Friday , February 21 2020
Home / আর্ন্তজাতিক / একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে স্ত্রী, পাশে রইলেন স্বামী

একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে স্ত্রী, পাশে রইলেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   :     পাঁচ বছর আগে এক তরুণীর প্রেমে পড়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক যুবক বলেছিলেন, ‘নিকাহ কবুল হ্যায়’। এর পরে সেই স্ত্রী মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। মানসিক সমস্যার ঘোরে অন্য পুরুষের সঙ্গে নিজের অজান্তেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে স্বামীর। ভুল বুঝে স্ত্রী নিজেই স্বামীর থেকে ‘তালাক’ চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রী-অন্তপ্রাণ যুবক শুধু বলেছিলেন, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি।’ আর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সর্বত্র ছুটেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এসএসকেএমের ‘ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি’তে এসে কয়েক মাসের চিকিৎসার পরে আপাতত সুস্থ সেই তরুণী। হাসি ফুটেছে স্বামীর মুখেও।

ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রির কর্মকর্তা প্রদীপ সাহা বলেন, ওই তরুণী নিম্ফোম্যানিয়াক ডিজিজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই রোগে শরীরে অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা তৈরি হয়। তরুণীর ক্ষেত্রে দ্বৈত সত্তা কাজ করত। মনস্তত্ত্বের এই পর্যায়কে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মাত্র দুটি ঘটনা পেয়েছি।

স্ত্রীর অতীত জানার পরে তাকে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান যুবক। তবে লাভ হয়নি। স্ত্রীর অসুস্থতা প্রভাব ফেলেছিল দাম্পত্য জীবনে। ওই যুবক জানান, তিনি দুবাইয়ে থাকতেন। স্ত্রী থাকতেন দেশে। দু’জনের মধ্যে ব্যবধান কমলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, সেই আশায় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দুবাইয়ে চলেও যান। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। উল্টো তিনি জানতে পারেন, তার অনুপস্থিতিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

ওই যুবক বলেন, ‘স্ত্রী বলেছিলেন কেউ যেন তাকে ডাকতো। ঘরের মধ্যে অন্য কেউ রয়েছে বলে চিৎকার করতো। আবার ঘোর কেটে গেলে নিজেই কেঁদে বলতো ও আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তাকে যেন আমি ছেড়ে দিই।’

কর্মকর্তা প্রদীপ বলেন, ‘অসুস্থ মানুষটি ঘোরের মধ্যে কী করছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, তা বোঝার মতো অবস্থায় থাকেন না। তিনি যে বিপদে পড়তে পারেন সেই ভাবনাও আসত না। একে বলে অডিটরি হ্যালুসিনেশন। মেয়েটি মনে করতো কেউ তাকে ডাকছে। অবচেতন মনে অবাঞ্ছিত দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠত।’

যুবক জানান, স্ত্রীকে সুস্থ করতে দেশের বড় বড় হাসপাতালে ছুটেও কোনো উপকার পাননি। এসএসকেএমের ‘ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি’তে গত মে মাস চিকিৎসার পরে তার স্ত্রী এখন সুস্থ। স্বামী বলেন, ‘অন্য জনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে প্রথমে তেরো দিন কথা বলিনি। যখন বুঝলাম ও অসুস্থ, তখন অভিমান দূরে রেখে ভালবেসেই বুকে জড়িয়ে ধরেছি!’

মনোরোগ চিকিৎসক প্রদীপ ওই যুবকের এমন আচরণের প্রশংসা করে বলেন, ‘রোগী যা করছেন, সেটা শুধুই অসুখের বশে তা বুঝতে হবে পরিজনদের। এ ক্ষেত্রে ওই যুবক যেভাবে স্ত্রীর পাশে থেকেছেন তা সত্যিই দৃষ্টান্তের।’ আনন্দবাজার।

Check Also

করোনা মোকাবিলায় সিঙ্গাপুরের দক্ষতায় মুগ্ধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  :   প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনায় মুগ্ধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *