Home / উপ-সম্পাদকীয় / নেতৃত্ব হোক যোগ্যতা দিয়ে

নেতৃত্ব হোক যোগ্যতা দিয়ে

শামীম শিকদার কাপাসিয়া  :   আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের ভাবালেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকে না। এ সব ঘটনাগুলো কেউ খুব গভীরভাবে উপভোগ করে, আবার কেউ উপলব্ধি করার চেষ্টা করে। এমন অনেক ঘটনা আছে যা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো নয়। যার পেছনে অবশ্যই নিদিষ্ট কিছু কারণ থাকে। তা ছাড়া নিজের অবস্থান ও অস্তিত্ব প্রকাশ অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবিকতাবোধ প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে সমাজে নিজেকে সমাজসেবক পরিচয় দেয়া ও নিজের কার্যক্রম সম্পর্কে অন্যকে অবগত করা একান্তই নিজের শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলতে আমরা অনেকে শুধু নির্দিষ্ট দলকে বুঝি। প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট দল ছাড়াও যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করা যায় তা হয়তো অনেকের অজানা। কিংবা রাজনৈতিক দলের বাহিরেও নিজেকে অন্যের কাছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গঠিত করার সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। সে রাজনীতি হতে পারে কোনো সমাজের বা নির্দিষ্ট কোনো গ্রামের। যাকে এক কথায় বলা যায় ‘ভিলেজ পলিটিক্স’। এ ধরনের রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি পক্ষ থাকে। কেউ ভালো দিক প্রকাশ করে নিজেকে সমাজের মাঝে টিকিয়ে রাখে; আবার কেউ মন্দ দিক প্রকাশ করে নিজেকে সমাজের মাঝে টিকিয়ে রাখে। অর্থাৎ দুই ধরনের লোকেরাই সমাজে শক্তভাবে টিকে থাকে। তবে এদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে একদল লোক প্রত্যক্ষভাবে মানুষের মনে স্থান করে নিয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে। আরেক দল লোক পরোক্ষভাবে মানুষের ঘৃনার পাত্র হয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে। তবে দুই দলেরই একটি স্থানে মিল রয়েছে আর তা হলো সম্মান অর্জন। তার মধ্যে কেউ জনগণের মন ও আচরণের মাধ্যমে অর্জন করে; আবার কেউ শুধু জনগণের আচরণের মাধ্যমে অর্জন করে।

কয়েকদিন আগে আমি একটি ফেসবুক স্টেটাসে বলেছিলাম, আজকাল সম্মানও বিক্রি হয়। আমার কথা শুনে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করেছে। অনেকের দাবি এটা কোনোভাবে সম্ভব নয়। আবার অনেকের মন্তব্য তারা ঠিক বুঝতে পারেনি। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় অর্থকে। অর্থাৎ যার আর্থিক সামর্থ্য যত বেশি তার সম্মান অর্জন করার দক্ষতা তত বেশি। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায় পড়ালেখা নেই, এমনকি ভালো করে নিজের নাম লেখতে না পারা লোকটিও প্রধান অতিথির চেয়ার দখল করে বসে আছে। আর তার নিচে বসে আছে সুদর্শন শিক্ষিত কোনো ব্যক্তি। আসলে এখানে বলার তেমন কিছু নেই; কারণ অর্থের মাধ্যমে পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থাগুলো। পরিবর্তন হচ্ছে ব্যক্তি মূল্যায়নের নিয়ম নীতি। বর্তমান সমাজে টিকে থাকার জন্য চাই অর্থ আর ক্ষমতা। এই দুটি থাকলে খুব সম্ভবত প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ সম্মানটা খুব সহজে অর্জন করা সম্ভব হয়। হয়তো ভুল বললাম, কারণ ক্ষমতার প্রয়োজন নেই ; অর্থ থাকলে ক্ষমতাটি অর্জন করতে খুব কষ্ট হয় না। নতুন প্রজন্মরা প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছে তাদের কর্মকান্ডগুলো। পরবর্তী সময়ে সেভাবেই তা ব্যবহার করছে অন্যের ওপর। কিন্তু মধ্য থেকে বিতর্কে পড়ছে তৃতীয় পক্ষ। যেমন শিক্ষা তেমন ফল হওয়াটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

গ্রামে গ্রামে ইসলামী সম্মেলনের হিড়িক পড়ে। সকাল-সন্ধ্যা সম্মেলনের মাইকিন, বড় বড় পোস্টার, শত শত নামের তালিকায় অনেকটা বিরক্তি চলে আসবে অনেকের। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে গ্রামের নিচু প্রকৃতির বা সমাজকে ধ্বংস করে খাওয়া লোকটিও পড়ে যায় সমাজ সেবকের সিরিয়ালের তালিকায়। মাইক দিয়ে বারবার ঘোষণা করা হয় তার নামটি। এমন কর্মকান্ড দেখে কেউ হাসে, আবার কেউ বিরক্তিবোধ করে। আমি ইসলামকে অবজ্ঞা করছি না। আমি অবজ্ঞা করছি যারা ইসলামকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে তাদের। যারা ইসলামী সম্মেলনের নাম দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার অর্থ। যারা গ্রামের দরিদ্র ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে এক হাজার টাকা নিয়ে তার বিনিময়ে দিচ্ছে কাগজের একটি রিসিট। যারা অতিথির আসন নিয়ে ধাক্কা ধাক্কি করে বিলিন করে দিচ্ছে নিজের ব্যক্তিত্ববোধকে।

যারা শহরে বাস করি তারা হয়তো মনে করে গ্রামে বাস করা খুবই শান্তির বা সেখানে শহরের মতো তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। অন্যদিকে যারা গ্রামে বাস করে তারা মনে করে শহরের মতো শান্তিপূর্ণ জায়গা হয়তো গ্রামে কখনই নয়। তবে আমার দৃষ্টিতে গ্রাম থেকে শহরেই অনেক ভালো একটি জায়গা অন্তত পক্ষে নিজের সম্মানবোধ রক্ষা করার জন্য। যারা মাসে একবার বা বছরে তিনবার শহর থেকে গ্রামে যায় নিঃসন্দেহে তারা অনেক সম্মানিত ব্যক্তি। গ্রামের সবাই তাকে অনেক সম্মান করে। দূর থেকে ছুটে আসে দেখা করার জন্য। এখন শহরে সে কি করে তা দেখা বড় বিষয় নয়, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সে শহরে থাকে।

গ্রাম্য রাজনীতির কাছে হেরে যায় একজন আদর্শবান ব্যক্তির আদর্শ ও নীতি। ভালো মানুষটিকেও সমাজের চোখে বানানো হয় চোর বা ধোঁকাবাজ। সে সূত্র ধরেই কোনো ভদ্র বা বিবেকবান মানুষের কাছে নেতৃত্ব খুব বেশি দিন স্থায়ী থাকে না। এমন পরিস্থিতি থেকে অবসানের জন্য প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। প্রয়োজন যোগ্য স্থানে যোগ্য মানুষকে স্থান দেয়া। নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা বুঝে নিজেকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা। নবীনদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেয়া।

Check Also

বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক প্রবীণদের আপন ঠিকানা

মো. ফুয়াদ হাসান  :    জন্মগতভাবেই মানুষ অন্যের মুখাপেক্ষী। মানুষের প্রথম জীবন আর শেষ জীবনের সঙ্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *