Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চীনের তৎপরতায় গুহার মুখে আলোর দেখা

চীনের তৎপরতায় গুহার মুখে আলোর দেখা

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর এই ইস্যুতে কিছুটা সক্রিয় হয়েছে মিয়ানমারের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র চীন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর দেশটির প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। আর চলতি মাসের শেষের দিকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।

ফলে সংকটাবর্ত এই ইস্যুতে চীনের তৎপরতা অন্ধকার গহ্বরের মুখে খানিক আলোর আভাস দিচ্ছে। যদিও এমন তৎপরতাকে কেবল কূটনীতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ক্যাম্প পরিদর্শন আর বৈঠক কেবল মিয়ানমারের কালক্ষেপণের নামান্তর।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে চীন। তারই অংশ হিসেবে গতকাল রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার যান চীনের প্রতিনিধিদল। ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্বে দলটি সীমান্তের একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে গতকাল সকালে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত রবার্ট আর্ল মিলারও একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর এই ইস্যুতে তার দেশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেই জানিয়েছেন মিলার।

চীনের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও আট সদস্যের প্রতিনিধিদলটি মূলত প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতা, প্রশাসন ও ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে চীন।

তিনি বলেন, ‘চীনের প্রতিনিধিদল প্রত্যাবাসন ইস্যুতেই সেখানকার শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাছাড়া সেখানকার পরিস্থিতিও দেখবেন তারা।’

এর আগে গেল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সংসদ ভবনে কার্যালয়ে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তার দেশ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য গঠনমূলক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এরই অংশ হিসেবে নেপিদোতে চীনা রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতি দেখতে রাখাইন রাজ্য সফর করেছেন।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের স্বভূমে ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একাধিক চুক্তি হয়। তবে কার্যত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই নতুন উদ্যোগে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে চীনের। তারই অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সূচি নির্ধারিত হয়েছে। এরই মধ্যে বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও মিয়ানমারের মন্ত্রী থিন মোয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী চীনের ওপর আস্থা রাখছে। আর এবারের এই বৈঠক থেকে ভালো ফলাফলেরও প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

তবে এর আগেও যেহেতু প্রত্যাবাসন নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। আর চীনের বরাবরের সব ধরনের বৈঠক আর আশ^াসকে কূটনৈতিক নাটক হিসেবে দেখে আসছে বিশ্লেষকরা। তাই এবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্বেচ্চায় দেশে ফিরে যেতে রাজি হবে সে ধরনের প্রস্তাব চীন ও মিয়ানমারকে দিতে হবে।

চীনের তৎপরতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রীয় যে চরিত্র সেটা কিন্তু ভালো কোনো বার্তা দিচ্ছে না। চীনের মধ্যস্থতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সামনে এগোবে কি-না সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান।’

‘কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের স্বার্থ জড়িত। বাংলাদেশের চেয়ে চীনের বেশি দরকার মিয়ানমারকে। আমার মনে হচ্ছে না তাদের স্বার্থবিরোধী কিছু করবে চীন।’

এদিকে চলতি মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে বাংলাদেশের শতাধিক সরকারি প্রতিনিধি সেখানে অংশ নেবেন। ওই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১ থেকে ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় দেশটির সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তার আশ্বাসও মেলে। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরানোর পরিবেশ তৈরিতে চীন মিয়ানমারকে রাজি করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং।

Check Also

করোনায় বাজারজাতকরণ নিয়ে শঙ্কায় আম ও লিচুচাষিরা

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     মধুমাস জ্যৈষ্ঠের মিষ্টিমধু আম এবার মানুষের পাতে যাবে না গাছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *