Wednesday , August 21 2019
Home / শীর্ষ নিউজ / রুমায় বৌদ্ধ শরণার্থীদের আশ্রয় : সঙ্কটে পড়বে স্থানীয়রা

রুমায় বৌদ্ধ শরণার্থীদের আশ্রয় : সঙ্কটে পড়বে স্থানীয়রা

বান্দরবান   প্রতিনিধি  :    বান্দরবানের রুমা উপজেলার চেইক্ষ্যং সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে বৌদ্ধ শরণার্থীরা। মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তাদের এই অনুপ্রবেশ। আর খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন এই শরণার্থীরা। স্থানীয় গরিব কৃষকরা তাদের খাবার সরবরাহ কবছেন। স্থানীয়দের দেয়া সামান্য ভাত, পাহাড়ি আলু, আর বাকল খেয়েই জীবন ধারণ করছেন অনুপ্রবেশকারী ২০৩ বৌদ্ধ শরণার্থী।

কিন্তু দুর্গম চেইক্ষ্যং পাড়ার স্থানীয় আদিবাসীরা অনেকটা জুম চাষের ওপরেই নির্ভরশীল। আর জুম চাষের ভালো ফলন না হলে এমনিতেই চার থেকে পাঁচ মাসের খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। তার ওপর বৌদ্ধ শরণার্থীদের যদি খাদ্য সরবরাহ না করা হয় তাহলে ওই এলাকায় দেখা দেবে বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কট এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।

মিয়ানমারের খামংওয়া পাড়া থেকে তিন সন্তান নিয়ে অনুপ্রবেশ করা রেদাসে রাইখাইন (৩৫) বলেন, এখন পাড়াবাসী খাদ্য সরবরাহ করছে, কিছুদিন পর তারা খাদ্য দিতে পারবে না, সেটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন আছি।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, রুমার চেইক্ষ্যং পাড়া সীমান্তে বিজিবি ও সেনা সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলেই আমরা শরণার্থীদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মিয়ানমারের শান, কাচিন ও আরাকানের বিভিন্ন স্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। প্রধান সংঘর্ষস্থল হলো শান রাজ্যের পালিতওয়া এলাকা। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ২০৩ শরণার্থীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে আরাকান আর্মি। সংঘর্ষস্থল থেকে প্রায় তিন দিন হেঁটে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আশ্রয় নেয় বৌদ্ধ শরণার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইনের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সশস্ত্র আরাকান আর্মি। ওই দিন ছিল দেশটির স্বাধীনতা দিবস। হামলায় বিজিপির ১৩ সদস্য নিহত হন। এ নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকাতে দেখা দেয় উত্তেজনা।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সেখান থেকে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এবার মিয়ানমারের অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আসার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

Check Also

বিমানে ফিরলেন চট্টগ্রামের ২৬৫ হজযাত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :  শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২৬৫ জন হজযাত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *