Thursday , August 22 2019
Home / জাতীয় / ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেছে ২৪৭ জনের

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেছে ২৪৭ জনের

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    এবারের ঈদুল ফিতরে গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ২৬ জন।

আজ (১২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি ব্রি. জেনারেল (অব.) জি এম কারুল ইসলাম। এ সময় সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুদ্দীন চৌধুরীসহ সংগঠনটির আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দেশের সড়ক, মহাসড়কে ১৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৪৭ জন, আহত হয়েছেন আরও ৬৬৪ জন। এর মধ্যে সড়ক ও মহাসড়কের দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত এবং ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এরমধ্যে গাড়িচাপার ঘটনা ছিল ৫১টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৮১টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৯টি এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় এসব দুর্ঘটনায় ৬৩টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মটরসাইকেল এবং ২৬টি অন্যান্য যানবাহন জড়িত ছিল।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও নৌপথের ৫ দুর্ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আর ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদকেন্দ্রিক যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বেশি ভাড়া আদায়, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, বিরতিহীন/বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা ইত্যাদি এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এসব সমস্যা সমাধানে ঈদ যাত্রায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার স্টাফবাস যাত্রী বহনে ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যানবাহন ভাড়া করার সুপারিশও করেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, সড়ক বাঁক সোজা করা, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, হালকা গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নিয়ে ভারী গাড়ি চালাচ্ছেন– এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয়া, মহাসড়কে নছিমন-করিমন জাতীয় গ্রামীণ যানবাহন বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি করারও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

Check Also

ওভারটেক করতে গিয়ে আরেক বাসে ধাক্কা, নিহত ৩

ঠাকুরগাঁও    প্রতিনিধি :    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দুই বাসের সংঘর্ষে এক চালকসহ তিনজন নিহত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *