Home / আইন আদালত / আহসানউল্লাহর শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে কেউও আসেনি

আহসানউল্লাহর শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে কেউও আসেনি

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    যৌন হয়রানির অভিযোগে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌসের (বরখাস্ত) বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে কোনো সাক্ষী উপস্থিত হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। ট্রাইব্যুনালে কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য সময় আবেদন করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, হাইকোর্ট থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে জামিন নামা দাখিল করেন শিক্ষক ফেরদৌস। এরপর ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় ২০১৭ সালের ১ জুন শিক্ষক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়াও ২৮ সাক্ষীর মধ্যে দুই বছরে সাতজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৪ মে রাতে কলাবাগান থানায় শিক্ষক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুল্লাহ আল সায়েম। মামলার পর ওই দিনই কলাবাগানের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দু’দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন ফেরদৌস।

এদিকে ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানি, নগ্ন সেলফি প্রকাশ, ধর্ষণ চেষ্টা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত ফেরদৌসের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক আফরোজা আইরীন কলি। যৌন হয়রানির শিকার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীসহ মোট ২৮ জনকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সফিউল আজম শিক্ষক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক ফেরদৌস আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রশ্নপত্র সাপ্লাই এবং ভাইভা বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এক ছাত্রীর সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাসস্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার নগ্ন ছবি ওয়েবসাইট ও মোবাইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয়ায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে শিক্ষক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়।

Check Also

বীরাঙ্গনাসহ ৩৪ জনকে হত্যা : ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, অগ্নি সংযোগ, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *