Home / জাতীয় / ‘ভালো’ কোম্পানির পণ্য নিম্নমানের হলে মানুষ খাবে কী

‘ভালো’ কোম্পানির পণ্য নিম্নমানের হলে মানুষ খাবে কী

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি কোম্পানির খাদ্যপণ্য মানোত্তীর্ণ না হওয়ায় সেগুলোর সনদ (সার্টিফিকেশন মার্কস বা সিএম লাইসেন্স) বাতিল করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এর মধ্যে খাজানা মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ঘি ও চানাচুর অন্যতম। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বড় বড় কোম্পানির পণ্যের মানের ওপর যদি আস্থা রাখা না যায়, তাহলে মানুষ খাবে কী?

বিএসটিআই বলছে, পরিদর্শন দলের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে নমুনা কিনে পরীক্ষা করেছে তারা। পরীক্ষায় পণ্যগুলো মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বিএসটিআই থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত জুনে ১৬টি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করে সংস্থাটি। গত বুধবার (৭ আগস্ট) আরও ১৩টি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রেভেন ফুডের লাচ্ছা সেমাই এবং খাজানা মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ঘি ও চানাচুর উৎপাদনে না থাকায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

পণ্যের লাইসেন্স বাতিলের কারণ হিসেবে বিএসটিআই বলেছে, প্রথম দফার পরীক্ষায় মান খারাপ পাওয়ার পর দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও মানের কোনও উন্নতি না হলে তারা লাইসেন্স বাতিল করে থাকে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক রিয়াজুল হক বলেন, ‘রেভেন ফুড এবং খাজানা মিঠাইয়ের পণ্যের উৎপাদন নেই, ফলে তারা আমাদের মান নিশ্চিত করতে পারবে না। তাদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে লাইসেন্স লাগবে না। পরীক্ষায় বাকিগুলোর নিম্নমান পেয়েছি।’

প্রথমবার পরীক্ষায় মান খারাপ পেলে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জবাব সন্তোষজনক হলে আমরা গ্রহণ করি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা অনুরোধ করে পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য। দ্বিতীয়বার ফেল করলে আমরা লাইসেন্স বাতিল করে দিই।’

নামিদামি এসব কোম্পানির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভোক্তারা বলছেন, এটা স্রেফ তাদের সঙ্গে প্রতারণা। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত সোহেল রানা বলেন, ‘বড় বড় কোম্পানির ওপর সাধারণ মানুষের অনেক ভরসা থাকে। যেহেতু বড় কোম্পানি সেহেতু মানসম্মত। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বড় কোম্পানির পণ্যেও ভেজাল। তাহলে আমরা কাদের পণ্য কিনবো?’

নামের আড়ালে ভোক্তাদের সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘আমরা যাদের নির্ভরযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলে মনে করি, তাদের পণ্যের গুণগত মান ঠিক নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

ক্যাব সভাপতি বলেন, ‘মানুষের বিশ্বাসকে পণ্য করে যারা অর্থ উপার্জন করে, তাদের অপরাধকে খাটো করে দেখা উচিত হবে না। সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচারিক আদালতের প্রতি আমাদের আবেদন থাকবে, যত বড় কোম্পানি হবে তাদের অপরাধকে তত বড় করে দেখে উপযুক্ত শাস্তি দিন।’

নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন এবং সরবারহ বন্ধে ব্যবসায়ী মহলের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন বন্ধে বিএসটিআইসহ সরকারের সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সমস্যা হলো একবার বন্ধ করা হলে দেখা গেলো অন্য নামে আবার বাজারে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের যতটুকু করার আমরা করছি।’ তবে এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিদের মুখ্য ভূমিকা পালন দরকার বলে মত দেন তিনি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকারি সংস্থা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘দেশে কোনও একটি ফ্যাক্টরি ঠিকমতো কাজ করে বলে আমার মনে হয় না। ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সক্ষমতার অভাব আছে, প্রশিক্ষণের অভাব আছে, আধুনিকায়নের অভাব আছে, নৈতিকতার অভাব আছে, জ্ঞানের অভাব আছে। অনেকগুলো কারণেই একটি পণ্যের মানের ব্যত্যয় ঘটতে পারে।’

এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখান ধরা পড়ছে সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রাতারাতি এগুলোকে ঠিক করা যাবে না। এ জন্য সময় প্রয়োজন।’

মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, গত দুই-তিন বছর থেকে এই সংশোধনের শুরু হয়েছে। একটা সময় পরে ভালো প্রসেসড খাবার পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Check Also

নতুন ভোটাররা সহসা স্মার্টকার্ড পাচ্ছেন না

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     সারাদেশে চলমান রয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *