Home / বিশেষ প্রতিবেদন / পোস্টার-ব্যানারে এগিয়ে মোল্লা, মাঠে সক্রিয় নবী

পোস্টার-ব্যানারে এগিয়ে মোল্লা, মাঠে সক্রিয় নবী

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    ঢাকা-৫ আসনে পোস্টার-ব্যানার, মাইকিংসহ নানামুখী প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা। দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভেদ ভুলে ভোট চাইছেন তার পক্ষে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসুস্থতা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সশরীরে বলতে গেলে নেই মোল্লা।

অপরদিকে পোস্টার-ব্যানার, মাইকিং না থাকলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী। তবে, প্রার্থীর সঙ্গ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা জনসংযোগে বের হচ্ছেন না।

Dhaka-5-1

এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা। ৮০ বছর পার হওয়া এ নেতা বয়সের ভারে এখন অনেকটাই ন্যুব্জ, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। মাতুয়াইলে বাড়ির কাছাকাছি বা খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো কর্মসূচি থাকলে তিনি শুধু তাতে যোগ দিচ্ছেন- এমনটি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, শুধু নৌকার পোস্টার ও ব্যানার। ধানের শীষের পোস্টার নেই বললেই চলে।

আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতারা জানান, ধানের শীষের পোস্টার লাগাতে গেলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, আওয়ামী লীগের লোকজন বাধা দেয়। তাই কেউ পোস্টার লাগাতে যায় না।

Dhaka-5-2

মাতুয়াইলের একজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রেস থেকে পোস্টার নিয়ে আসব, সেটাও পারছি না। পুলিশ হয়রানি করছে। ছাত্রলীগের পোলাপাইন চেক করে পোস্টার নিয়ে যায়, মারধর করে।’

নবী উল্লাহ নবী বলেন, ‘আমরা দিনে পোস্টার লাগাই, আওয়ামী লীগের লোকজন ও পুলিশ সেগুলো কেটে নিয়ে যায়। আমাদের মূল প্রতিপক্ষ হচ্ছে পুলিশ। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ আছে তারা চায় আমরা যেন চলে যাই।’

‘আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয় আমাদেরই হবে। এ আসন বিএনপির ঘাঁটি’- বলেন বিএনপির এ প্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, ‘যতই আমার লোকজনকে গ্রেফতার করা হোক, আমার সঙ্গে যদি পাঁচজন লোকও থাকে তারপরও আমি নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে যাব না।’

নবী উল্লাহ প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ করছেন, ভোট চাইছেন মানুষের কাছে। তবে তার সঙ্গে নেতাকর্মীদের আনাগোনা খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না।

Dhaka-5-3

নেতারা দাবি করছেন, পুলিশের ধড়পাকড়ের ভয়ে নেতাকর্মীরা মিছিলগুলোতে সেভাবে আসছে না। তবে গতকাল মঙ্গলবার ডেমরার বামৈল-সারুলিয়া এলাকায় এ প্রার্থীর জনসংযোগে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

ধানের শীষের প্রার্থী গত কয়েক দিনে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড়, মীর হাজীরবাগ, স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশেরপুল, গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম অনুসহ এ আসনের অন্যান্য নেতারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনিরুল ইসলাম মনু, হারুনর রশীদ মুন্নাও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তারা জানান, প্রথমদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও এখন আর নেই।

গতকাল মঙ্গলবার হাবিবুর রহমান মোল্লার সমর্থনে ছনটেক, নয়ানগর, শেখদি, বাঁশপট্টি, গোবিন্দপুর, শনির আখড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন হারুনর রশীদ মুন্না।

Dhaka-5-4

গত সোমবার ওয়ার্ড কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তর যাত্রাবাড়ী কবরস্থান গলি, ভুষি গলি, বাগবাড়ী, বউ বাজার, মোহাম্মদিয়া মসজিদ গলি, ইসলামিয়া হাসপাতাল গলি এলাকায় প্রচারণা চালান আওয়ামী লীগের নেতারা।

৪৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম অনু বলেন, ‘এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রচারে কোনো ঘাটতি নেই।’

তিনি বলেন, ‘বয়সের জন্য প্রচারণায় আমাদের এমপি সাহেবের যতটুকু ঘাটতি, সেগুলো আমরা পুষিয়ে দিচ্ছি। যারা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তারাও এখন মোল্লা সাহেবের পক্ষে কাজ করছেন।’

‘আমি মনে করি, যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে মানুষ আওয়ামী লীগকে আবারও ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ আবার নির্বাচিত হলে এ আসনের বাকি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হবে’- বলেন এ কাউন্সিলর।

প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে জানতে হাবিবুর রহমান মোল্লার ফোনে কল দেয়া হলে ধরেন তার ছেলে মাহফুজুর রহমান মোল্লা শ্যামল। তিনি বলেন, ‘বাবা (হাবিবুর রহমান) অসুস্থ, এটি একটি অপপ্রচার। তিনি প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করছেন, মানুষের কাছে ভোট চাইছেন।’

Dhaka-5-5

কী ভাবছেন ভোটাররা

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা ঢাকা-৫ আসনে পরপর দুবারের সংসদ সদস্য। এ আসনের বড় অংশটি মাতুয়াইল, সারুলিয়া, দনিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত; যা সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ আসনের বাসিন্দারা জানান, এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে। এখানে নাগরিক সমস্যার কোনো শেষ নেই। জলাবদ্ধতা এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

তবে ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান এমপির বাড়ি খুবই কাছাকাছি কিন্তু এখানকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কবরস্থান থেকে খানবাড়ি মোড়ের দিকে যাওয়া রাস্তায় শীতের দিনেও পানি জমে থাকে। এই হলো উন্নয়নের অবস্থা! আমরা এর পরিবর্তন চাই।’

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হাজী নগরের বাসিন্দা সাঈদ হোসেন বলেন, ‘এবারও বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে এখানে হাঁটুর ওপর পানি জমে। রাস্তাগুলোর যা-তা অবস্থা। তবে কয়েক মাস আগে ড্রেনেজ ও রাস্তা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা সবকিছুই বিবেচনায় রাখব।’

Check Also

সেই বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় বিইউপি’র শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *