Monday , November 18 2019
Breaking News
Home / খেলাধুলা / ফিরছে ৮২’র দিল্লি এশিয়াড আর ৮৫’র ঢাকা সাফ গেমসের ফাইনালের স্মৃতি

ফিরছে ৮২’র দিল্লি এশিয়াড আর ৮৫’র ঢাকা সাফ গেমসের ফাইনালের স্মৃতি

স্পোর্টস ডেস্ক :  আজকাল বাংলাদেশ আর ভারত ক্রিকেট ম্যাচ বেশ উত্তেজনার পারদ ছড়ায়। বাংলাদেশ যে খুব বেশি জিতেছে, তা নয়। ওয়ানডেতে টাইগাররা মোটে তিনবার হারিয়েছে ভারতকে। বেশির ভাগ খেলাতে ভারতই জিতেছে।

তবে ভারতের সাথে সীমিত ওভারের খেলায় (টি-টোয়েন্টিসহ) বেশ কতগুলো ম্যাচেই বেশ লড়াই হয়েছে। টাইগাররা হারলেও লড়াই হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। কয়েকটি খেলায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত না পারার আক্ষেপও আছে বাংলাদেশের।

মোদ্দা কথা, যতই দিন যাচ্ছে একদিনের সীমিত ওভারের খেলায় বাংলাদেশ রীতিমত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তাই ভারত আর বাংলাদেশ ক্রিকেট লড়াই এখন একটা অন্য মাত্রা পেয়েছে।

দুই দেশে, সমর্থকদের মধ্যেও একটা অন্যরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশও তৈরি হয়েছে। সব মিলে বাংলাদেশ আর ভারত ক্রিকেট লড়াই মানেই একটা বাড়তি আকর্ষণ ও জমজমাট লড়াইয়ের বাতাবরণ।

ফুটবলে তেমনটা নেই। কারণ একটাই, দিনকে দিন ভারত এগিয়েছে। আর বাংলাদেশ ততটাই পিছিয়েছে। এক সময় র্যাঙ্কিং অর রেটিংটা কাছাকাছি থাকলেও এখন মহাদেশীয় ও বিশ্ব ফুটবলে ভারত ও বাংলাদেশের বেশ ফারাক।

মহাদেশীয় ও উপমহাদেশের আসরগুলোয় সাফল্য না থাকায় র্যাঙ্কিয়ে ঘটছে অবনতি। এছাড়া ঘরোয়া ফুটবল আসরের নিম্নমান এবং দেশীয় তারকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঢাকার ক্লাব ফুটবল নিয়েও হৈ চৈ মাতামাতি, উৎসাহ-উদ্দীপনা গেছে কমে।

সেখানে বিপরীত চিত্র ভারতে। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি ভারতীয় জাতীয় দল এখন এশিয়ার মধ্যম সারির শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আর ক্রিকেটের সাফল্য এবং গগনচুম্বি জনপ্রিয়তার মাঝেও ভারতের ক্লাব ফুটবল স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত।

এখনো ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান খেলায় কলকাতায় অন্যরকম সাড়া পরে। সল্টলেকের যুবভারতীয়তে ফুটবল অনুরাগির ঢল নামে। ৫০-৬০ থেকে ৭০ হাজার ফুটবল প্রেমীর কলতানে মুখর হয়। ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবল মানেই এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নামি ও দামি তারকার মেলা। আকর্ষণ, উত্তেজনা সবই অনেক বেশি।

সেখানে ঢাকাই ফুটবল হারিয়েছে জৌলুস। দর্শক নেই। উত্তেজনা আর আকর্ষণও অনেক কম। সর্বোপরি জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য নেই। তাই ভেতরে টান থাকলেও এখনকার প্রজন্ম দেশের ক্লাব আর ফুটবল নিয়ে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। জাতীয় দলের প্রতি টান ও দরদ থাকলেও সাফল্য না থাকায় তার বহিঃপ্রকাশও গেছে কমে।

তবে এবার দীর্ঘ দিন পর বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে বেশ আলোড়ন। হৈ চৈ, সাড়া পড়েছে বেশ। বাংলাদেশ জাতীয় দল রাতারাতি খুব ভাল খেলতে শুরু করেছে। হঠাৎ সেই এনায়েত, সালাউদ্দীন, ওয়াসিম, চুন্নু, আসলাম, আশিষ, সাব্বির, কায়সার-মুন্না ও মহসিনের মত মেধাবি আর প্রতিভাবান ফুটবলার উঠেে এসেছেন- এমন নয়। তবে একটা দলগত সমন্বয় চোখে পড়ছে।

নতুন ইংলিশ কোচ জেমি ডে‘র পরিচর্য্যায় নিকট অতীতের তুলনায় গোছানো ফুটবল খেলতে দেখা গেছে বর্তমান দলটিকে। খুব আহামরি ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানা নেই কারো। দুর্দান্ত পায়ের কাজ আর অসাধারণ ফুটবল শৈলি, সৃষ্টি-সৃজনশীলতাও যে খুব বেশি, তা নয়। তারপরও নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টাটা চোখে পড়েছে। কিছু করার ইচ্ছেটা হয়েছে তীব্র।

ভুটানের সাথে কাদা মাঠে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয় আর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে বৃষ্টি ভেজা মাঠে লড়িয়ে হার, কম বেশি সবার মনে একটা আশার সঞ্চার ঘটেছে। গোটা দেশ অধীর অপেক্ষায় সুনিল ছেত্রীদের সাথে জামাল ভূঁইয়া বাহিনীর লড়াই দেখতে।

আজ সারা দিন কেন যেন, বাংলাদেশ আর ভারতের দুটি খেলার কথা মনে হচ্ছে। প্রথমটি ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়াডের। বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও লড়াই হয়েছে মোটামুটি সেয়ানে সেয়ানে। এখনো বেশ মনে পড়ে বাদল দা (বাদল রায় ) আর আশিষ ভদ্রর নৈপুন্য। গোলকিপার মোতালেব ভাইয়ের এগিয়ে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করে দূর পাল্লার শটে একজোড়া গোল করে ভারতকে জিতিয়েছিলেন প্রসূন ব্যানার্জি।

আর তার চেয়ে বেশি মনে পড়ছে ১৯৮৫ সালে ঢাকা সাফ গেমস (তখন সাফ গেমস নাম ছিল) ফুটবলের ফাইনালের কথা। ওহ, শেখ মোহাম্মদ আসলামের অসাধারণ গোল…। ৪০ গজ দূর থেকে কামানের গোলার মত শট নিয়েছিলেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

সে সময় ভারত তথা দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা গোলকিপার অতনূ ভট্টাচার্যকে বোকা বানিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। এখনো মনে আছে বসেছিলাম তখনকার মোহামেডান গ্যালারির একদম উত্তর পূর্ব অংশে মানে এখনকার মশালের আশপাশে মানে ঠিক পোষ্টের পিছনে। সে গোল দেখে উদ্বেলিত হয়েছিলাম, দেহ মনে পুলক অনুভব করেছিলাম।

আমি তখন কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পরিষ্কার মনে আছে, শুরুর কিছুক্ষণ পর একটি আক্রমণ সামাল দিতে এগিয়ে এসে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উড়ে আসা সেন্টার ঠিক মত এন্টিসেপ করতে পারেননি গোলকিপার মহসিন। উচ্চতায় ঘাটতিও ছিল উড়ে আসার বল গ্রিপ করতে না পারার কারণ। অবশ্য দেশের সব সময়ের অন্যতম সেরা ও কুশলী গোলরক্ষক মহসিন পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে না আসলে হয়তো গোলটি হজম করতে হতো না।

কিন্তু তার নাগালের বাইরে দিয়ে বড় বক্সের মাঝামাঝি পড়া বল দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আবু ইউসুফ আর কায়সার হামিদ ক্লিয়ার করার আগেই চলে যায় ভারতীয় স্ট্রাইকার শিশির ঘোষের পায়ে। সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার শিশির ঘোষ বলকে জালে পাঠাতে ভুল করেননি একটুও। তার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। তারপর সেই গোল পরিশোধ করতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়। মুহুর্মুহু আক্রমণেও যখন ভারতের রক্ষণ জাল ছিন্ন করে গোল করা সম্ভব হচ্ছিল না, ঠিক তখন ৪০ গজ দূর থেকে বুলেট শটে গোল করে মাঠে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেন বাংলাদেশের দক্ষ স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

চীনের প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে বারবার বাবু মানি-বিকাশ পাজি আর শিশির ঘোষদের মত তুখোড় ফরোয়ার্ডকে রুখে দিয়েছিলেন কায়সার হামিদ। কিন্তু হায়, পুরো ৯০ মিনিট আর তারপরের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ১-১ গোলে সমতা থাকলে পরে টাইব্রেকারে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।

পেনাল্টি শ্যুট আউটে কায়সার হামিদ ছাড়া আর বাংলাদেশের কেউ গোল করতে পারেননি। আসলাম আর আবু ইউসুফ-দুজনই মিস করেন পেনাল্টি। টাইব্রেকারে জিতে ভারত স্বর্ণ পায়।

দেখা যাক আজ কি করেন জেমি ডে‘র শিষ্যরা!

Check Also

এবারও বিপিএলে টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার দুই নির্বাচক

স্পোর্টস ডেস্ক :    দুজনই ছিলেন ভারতে। রোহিত শর্মার দলের সঙ্গে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দিল্লী আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *