Thursday , October 24 2019
Home / খেলাধুলা / ব্যাটে-বলে কেমন গেল সাকিবের সিপিএল?

ব্যাটে-বলে কেমন গেল সাকিবের সিপিএল?

স্পোর্টস ডেস্ক :  আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জেতানোর সুখস্মৃতি নিয়ে এবারের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। নিজের ফর্মের ছাপ তিনি রাখেন সিপিএলের প্রথম কয়েক ম্যাচে। কিন্তু খেই হারিয়ে ফেলেছেন শেষদিকে এসে।

জাতীয় দলের খেলা থাকায় এবারের সিপিএলের শুরু থেকে খেলতে পারেননি সাকিব। ঘরের মাঠে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করে নাম লেখান বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসে। ততদিনে প্রায় শেষদিকে চলে এসেছিল টুর্নামেন্ট। তবু কমপক্ষে ৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ ছিলো তার সামনে। তবে বার্বাডোজ ফাইনাল খেলায় সবমিলিয়ে মোট ৬টি ম্যাচ পেয়েছেন সাকিব।

আজ (রোববার) টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ২৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে বার্বাডোজ। এর আগে ২০১৪ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বার্বাডোজ। অন্যদিকে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে এসে খালি হাতে ফিরতে হলো গায়ানাকে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মোট সাত আসরের মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৫ ও ২০১৭ সালের আসরে ফাইনাল খেলেনি তারা।

বার্বাডোজের শিরোপা জেতার ম্যাচে সাকিবের অবদান ব্যাট হাতে ১৫ বলে ১৫ রান এবং বল হাতে ২ ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে ১৮ রান খরচ করা। একদমই আশানুরূপ হয়নি ফাইনালের পারফরম্যান্স। অবশ্য প্লেঅফের তিন ম্যাচের একটিতেও নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি সাকিব। ব্যাটে-বলে উভয় দিকেই ছিলেন ব্যর্থ।

Shakib-2

এখন প্রশ্ন এসেই যায় তাহলে সিপিএলটা কেমন গেলো সাকিবের? তার খেলা ৬ ম্যাচের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান হলো ব্যাট হাতে ১১১ রান (৯৬ বলে) এবং বল হাতে ২০ ওভারে ১৪০ রান খরচায় ৪ উইকেট, সঙ্গে ছিলো একটি মেইডেন ওভার।

সেন্ট কিটসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের সিপিএলে যাত্রা শুরু হয় সাকিবের। প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ম্যাচের প্রথম ওভারেই মেইডেন তুলে নেন তিনি। ফলে হয় উড়ন্ত সূচনা। সে ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় নেন ১টি উইকেট। পরে ব্যাট হাতেও খেলেন ২৫ বলে ৩৮ রানের এক ইনিংস।

প্রথম ম্যাচের এই উড়ন্ত সূচনা পরের ম্যাচগুলোতে ঠিক ধরে রাখতে পারেননি সাকিব। লিগপর্বের বাকি দুই ম্যাচে সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২১ বলে ২২ এবং বল হাতে ৪ ওভারে ২০ রানে ১ উইকেট। পরে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেটের সঙ্গে ব্যাট হাতে ১৪ বলে ১৩ রান- এ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে সাকিব তার নিজের মান অনুযায়ী পাস মার্ক পেয়ে যাবেন।

কিন্তু প্লেঅফ পর্বের খেলা শুরু হতেই যেনো নিজের ছায়ায় আড়াল হয়ে গেলেন সাকিব। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করে বল হাতে খরচ করেন ৪ ওভারে ৪৬ রান এবং ব্যাট হাতে ৫ রান করতেই খরচ করেন ৯টি বল। এই ম্যাচে বাজে বোলিংয়ের কারণে পরের দুই ম্যাচে আর পুরো ৪ ওভার করার সুযোগই পাননি।

পরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ত্রিনবাগোর বিপক্ষে ব্যাট হাতে দারুণ শুরুর পরেও তিনি আউট হয়ে যান ১২ বলে ১৮ রান করে। কিন্তু বল হাতে আবারও হতাশার জন্ম দিয়ে ২ ওভারে খরচ করেন ২৭টি রান। আর সবশেষ ফাইনাল ম্যাচের পারফরম্যান্স তো এখনও তরতাজা।

সবমিলিয়ে বলা যায় ৬ ম্যাচে ৯৬ বল খেলে ১১১ রান এবং বল হাতে ২০ ওভারে ৭.০০ ইকোনমি রেটে ৪ উইকেট হয়তো অন্য যেকোনো অলরাউন্ডারের জন্য মানানসই। কিন্তু সাকিবের মানের একজন ক্রিকেটার বা অলরাউন্ডারের জন্য এটি বেশ সাদামাটা পারফরম্যান্সই বটে।

Check Also

বিসিবিকে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে ক্রিকেটারদের চিঠি

স্পোর্টস ডেস্ক :  ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামলেও বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে আরও দুটি বাড়িয়ে ১৩ দফা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *