যাংকাররা

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ব্যাংকাররা

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ের দেশে দেশে বিপর্যয় নেমে এসেছে। রহস্যজনক ভাইরাসটির কবল থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। গতকাল পর্যন্ত দেশে এই ভাইরাসে ২৪ জন আক্রন্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ জনে। দেশের সবক্ষেত্রের মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাংকিং খাতেও। সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই করোনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু ব্যাংক সচেতনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অধিকাংশ ব্যাংক। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যাংকাররা।

গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি ব্যাংকে ঘুরে দেখা গেছে, করোনার আতঙ্কের পরও অধিকাংশ ব্যাংকে স্বাভাবিক দিনের মত ব্যাংকের কার্যক্রম চলে। সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তারা বিশেষ করে ক্যাশ কর্মকর্তারা মাস্ক বা হ্যান্ড গ্রাভ ব্যবহার করেনি। খালি হাতেই তারা টাকা গ্রহণ করছে এবং গুণছে। এমনকি গাউন পরেনি। কিছু ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে সচেতনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেও শাখা পর্যায়ে শুধু চিঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকারা।

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে টাকার মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে। এরপরও কেন খালি হাতে টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে ব্যাংককারা বলছেন, তাদের অফিস থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রধান কার্যালয়ে প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয়া হলেও শাখা পর্যায়ে কোনো প্রতিরোধ সামগ্রী আসেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মতিঝিলের একটি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। আমাদের জন্য এখনো ব্যাংক থেকে হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক নিশ্চিত করা হয়নি। স্ব-উদ্যোগে ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিনে ব্যবহার করছেন। এছাড়া এখনো পর্যান্ত অধিকাংশ গ্রাহকরাও মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাদের কাছ থেকে আমরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারি। তাছাড়া অফিসে ঢুকতেই আমদের ফিঙ্কার প্রিন্ট দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়, সেখান থেকেও আমরা আক্রান্ত হতে পারি।’

ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে, ব্যাংকে আসা গ্রাহকদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এই অবস্থায় কর্মঘন্টা যদি কমানো যায় তবে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকার কথা বলছেন ব্যাংকাররা। সেটা করা সম্ভব না হলে নিরাপত্তা সামগ্রী নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোটেশন ডিউটির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার জানান, তার ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শাখা পর্যায়ে হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক এবং গাউন নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শাখা এক ঘণ্টা অন্তর পরিস্কার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ব্যাংকে গ্রাহক উপস্থিতি কম। গ্রাহকরা এখন বুথ ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকছে বেশি। বুথে যেন টাকা সংকট না হয় আমরা সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি।’

আলী রেজা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে শাখাগুলোতে রোটেশন ডিউটির ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া একটি শাখায় যদি ১০ জন কর্মকর্তা থাকেন সেখানে ৫ থেকে ৬ জন ডিউটি করছেন। আশা করছি রবিবার (আজ) থেকে বাকি ব্যাংকগুলোও এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবাই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ব্যাংককারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক বন্ধ বা কর্মঘন্টা কমানোর মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। তাছাড়া কর্মঘন্টা কমানো হলে আমদানি-রপ্তানিসহ শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকগুলোকে সর্তক থেকে কাজ করা পরামার্শ দিয়েছি। একই সঙ্গে মাস্ক, হ্যান্ড গ্রাভ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’

ব্যাংকগুলো রোটেশন সিস্টেমে ব্যাংকের কার্যক্রম চালাতে পারে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে সমস্যা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর শুধু ব্যাংকাররা না গ্রাহককেও সচেতন হতে হবে। শাখায় যেহেতু লোক সমাগম বেশি তাই বুথ ব্যাংকিং এর ম্যাধমে গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে পারেন।

Check Also

গ্রামের বয়স্কদের মধ্যে সচেতনতা নেই

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে যখন চলছে এক অঘোষিত লকডাউন তখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *