Home / সারা বাংলা / ডাক/দুদকের হাতে গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা

ডাক/দুদকের হাতে গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা

মুহাম্মদ আমিন  :    চট্টগ্রাম কাষ্টম হাউসে ৬ লাখ ঘুষের টাকাসহ ১ জন রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা ইউনিটের বিশেষ টিম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘণ্টা বেপি অভিযান চালিয়ে  রাজস্ব কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আহমেদকে আটক করেন কমিশনের এই টিম। ঢাকার ডাককে ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং ওই টিমের প্রধান মো. মাহাবুবুল আলম।
আটক রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) পদে কর্মরত। অভিযানের সময় কাস্টম হাউসের নীচতলায় নাজিম উদ্দিনের কক্ষের স্টীলের আলমারী খুলে ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করেন দুদকের কর্মকর্তারা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এই টাকা জব্দ করা হয়। টিমের প্রধান কমিশনের উপপরিচালক বলেন, সমুদ্রগামী জাহাজের ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন–১০৬) অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এরপরই দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ও মো. হুমায়ুন কবীর।
কমিশনের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী ঢাকার ডাককে বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ে প্রবেশদ্বার দুর্নীতিমুক্ত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঘুষসহ গ্রেপ্তার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু করবে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ অভিযোগে ওই কর্মকর্তাকে রাজস্ব বিভাগ তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজ বন্দর ত্যাগের আগে তিনটি সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এই তিনটি সংস্থা হলো নৌবাণিজ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস। সমুদ্রগামী জাহাজের সব মাশুল পরিশোধ করা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পর এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে পারে না। এতে বাড়তি খরচ হয় জাহাজ মালিকদের।
এবিষয়ে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, সমিতির কার্যালয়ে শিপিং এজেন্টরা হয়রানির অভিযোগ বন্দর কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘ দিন ধরে জানিয়ে আসছিল। কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছিল। কেউ এ অভিযোগ আমলে নিয়ে নিষ্পত্তির চেষ্টাও করেনি। শিফ্ট বন্দরে নঙ্গর ফেলার পর পোর্ট ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারে না। এই পোর্ট ক্লিয়ারেন্স নিতেও উৎকোচের হাত থেকে রক্ষা পায়না জাহাজ মালিকরা। অভিযান টিমের আরেক সদস্য সহকারী পরিচালক মো. জাফর আহমেদ ঢাকার ডাককে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দপ্তরে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গ্রেফতারকৃত নাজিম উদ্দিনকে আটক করে জব্দকৃত আলামতের সিজার লিষ্টসহ তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা রুজু করা হয়। বৃহষ্পতিবার রাত থেকে আসামী থানা হেফাজতে থাকেন।

Check Also

কুমারখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

কুষ্টিয়া    প্রতিনিধি :    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *