Home / রাজনীতি / জামায়াত ত্যাগের পক্ষে বিএনপির নেতা মাহবুব

জামায়াত ত্যাগের পক্ষে বিএনপির নেতা মাহবুব

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখার পক্ষে নন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান। তিনি মনে করেন, ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জামায়াতের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে তার দল।

১৯৯৮ সালে দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে গিয়ে সুফল পায়। ওই বছর বিএনপি ১৯৩ এবং জামায়াত ১৭টি আসনে জয় পায়। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনেই এই জোটের ভরাডুবি হয়।

ওই নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে বিএনপির পক্ষ থেকে গঠন করা একাধিক কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতকে ছাড়ার সুপারিশ করা হয়। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তার তৃণমূলের পরামর্শ এড়িয়ে যায়।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের পর একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সময়মতো জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবেন তারা। তবে সেই সিদ্ধান্তও আর আসেনি।

এর মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে বর্জনের পর এবার একসঙ্গে আবার অংশ নেয়। তবে এর আগে যেটা হয়নি, এবার তা-ই হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী দলটির ২১ জন নেতা ভোটে লড়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।

বিষয়টি নিয়ে চারবার ক্ষমতায় আসা দলটির নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে চুপচাপ থাকলেও এখন সোচ্চার হয়েছেন জোটের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি জামায়াতের বিষয়টি সুরাহা করতে বিএনপিকে চাপ দিয়েছেন। দৃশ্যত তিনি বিএনপিকে এ বিষয়ে শর্তই দিয়েছেন।

এখন কোন পথে যাবে বিএনপি? পুরনো শরিককে ধরে রাখবে, নাকি নতুন শরিকে আস্থা রাখবে?

জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি স্বীকৃত হতে পারে না। তাদের সঙ্গে রাজনীতি করা মুশকিল, সত্যি কথা। জামায়াত কিন্তু বলেওনি যে ওখান (স্বাধীনতার বিরোধিতা) থেকে সরে আসলাম। তারা তো (গণহত্যার অভিযোগ) অস্বীকার করছে না, তাদের অতীতের কর্মকা- নিয়ে ক্ষমাও চায়নি। তো এখানে আমি মনে করি, জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

‘জামায়াতকে বিএনপির ধানের শীষ দিয়ে তো নিশ্চয়ই অনেক ইয়ে (জনপ্রিয়তা) হারিয়েছি। এ জন্য আমার পরামর্শ থাকবে যে জামায়াত থেকে সরে আসো। জামায়াতকে আমরা অন্তর্ভুক্ত করতে পারি না।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে সে সময়ই ঘৃণার পাত্র হয় জামায়াত। যুদ্ধের শুরুতে তারা পাকিস্তানিদের নানা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে বাঙালি নিধনের মন্ত্রণাই কেবল দেয়নি, নিজেরাও রাজাকার-আলবদর বাহিনী গঠন করে গণহত্যা, লুটপাটে অংশ নিয়েছে।

রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় জামায়াতের নেতা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বে। আর বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত আলবদর বাহিনী গঠিত হয় জামায়াতের সে সময়ের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতাকর্মীদের নিয়ে। এই বাহিনীর তিন শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে।

স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ জামায়াত রাজনীতিতে ফেরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বদান্যতায়। পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির ও মুক্তিযুদ্ধের পর ‘পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ করে বিদেশে তৎপরতা চালানো গোলাম আযমকেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলছেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব যে চেতনা, তার বাইরে তো আমরা যেতে পারি না। ওরা (জামায়াত) স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে ছিল, সেখান থেকে যদি তারা সরে আসে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তারা তো সেখান থেকে সরে আসেনি।’

জামায়াতের মধ্য দিয়ে এখানে জঙ্গি উত্থান হতে পারে বলেও শঙ্কিত সাবেক সেনাপ্রধান। বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়েও আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে চাই অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র হিসেবে। সবার জন্য এই দেশ, এ জন্য এ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী থেকে আমাদের সরে আসা উচিত।’

Check Also

মাঠে বসেই ছেলের কৃতিত্ব দেখলেন সাকিবের বাবা-মা

স্পোর্টস ডেস্ক :    এমন গর্বিত বাবা-মা আর ক’জনের হতে পারে। স্নায়ুর উত্তেজনায় ভুগতে পারেন না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *