Home / জাতীয় / ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :   বিশ্ব ইজতেমার জন্য প্রায় প্রস্তুত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীর। মাঠের কাজ শেষ পর্যায়ে। আজকের মধ্যেই শেষ হবে বাকি কাজ। দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা আজ থেকেই আসতে শুরু করবেন ময়দানে। আগামী শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবারের ইজতেমা।

গত কয়েক বছর ধরে তিন দিন করে দুই পর্বে ইজতেমা হলেও এবার এক পর্বে চার দিনে হচ্ছে। তাবলিগ জামাত নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপে এবার ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই পক্ষ দুই দিন করে এই ইজতেমায় নেতৃত্ব দেবে।

তবে কার্যত ইজতেমা গড়াবে ছয় দিনে। দিল্লির মাওলানা সাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত অংশটি প্রথম দুদিন নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। তবে তারা বৃহস্পতিবার থেকেই ইজতেমা শুরু করে শনিবার আখেরি মোনাজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর মাওলানা সাদের অনুসারীরা পরের তিন দিন ইজতেমা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গতকাল ইজতেমা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমাকে সামনে রেখে পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সব প্রস্তুতিমূলক কাজ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভ্যাকু দিয়ে সমান করা হচ্ছে মাঠের বিভিন্ন অংশ ও রাস্তা ঘাট। মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানে সামিয়ানা টানাচ্ছে, ঠেলাগাড়িতে বাস নিয়ে আসছে, মাটির কাজ, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ চলছে মাইক টানানোর কাজ। প্রতিদিন ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দল বেঁধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন।

ইজতেমার ময়দানজুড়ে বিদ্যুতের তার, গ্যাসের লাইন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে একই সঙ্গে। ওজু গোসলের স্থান ও টয়লেট পরিষ্কার-পরিছন্নসহ নানা কাজ করছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন। এ পর্যন্ত প্যান্ডেলের বেশিরভাগ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজক কর্তৃপক্ষ। জেলাওয়ারি ভাগ করা হচ্ছে খিত্তা। মাঠে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ চটের ছাউনি এখনো বাকি রয়েছে। ময়দানে বাঁশের খুঁটি পোতা হয়ে গেছে। মাঠের পূর্ব পাশে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বালু দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছে। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টিনের ঘর। বিদেশি মেহমানদের কামরার দক্ষিণ পূর্বপাশে মূল মঞ্চের কাজ করা হচ্ছে। তুরাগ নদী পারাপারের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করছে। যাতে করে মুসল্লিরা এপার ওপার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এরই মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, অন্যবারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

তাবলিগ জামাত নিয়ে বছর দুয়েক ধরেই বিরোধ চলে আসছে। গত বছর দিল্লির মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সামনে আসে। তিনি ঢাকায় এলেও বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে ইজতেমা মাঠে যেতে পারেননি। এবারের ইজতেমা আয়োজনকে কেন্দ্র করে গত ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হন।

দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে এবারের ইজতেমা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ইজতেমা হলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। সরকার নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দুই পক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন।

Check Also

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পাশের সড়কে দুর্ঘটনায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *