Home / জাতীয় / জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প আছে, সুফল নেই

জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প আছে, সুফল নেই

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    বর্ষা এলেই চট্টগ্রাম ডুববে, দেশবাসীর তা অনেক দিনের জানা। এক সময় অভিযোগ ছিল, জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ নেই। বর্তমান সরকার সেই ধারা ভেঙে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে একে একে তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। যেখানে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। এত বিশাল বাজেটের প্রকল্প থাকলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামের মানুষ।

জানা গেছে, এবার আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে মূলত এসব অপরিকল্পিত জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্পের কারণেই। এরই মধ্যে বর্ষা শুরুর আগেই গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরের প্রবর্তক মোড়, জিইসি, ওয়াসার মোড়, চকবাজার, নাসিরাবাদ, মুরাদপুর, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এত দারুণ দুর্ভোগে পড়েন রোজাদাররা।

উপরন্তু বর্ষার আগে এ প্রকল্পের অধীনে নগরীর খালগুলো পুনঃখনন ও সম্প্রসারণের কথা বলে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের সুবিধার্থে এসব খালের মুখ বাঁধ দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। নগরীর পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখে এভাবে বাঁধ দেয়ায় আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

Ctg-water-logging-1.jpg

স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করছে। খালের মুখে বাঁধ দিয়ে কাজ করতে হলে তা অবশ্যই মার্চের মধ্যে শেষ করা প্রয়োজন ছিল। কারণ আমাদের দেশে মে মাসেই বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় উন্নয়নকাজের জন্য খালের মুখ বন্ধ রাখলে পানি চলাচল ব্যাহত হবে। ফলে বর্ষার আগে খালের মুখের বাঁধ খুলে দেয়া না হলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএর রশি টানাটানিতে গত বছর বেশ ভুগতে হয়েছে চট্টলাবাসীকে। মেগা প্রকল্পের অধীনে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত বছরের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই করে সিডিএ। এরপর এপ্রিল মাসের শেষ দিকে নালা-নর্দমা পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।

এদিকে সিডিএর প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর আগে ওই বছরের জানুয়ারিতে শুরুতে নগরীর খালগুলোর খননকাজ শুরু করেছিল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু সিডিএর কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব না পাওয়ায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসে খননকাজ বন্ধ করে দেয় তারা।

সিডিএ-সিটি কর্পোরেশনের সেই টানাটানিতে কিছুটা ভাটা এসেছে এ বছর। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি সিডিএ’র আওতাধীন আসা ঠিক হয়নি। কারণ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। যদিও সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। রয়েছে যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবল।

তবে শুধু সিডিএ নয়, জলবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতার দায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনেরও কম নয়। সংস্থাটি প্রায় পাঁচ বছর আগে বহদ্দারহাট বারৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। সে সময় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৬ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। অথচ প্রকল্পের কাজ এখনও শুরুই হয়নি।

Ctg-water-logging-1.jpg
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করার।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার বড় প্রকল্প নিয়ে হাজির হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া জানান, এ প্রকল্পের অধীনে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ২৩টি, হালদায় সংযুক্ত তিনটি এবং বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত ১৪টি খালের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ৬৯টি পাম্প হাউস নির্মাণ করা হবে। এসব খাল সুরক্ষিত করতে নির্মাণ করা হবে রিটেইনিং ওয়াল, যার দৈর্ঘ্য হবে দুই দশমিক ৭০ কিলোমিটার। পাম্প হাউসের কাজ নিরবচ্ছিন্ন করতে জেনারেটর ও রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে সাতটি জেনারেটর স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রেগুলেটর স্থাপন করা হবে ২৩টি। অধিগ্রহণ করা হবে ছয় হেক্টর ভূমি।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়ার মতে, অবস্থাদৃষ্টিতে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে উদ্যোগের কোনো অভাব নেই। কার্যত যে জিনিসটির অভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে- সেটি হলো প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে (চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড) সমন্বয় বাড়ানো উচিত। এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

Check Also

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’-সনাতন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *