Home / আর্ন্তজাতিক / ভারতে ৬ টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাবে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতে ৬ টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :   নিরাপত্তা ও বেসামরিক পরমাণু শক্তি উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারতে ছয়টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দু’দিনের বৈঠকের পর বুধবার ওয়াশিংটনে বিষয়টি নিয়ে একমত হয়েছে দু’পক্ষই। এক যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সারা বিশ্বে তেল ক্রয়ে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। তাই ভারতকে পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রেরও উৎসাহ রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তাই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে দুই দেশ।

২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৬ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কথা প্রথম জানানো হলেও তা আটকে ছিল আইনি জটিলতায়। ভারতের আইন অনুয়ায়ী, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনও দুর্ঘটনা হলে তার দায় নিতে হবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে কোম্পানি বানাচ্ছে, তাদেরই।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে যারা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তদারকি করবে তাদের। সম্প্রতি নতুন করে দু’দেশ এ বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে দীর্ঘদিন ধরেই উৎসাহ দেখাচ্ছিল মার্কিন ওয়েস্টিং হাউস কোম্পানি। যদিও আইনি জটিলতার কারণেই সেই উদ্যোগ থেমে ছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুল্লিগুলো চালাতে গিয়ে বিপুল লোকসান করে দেউলিয়া হয়ে যায় এই কোম্পানি।

গত বছরই জাপানের তোশিবার কাছ থেকে এই কোম্পানি কিনে নেয় কানাডার ব্রুকফিল্ডস অ্যাসেট কোম্পানি। এর পরই ওয়েস্টিং হাউস নামের এই কোম্পানিকে বাঁচাতে উদ্যোগী হয় মার্কিন সরকার। মার্কিন শক্তিমন্ত্রী রিক পেরি এই কোম্পানিকেই ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে বরাত দেওয়ার পক্ষে সম্মতি জানিয়েছেন। তখনই অন্ধ্রপ্রদেশে ছয়টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন তিনগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাশিয়াও। গত অক্টোবরেই ভারতে ছয়টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি এবং মস্কো।

ভারত পরমাণু বিদ্যুতের পথে হাঁটলেও অধিকাংশ উন্নত দেশগুলো পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ কমানোর পথে হাঁটছে। পরিবেশবিদদের দাবি, পরমাণু বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। পাশাপাশি, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কোনও দুর্ঘটনা হলে যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা সামলানোর পরিকাঠামো বা প্রযুক্তি মানুষের হাতে নেই বলেও দাবি বিজ্ঞানীদের একাংশের।

Check Also

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হলে ইরান ধ্বংস হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   :     যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে বলে দেশটিকে সতর্ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *