Home / উপ-সম্পাদকীয় / বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশ

এম কে দোলন বিশ্বাস ঢাকা  :   ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে পাকিস্তানিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যখনই গড়িমসি শুরু করল তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান জানাতে দিক-নির্দেশনামূলক জাতির উদ্দেশে লাখো জনতার সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালো রাতে হঠাৎ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যায়। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার বিজয় সূচিত হয়। জন্ম নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহনা: ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে পাকিস্তানের জান্তা সরকার সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রেফতার টু পাকিস্তান কারাগারে বঙ্গবন্ধু: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। উদ্দেশ্য সফল করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বরোচিত অতর্কিত হামলা চালায়। এতে হাজারো মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার সবুজ মাটি। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের ওই অভিযানের শুরুতেই পাকিস্তানি হানাদাররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে বলা হয়। তা না হলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু বাঙালির অধিকার ছাড়া তিনি কোনো কিছু মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের নির্জন-অন্ধকার কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিচার। এতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তির প্রশ্নে ফাঁসির আসামি হয়েও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল, আপসহীন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি ও প্রহসনের বিচার বন্ধ করতে প্রবল বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে স্বৈরাচার পাকিস্তানি সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি। মুজিবনগর সরকার : বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনাসহ দেশের সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ইতিমধ্যেই জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামানসহ নেতাকে সেক্টর ভাগ করে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যেতে দায়িত্ব দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার বিশ্ব : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও বাঙালি জাতির মনে ছিল না স্বস্তি, বিজয়ের আনন্দ। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি জাতির পিতার ভাগ্যে কি আছে এ নিয়ে এ ভূখন্ডের প্রতিটি মানুষ ছিল বিচলিত, আতঙ্কিত। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা পাকিস্তানি জান্তার সরকারের বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের কারাগারে গোপনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ওই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির জন্য পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের ৬৭টি দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিঠি দেন। অন্যদিকে তিনি ইউরোপের ৫টি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করে বিশ্বজনমত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অনুকূলে আনতে সক্ষম হন। ফলে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়। যেভাবে দেশে এলেন : বাঙালি জাতির মহান এক বিজয়ের ফলেই বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত মৃতু্যর কবল থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফিরে আসেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের একটি সামরিক বিমানে অতিগোপনে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই বিমানে আরও ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও তার পরিবার। লন্ডনে সময় তখন ভোর ৮টা ৩০ মিনিট, ৯ জানুয়ারি। ৮ জানুয়ারি সকাল ৭টায় বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রচারিত খবরে বলা হয়- ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিমানযোগে লন্ডনে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।’ বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর বিমান থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু ভিআইপি লাউঞ্জে এলে তাকে ব্রিটিশ বৈদেশিক দপ্তরের উপস্থিত কিছু কর্মকর্তা স্বাগত জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে ব্রিটিশ ফরেন অফিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা স্যার ইয়ার মাদারল্যান্ড উপস্থিত হয়ে জানান ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন। সকাল ৮টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে ব্রিটিশ সরকারের সম্মানিত অতিথি হিসেবে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ক্যারিজেস হোটেলে নিয়ে আসা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) হ্যারল্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন ‘গুড মর্নিং মিস্টার প্রেসিডেন্ট।’ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতির কথা জেনে হাজার হাজার বাঙালি ক্যারিজেস হোটেল ঘিরে ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্স্নোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে। দুপুরের দিকে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন ‘এক মুহূর্তের জন্য আমি বাংলাদেশের কথা ভুলিনি, আমি জানতাম ওরা আমাকে হত্যা করবে, আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবো না, কিন্তু আমার জনগণ মুক্তি অর্জন করবে।’ বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনে পৌঁছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ ছিলেন লন্ডনের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর পৌঁছানোর কথা শুনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ তার বাসভবনে ছুটে আসেন। এসময় বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনে দেখা করতে গেলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিথ তাকে নজীরবিহীন সম্মান দেখান। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ওইদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিথ নিজে তার কার্যালয়ের বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে রইলেন, যতক্ষণ শেখ মুজিব গাড়ি থেকে বেরিয়ে না এলেন। এই নিয়ে ব্রিটেনে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। কারণ বঙ্গবন্ধু তখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কোনো পদে অধিষ্ঠিত হননি। ওই সময় তিনি ছিলেন শুধু রাজনৈতিক দলের প্রধান। লন্ডনে একদিন ব্যস্ত সময় কাটানোর পর ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফেরার জন্য বঙ্গবন্ধু ওঠেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বহরের কমেট জেটে। বিমানটি দুই ঘণ্টার যাত্রা বিরতি করে ভারতের দিলিস্নতে। এসময় সব প্রটোকল ভেঙে শীতের সকালে দিলিস্নর পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করতে গিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী। সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতারা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানেও তাকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মান দিয়ে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে বঙ্গবন্ধু তার দেশপ্রেমের পরিচয় রেখেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী কখন ফেরত আনা হবে। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু যখন চাইবেন তখনই বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শেষ সেনা সদস্যকে ফিরিয়ে আনা হবে। কলকাতার মুখ্যমন্ত্রীও দাবি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু যেন কলকাতা দমদম বিমানবন্দরে একটু সময়ের জন্য নামেন। যেহেতু স্বাধীন স্বদেশের প্রিয় জনগণ বঙ্গবন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছে, সেজন্য বঙ্গবন্ধু কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির প্রতিশ্রম্নতি দিতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতারা এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। ১৯৭২ সালের ১৫ মার্চ এক আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীর শেষ সেনা সদস্য দল প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা : বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। স্বশ্রদ্ধচিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশগড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রশ্নটি যখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি- তখন পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রকৃতপক্ষে ১০ জানুয়ারিতে বাংলার রাজনীতির মুকুটহীন সম্রাট শেখ মুজিবকে পেয়ে বাঙালি বিজয়ের পরিপূর্ণ আনন্দ প্রাণভরে উপভোগ করেছে। এ দিনই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রবেশ করে গণতন্ত্রের এক আলোকিত অভিযাত্রায়। জীবন-মৃতু্যর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ঙ্কর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান এ নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিজয় পূর্ণতা পায়। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এ অভিযাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিদশা থেকে স্বাধীনতায়, নিরাশা থেকে আশায় অভিযাত্রা।’ আমরা পরিশেষে বলতে চাই, টেকসই গণতন্ত্র কায়েমসহ কোনো ধরনের অপশক্তি যাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

Check Also

করোনাত্তোর পৃথিবী কেমন হবে

সরদার সিরাজ করোনা মহামারি একদিন শেষ হবেই। কিন্তু এর স্মৃতি থেকে যাবে বহুদিন। অপরদিকে, করোনা শেষ হওয়ার পর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *