Home / বিশেষ প্রতিবেদন / ডিআইজি মিজানকে ‘ছাড়’ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

ডিআইজি মিজানকে ‘ছাড়’ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    দুর্নীতির তদন্ত নিজের পক্ষে নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা টিভি চ্যানেলে সদর্পে ঘোষণা দিয়ে বেড়ালেও ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি এখনো। ঘুষ নেওয়ার মতো দেওয়াও আইনবিরুদ্ধ কাজ। তিনি দুদক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন- এমন কথা বলার তিন দিনেও সরকার বা পুলিশ সদরদপ্তর তাকে বরখাস্ত বা এমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, সরকার ব্যবস্থা নেবে। আইন অনুযায়ী আগাবে সরকার। ডিআইজি মিজান ঘুষ দিতে চেয়েছেন, কারণ তার দুর্বলতা ছিল।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, তারা চাইলেও মিজানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। কারণ, ডিআইজি পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাবেক পুলিশপ্রধান নুরুল হুদা মনে করেন, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ নেয়া, দুটিই অপরাধ। আর কোনো ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না।’

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। আর অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে মিজানের কথিত একটি কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে। এখানে মিজান বলেছেন, তিনি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বাছিরকে। বাছির এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে বরখাস্ত করে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

দুদক যদিও জানিয়েছে, এই বরখাস্তের আদেশ এসেছে গোপন তথ্য ফাঁসের কারণে। তবু বাছিরের বিরুদ্ধে একটি দৃশ্যমান আদেশ এলেও মিজানের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোদ পুলিশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বিব্রত।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা টিআইবি মনে করে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান ‘ব্যবস্থা না নিয়ে’ তাকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যেকোনো অভিযোগ উঠলে, দ্রুত সেটির নিষ্পত্তি না করা অপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়ার শামিল। ডিআইজি মিজান আগে যে ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন, সেটির সুরাহা দ্রুত হওয়া উচিত ছিল। এবারও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।’

টিআইবি কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ সেবা পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়। কারণ, তাদের বাধ্য করা হয় অনেক সময়। এ ধরনের সাধারণ ঘুষদাতার সঙ্গে ডিআইজি মিজানকে মেলালে চলবে না। কারণ, মিজান ঘুষ দিয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে। অভিযোগের খড়্গ থেকে বাঁচতে। তার সঙ্গে দুদক কর্মকর্তাও সমভাবে দায়ী। পরস্পর যোগসাজশে তারা ঘুষ লেনদেন করেছেন। দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে কেন ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না?’

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। এক নারীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে প্রত্যাহার করা হয় মিজানকে। সংযুক্ত করা হয় সদরদপ্তরে।

এরপর পুলিশ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় আগাচ্ছে না। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নারী উপস্থাপিকাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও তার স্বামীকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথোপকথন ফাঁস হয় গণমাধ্যমে। ওই উপস্থাপিকা সাধারণ ডায়েরিও করেন। সেই তদন্তও আর আগায়নি। এর মধ্যেই নিজেই ঘুষ দেওয়ার মতো বেআইনি কাজের কথা বলে বেড়াচ্ছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিজান।

পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী গণমাধ্যকর্মীদের বলেছেন, ‘তার (মিজান) বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে। এরপর তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ আসবে। ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পুলিশ সদরদপ্তর সাসপেন্ড করতে পারে না। এর এখতিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’

গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর মিজান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

মামলা থেকে নিজেকে বাচাঁতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বেল অভিযোগ উঠেছে মিজানের বিরুদ্ধে।

প্রায় ছয় মাস ধরে দুজনের মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে ২৫ লাখ ও পরে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি মিজানুরের। কিন্তু ২ জুন খন্দকার এনামুল বাছির মিজানুরকে জানান, তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারের চাপে তাকে অব্যাহতি দিতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর টাকা পয়সা ‘লেনদেনের’ কথা ফাঁস করেন। প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন একাধিক অডিও রেকর্ড।

Check Also

গুজবের পেছনে জামায়াত সম্পৃক্ততার সন্দেহ

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :   পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে যে ‘গুজব’ ছড়ানো হয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *