Sunday , September 22 2019
Home / খেলাধুলা / বিশ্বকাপে মাশরাফি যে ভালো করবে না তা জানতো বোর্ড : পাপন

বিশ্বকাপে মাশরাফি যে ভালো করবে না তা জানতো বোর্ড : পাপন

স্পোর্টস ডেস্ক :    সত্যিই কি আশ্চর্য মানসিকতা! যে মাশরাফির হাত ধরে হোঁচট খেয়ে পড়ে থাকা বাংলাদেশ ধীরে ধীরে হাটতে শিখে এক সময় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, এবার বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে না পারতেই সেই মাশরাফির কী নিরদারুন সমালোচনা! যারা এই সমালোচনা করছেন, আহত মাশরাফির দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছেন, তির্যক বাক্য কথা বলছেন- তারা কেউ খুঁটিয়ে দেখছেন না, আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এতটা এগিয়ে যাওয়ার পথে মাশরাফির দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব কতটা ভূমিকা রেখেছে।

আসুন একটু পিছন ফিরে দেখি, সেই ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে দিয়েই সত্যিকার উত্থানটা শুরু। তারপর ঘরের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তিন তিনটি পরাশক্তিকে ওয়ানডে সিরিজ হারানো, পাকিস্তানিদের ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে ‘বাংলাওয়াশ’; তারপর ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে সবার নজর কাড়া। প্রশংসায় ধন্য হওয়া।

কেন স্বপ্ন পূরন হলো না, কী কী কারনে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সেরা চার দলের ভিতরে জায়গা করে নিতে পারেনি- তা নিয়ে বিস্তার কথাবার্তা। আলোচনা-পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন। টাইগারদের আত্মনিবেদন, এ্যাপ্রোচ-এ্যাপ্লিকেশনআর পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশ্লেষনের পর অনেক বড়-বড় বোদ্ধা-বিশেষজ্ঞই এর কারণ হিসেবে মূলতঃ দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন।

যার একটি হলো, অতিমাত্রায় সাকিব আল হাসান নির্ভরতা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব এবারের বিশ্বকাপে খেলেছেন বিশ্ব সেরার মতই। দেখিয়ে দিয়েছেন, গায়ে বিশ্বসেরার তকমাটা এমনি-এমনি লাগেনি। এতকাল ধরে গায়ে সেঁটেও থাকেনি। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান আর বল হাতে ১১ উইকেট। বিশ্বকাপ তো বটেই, এটা সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের যেকোনো আসর কিংবা সিরিজের সেরা পারফরম্যান্স।

আট ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি, আর পাঁচ-পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। একটি পাঁচ উইকেট শিকারের বোলিং স্পেল। বাংলাদেশ যে তিনটি ম্যাচ জিতেছে, তার সবকটার রুপকার, স্থপতি ও ম্যাচ সেরা হওয়া। সাকিবের এমন অসাধারন পারফরম্যান্সের পরও সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ওঠা সম্ভব হয়নি। এতেই বোঝা গেছে একজন যত ভালই খেলুক না কেন, কেউ একা দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিতে পারেনা। ঘুরিয়ে বলতে সেমিতে খেলতে কারো একার নৈপুণ্য যথেষ্ট নয়।

এর বাইরে বোলিং দুর্বলতা আর চরম বাজে ফিল্ডিংকে দায়ী করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে নির্বিষ, কমজোরি বোলিং আর চরম বাজে ফিল্ডিং ও আট খেলায় অন্তত ৮-১০ টি ক্যাচ ফেলার মাশুল গুণতে হয়েছে টাইগারদের। এছাড়াও আরও একটি কথা কিন্তু উঠছে।

সেটা হলো অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বোলিং অকার্যকারিতা। আট ম্যাচে টাইগার ক্যাপ্টেন নিজেকে খুঁজে পাননি একবারের জন্যও। আট ম্যাচে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে একটি মাত্র উইকেট। ইংল্যান্ডের সাথে তৃতীয় ম্যাচটি ছাড়া আর কোন ম্যাচে ১০ ওভারের বোলিং কোটা পূর্ন করতেও পারেননি। সবাই না, তবে কেউ কেউ তা নিয়ে ফোড়ন কাটছেন। সমালোচনার হুল ফোটাচ্ছেন।

এটা সত্যিই যে মাশরাফি পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে না পারায় পেস বোলিং ইউনিট দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দলে থাকা মোস্তাফিজ আর সাইফউদ্দীন নিয়মিত উইকেট পেলেও নতুন বলে ব্রেক-থ্রু আনতে পারেননি। বলে ধারও কম ছিল। ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তেমন সমীহও আদায় করতে পারেননি তারা। আর তাই মাশরাফির অনুজ্জ্বলতা আর অকার্যকরিতা চোখে পড়েছে বেশি।

কেউ কেউ এমনও বলছেন, মাশরাফি আহত, ম্যাচ ফিটনেস কম ছিল- এমন অবস্থায় না খেললেই হতো। কিন্তু তারা খুঁটিয়ে দেখছেন না, মাশরাফির বিকল্প কেউ ছিল না। রুবেল হোসেন দুটি ম্যাচ খেলেছেন। ওভার পিছু প্রায় ৮ রান করে দিয়েছেন।

এদিকে অনেকেই হয়তো জানেন না মাশরাফির আসলে খুব বেশি কিছু করারও ছিল না। মূলত বিশ্বকাপের আগেই তার লড়াই শুরু হয় ইনজুরির সঙ্গে। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামন্টের ফাইনালে স্মরণীয় জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে তার। সেটা কমেনি। বরং দিনকে দিন বেড়েছে। মেডিকেল শাস্ত্রে ইনজুরিটা বলা হয়েছে ‘গ্রেড টু টিয়ার।’ এ ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ খেলা যায়না। অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ বিশ্রাম হলো এ ইনজুরির প্রথম চিকিৎসা।

কিন্তু মাশরাফি একদিন বিশ্রামও পাননি। বিশ্রাম নেবার ফুরসতও ছিল না। মাশরাফি তাই নিজের সেরাটি দিতেও পারেনি। এদিকে জানা হলো, মাশরাফি যে বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন না, তার বলের ধার যে খুব কম থাকবে; তা আগেই জানতেন বোর্ড কর্তারা।

নাজমুল হাসান পাপন বলে ওঠেন, মাশরাফি বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি। কারণ আমরা কিন্তু আগেই জানতাম সে ভালো করতে পারবেনা। না পারারই কথা। এই ধরনের কন্ডিশন ও পিচে সে ভাল করবে এটা আমরা আশাও করিনি। সে ইনুজুরিতে ছিল। আয়ারল্যান্ডে ফাইনাল ম্যাচ থেকেই তার সঙ্গী গ্রেড টু টিয়ার।’

এদিকে নাজমুল হাসান পাপন স্বীকার করেছেন, মাশরাফিকে ইনজুরির কারণে শেষ দুই ম্যাচ না খেলার কথা ভাবছিলেন। তিনি বলেন, ‘ মাশরাফির সঙ্গে দু-একবার কথা হয়েছিল যে ও বসে পড়বে। ও নিজেও ঠিক করেছিল খেলবে না। কিন্তু ও লড়াকু। তারপরে তার মনে হয়েছে আমি সারাজীবন দেশের জন্য ফাইট করলাম এখন শেষ দুই ম্যাচে বসে পড়ব? আমি তো ইনজুরি নিয়েই খেলি।’

বিসিবি প্রধানের শেষ লাইনে পরিষ্কার, যে যাই ভাবুক আর মনে করুক, যত সমালোচনা-বাকা কথাই হোক না কেন- মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে খেলাট অন্তত বোর্ড বাঁকা চোখে দেখেনি। আর দেখলে নাজমুল হাসান পাপন একথা বলতেন না, ‘এটা তো মানুষ অনেকে অনেক রকম ভাবে। তবে মাশরাফির এই ধরনের মানসিকতা আসলে সবার দরকার।’

আর তিনি তথা বোর্ড তো পারফরমার মাশরাফির চেয়ে অধিনায়ক মাশরাফিকেই বেশি চেয়েছেন। তারও দলিল বোর্ড প্রধানের এই মন্তব্য, ‘মাশরাফি খেলোয়াড় হিসেবে হিসেবে নেই। কিন্তু যদি অধিনায়ক বলেন, তাহলে ওর মতো অধনিায়ক আমরা কোথাও পাব না।

Check Also

দুই হালি গোলে ইপিএলে ম্যান সিটির ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক :  ক্ষণিকের জন্য মনে হচ্ছিলো হয়তো ভিডিও গেম খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলাররা। এমনটা মনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *