Thursday , October 24 2019
Home / অর্থনীতি / সিআইপি কার্ড পেলেন ১৮২ ব্যবসায়ী

সিআইপি কার্ড পেলেন ১৮২ ব্যবসায়ী

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার ১৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কার্ড দেয়া হয় -ঢাকার ডাক

ঢাকার ডাক ডেস্ক : রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৩৬ জন ব্যবসায়িকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি রপ্তানি) ও ৪৬ জন ব্যবসায়িকে সিআইপি ট্রেড কার্ড দিয়েছে সরকার। ২০১৭ সালের জন্য তাদের নির্বাচিত করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের হাতে কার্ড তুলে দেন প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এসময় তিনি বলেন, ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আপনাদেরকেই পূরণ করতে হবে। আপনাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই দেশকে। এবছর ১৮২ জন ব্যবসায়িকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি সংখ্যক ব্যবসায়ীকে দেওয়া হবে। তবে দেওয়ার জন্য রপ্তানির পরিমাণ ও গুণগতমান বিবেচনা করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মুক্তির লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছি। বিশেষ অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, একটা সময় আমরা ১০ মিলিয়ন টন চা উৎপাদন করে ৮ মিলিয়ন টন রপ্তানি করতাম। আমাদের চা খাওয়ার লোক ছিল না। এখন আমরা উল্টো ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করি। কারণ আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, সবাই চা খায়। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। এই অবস্থানে ব্যবসায়ীরাই নিয়ে এসেছেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফরউদ্দীন বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারে আমাদের পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে গুণগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন নতুন বাজার ধরতে হবে।

দাদা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয় -ঢাকার ডাক

শিল্প ও রফতানিতে বিশেষ অবদান রাখায় প্রতি বছর রফতানিকারকদের সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে সময়মতো তালিকা না পাঠানোয় রফতানিকারক সে সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। ফলে কার্ড শুধু কার্ডই থেকে যায়, এ থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো সুবিধা পান না। রফতানিকে আরও বেগবান করতে সিআইপি কার্ডের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সিআইপি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে কার্ডপ্রাপ্তরা এসব কথা বলেন। এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআই বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সিআইপি কার্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সিআইপি কার্ডধারী ব্যক্তিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগগুলো প্রায়শই হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণ করে না। তাই প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ও বিভাগগুলোকে হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করছি। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের বাণিজ্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছে তা এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে। পাশাপাশি সরকার বাণিজ্য উন্নয়নে বহু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু তা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে সেটি পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। সিআইপি কার্ডপ্রাপ্ত আরেক প্রতিষ্ঠান দাদা ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, যে কোনো সম্মাননাই ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে। সিআইপি কার্ডও তেমনই। এ কার্ডপ্রাপ্তি ব্যবসায়ী হিসেবে গৌরবের। তবে সিআইপির প্রজ্ঞাপনে কার্ডের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীরা রফতানি খাতকে এগিয়ে নিতে আরও উৎসাহিত হবেন। টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, অবশ্যই সিআইপি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কার্ড শুধু কার্ডই থাকবে, কোনো কাজে আসবে না। ব্যবসায়ী প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্য সুসংহত করার জন্য পণ্যের মান সনদ গ্রহণ করা প্রয়োজন। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতকে আরও সহায়তা করতে হবে। আর্ন্তজাতিক বাজারে স্বাস্থ্য সেবা রপ্তানি বাড়ানোর জন্য এখাতে প্রশিক্ষণে সরকারকে সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রসঙ্গত, নীতিমালা অনুযায়ী সিআইপি কার্ডধারীরা ৬ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। এগুলো হচ্ছে- সচিবালয়ে ঢুকতে প্রবেশ পাস ও গাড়ির স্টিকার; জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ; বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনের আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তি; ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে পরিচিতিপত্র (লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন) ইস্যু করবে; সিআইপি তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন ও বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সিআইপি কার্ডের মেয়াদ ১ বছর।

Check Also

পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান

অর্থনীতি ডেস্ক :   সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৩ অক্টোবর) উত্থানে শেষ হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারের দেলদেন। এদিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *