Home / রাজনীতি / মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সফল মেয়র এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের দ্বাদশ মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের ব্যাংক ফ্লোরে এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া সকালে আজিমপুর কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজন করেছে স্বরণসভা ও দোয়া মাহফিল।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মোহাম্মদ হানিফের একমাত্র পুত্র মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পিতার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেন।

এদিকে গতকাল থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী মেয়র হানিফ স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন (বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান) করেন মেয়র সাঈদ খোকন।

স্মরণসভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান অবিভক্ত ঢাকা সিটির প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের জীবনি তুলে ধরেন। ১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান। এ সময় ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তিনি ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা-১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ এর মার্চের শেষ সপ্তাহে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে মোহাম্মদ হানিফ তার বলিষ্ট ও গতিশীল নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরি করেন, যা তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতনসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করে। ফলশ্রুতিতে ’৯৬-এর ১২ জুন দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে এবং মোহাম্মদ হানিফের প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে শেখ হাসিনার ওপর বর্বর ও ঘৃণ্যতম গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে রক্ষা করেন মোহাম্মদ হানিফ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনি মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হন।

২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মাথায় বিদ্ধ স্প্লিন্টারের প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

Check Also

আইভী রহমানের সমাধিতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত নারী নেত্রী আইভী রহমানের প্রতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *