Monday , December 17 2018
Home / উপ-সম্পাদকীয় / তফসিল ঘোষণা অত:পর কি?

তফসিল ঘোষণা অত:পর কি?

মুনশী আবদুল মাননান  :     ইতোমধ্যে সকলেরই জানা হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ প্রথম দফা সংলাপেরই পরিণতি বরণ করেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সমাঝোতা হয়নি। সমঝোতার সম্ভাবনা, বলতে গেলে, আরো দূরে সরে গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়ে দিয়েছেন, সংলাপের এখানেই সমাপ্তি। তবে আলোচনা চলতে পারে, যদি অপরপক্ষ সেটা চায়। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের তরফে বলা হয়েছে, আরো আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সে জন্য ঐক্যফ্রণ্টের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আগ্রহের কথা ব্যক্ত করা হয়নি। দ্বিতীয় দফা সংলাপে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ না করা, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের এই প্রধান দাবিগুলো নাকচ করে দেয়া হয়েছে। সরকার পক্ষ এই সব দাবি নাকচ করার ক্ষেত্রে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের দোহাই দিয়েছে। বলেছে, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনের বাইরের যাওয়াও সম্ভব নয়।
সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের অনুরোধও গ্রাহ্য করা হয়নি। আওয়ামী লীগের তরফে নির্বাচনের তফসিল নির্দিষ্ট দিনে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সংলাপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগে জানানো হলেও এবং পরে সব দল চাইলে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, এমন কথা বলা হলেও সে কথা রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের সবুজ বার্তা পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে। এর ফলে সরকারপক্ষ ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে আরো আলোচনার সম্ভবনা প্রকৃতপক্ষে অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের আরো কয়েকটি দিন অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। সংবিধান মোতাবেক, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন অন্তত ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিতে পারতো। এর মধ্যে সমঝোতার আখেরি চেষ্টার একটা সুযোগ থাকতো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে দেয়া তার ভাষণে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের দুটি দাবির কার্যত ইতি টেনে দিয়েছেন। এর একটি হলো, ইভিএম ব্যবহার না করা, অন্যটি হলো, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন। তিনি বলেছেন, ইভিএম ব্যবহার হবে। তবে সীমিত আকারে। সেই সীমিত আকারের পরিসীমা কতটা তার বিস্তারিত জানান নি। শহরাঞ্চলের কিছু আসনে দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, তথ্য শুধু এটুকুই দিয়েছেন। এটা কারো অজানা নেই, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে মতভেদ রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ছাড়া আর সব দল বা জোট ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে, এমন কি ১৪ দলীয় জোটের মিত্র জাতীয় পার্টিও। তারপরও নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের অনুকূলে সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়েছে। একইভাবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে সাধারণ ঐকমত্য থাকলেও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে মোতায়েন ও বিচারিক ক্ষমতাসহ মোতায়েন, এই দুই অভিমত রয়েছে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি ও কিছু দল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন চায়। পক্ষান্তর বিএনপিসহ ২০ দল এবং বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও অন্যান্য দল বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যখন সংলাপ করে তখনও অধিকাংশের অভিমত ছিল বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে।
দেখা গেছে, এদুটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দল ও মহলের মতামতই গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি দাবির ‘নিষ্পত্তি’ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে। আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিটিও ব্যাকফুটে ঢলে গেছে একই কারণে। আওয়ামী লীগ, তার শরীক দলগুলো এবং সরকার এখন আরো জোরে বলতে পারবে। ইভিএম ব্যবহার ও বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ব্যাপার এবং যে সিদ্ধান্ত সে নিয়েছে ও ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে তাদের আর কিছু করার নেই। একইভাবে তারা এটাও বলতে পারবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি এখন অচল। কারণ, ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তাদের পূর্বাপর অভিমত একই এবং তা হলো, এটা আদালতের বিষয়। আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিলে তাদের আপত্তি নেই। আর অন্য তিন প্রধান দাবি যেমন, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙ্গে দেয়া ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের প্রশ্নে তাদের সাফ জবাব, সংবিধানে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্দেশনা নেই। সংবিধানে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা আছে। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার বিধান আছে। সংবিধানে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কোনো সংস্থান নেই। কাজেই, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এই প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান দাবিগুলোর ব্যাপারে সমঝোতার আশা প্রায় তিরোহিত। ‘প্রায়’ কথাটি বলা হচ্ছে এ জন্য যে, আরো আলোচনা হবে বলে একটি ‘আশা’ জেগে আছে। আলোচনা হলেও ফলাফল ইতিবাচক হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে যদি সুফল মেলে, আশাটি এখানেই। আলোচনা ব্যর্থ হলে অথবা আলোচনা একেবারেই না হলে এই আশার প্রদীপটি নিভে যাবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের দাবি আর তার প্রধান শরীক বিএনপির দাবি মূলে একই। বিএনপির সঙ্গে জোট বেধে আছে যে দলগুলো, তাদেরও দাবি অভিন্ন। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবিগুলো মেনে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছে। দাবিগুলোর ব্যাপারে আলোচনা বা সংলাপে বসার কথা বলে এসেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল ও জোট ও সরকার বরাবরই নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে। তাদের এককথা, বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপ নয়। এই বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের পক্ষ থেকে তার দাবিনামার ভিত্তিতে সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলে প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ তাতে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসার ব্যবস্থা করেন। তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, সংলাপে বসলে দু’পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান হয়তো বেরিয়ে আসবে এবং তাতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের সুরাহা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই সমঝোতার মধ্যদিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভবপর হবে। সংলাপে সরকারপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সে আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। এই সঙ্গে সকলের মনে শাংকা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএনপির তরফে বহুবার অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার বিএনপিকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন করতে চায়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন না ঘটিয়ে একতরফাভাবে আবার একটি নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। এতে সরকারের আরেকটি ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। সকলেই জানে, ২০১৪ সারের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক হয়নি। সে কারণে ওই নির্বাচন দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। দেশের মানুষ, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলের দাবি ও প্রত্যাশা এই যে, আসন্ন নির্বাচন যেন আগের নির্বাচনের মতো না হয়। তা যেন হয় অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একাধিকবার বলেছেন, তিনি প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন দেখতে চান না। তিনিও চান অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টসহ বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপেও তিনি এমন একটি নির্বাচন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। অথচ বাস্তবে সেরকম নির্বাচনের পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপের পর বলেছিলেন ঐক্যফ্রণ্টের বেশ কিছু দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সংলাপের পরও তিনি একই কথা বলেন। সভা-সমাবেশের অবাধ অধিকার, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের বন্ধ এবং তাদের ধরপাকড় ও হয়রানি না করার ব্যাপারে সরকারের তরফে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এই প্রতিশ্রুতির পর ঢাকা ও রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দুটি জনসভার একটিও অবাধে ও বিনা প্রতিবন্ধকে হয়নি। জনসভার অনুমতি দিতে যেমন টালবাহানা করা হয়েছে তেমনি জনসভামুখী মানুষজনকে নানাভাবে বাধা প্রদান করা হয়েছে, হয়রানি করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশজুড়ে মামলা ও গ্রেফতার জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার জনসভার আগের একদিন ও পরের দুই দিনে আট শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কথার কথায় পর্যবসিত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে দেয়া ভাষণে দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। আসলেই কি তাই? বিরোধীদলের কর্মসূচীতে পদে পদে বাধা, গায়েবি মামলার হিড়িক, ব্যাপক ধরপাকড়, বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি কি নির্বাচনের উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশের প্রমাণ বহন করে? তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন, মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এযাবৎ যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রতিটিতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর নিশ্চয় ‘নরম’ নির্দেশ ছিলনা। তাতে কি ভোটে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বিরোধীদলীয় প্রার্থী, নেতাকর্মী, এজেন্টদের হয়রানি, মামলা, গ্রেফতার না করা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে? ভবিষ্যতে যে সম্ভব হবে তার গ্যারান্টি কি?
আগের সব নির্বাচন ও উপনির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে খোলাখুলি ভূমিকা রেখেছে আইনশৃংখলা বাহিনীর এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও সদস্য। পক্ষান্তরে বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও কর্মীসমর্থকদের ওপর কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের এতটুকু কার্পণ্য করতে দেখা যায়নি। ক্ষমতার এই পক্ষপাতমূলক ব্যবহার ও অপব্যবহার রুখতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দায়িত্বপালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অত্যন্ত দু:খজনক হলেও বলতে হচ্ছে, অতীতে দায়িত্বপালনে ব্যর্থতার জন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমন নজির বিরল। বস্তুত এসব কারণেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা প্রায় শূণ্যে নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা অর্জনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন ছিল নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। একারণেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যান্য সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এর মর্যাদা, ক্ষমতা ও স্বাধীনতা অনেক বেশি। অথচ নির্বাচন কমিশন তার এই মর্যাদা, ক্ষমতা ও স্বাধীনতা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। উল্টো সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলে রাজনৈতিকভাবে সীমাংসার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, তার সুযোগ কি নির্বাচন কমিশন রেখেছে? বিদ্যমান বিরোধ রাজনৈতিকভাবে মীমাংসার আগেই তফসিল ঘোষণা করে গোটা প্রক্রিয়াটি কার্যত অকেজো করে দেয়া হয়েছে। এখন সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মানুষ এখন নির্বাচন মুখী। দু’দিন পর হয়তো বলা হবে, আর কোনো মীমাংসার সুযোগ নেই। এও বলা হচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। এর সঙ্গে আগের কথা করলে মূল কথা দাঁড়াবে : ‘নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে হবে। নির্বাচনে কেউ আসলে আসবে, না আসলে না।’ এটা দায়িত্বশীলের কথা হতে পারে না। সরকারেই দায়িত্ব, এমন একটি নির্বাচন করা যাতে সকল দল অংশগ্রহণ করতে পারে এবং নির্বাচনটি হতে পারে অবাধ, সুুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এরকম নির্বাচনের পরিবেশ কি সরকার নিশ্চিত করতে পেরেছে? বলা যায়, একতরফা নির্বাচনের মঞ্চই তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আরেকটি একতরফা নির্বাচনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাত দফা না মানলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। পর্যবেক্ষক মহল আশংকা করছে, একতরফা নির্বাচন এবং তা প্রতিহত করার পরস্পরবিরোধী সংকল্পের বাস্তবায়ন দেশের জন্য বিপর্যয় ঢেকে আনবে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক বিকাশ ও উন্নয়ন অনিশ্চিত করে দেবে। এহেন আশংকার প্রেক্ষিতে শুভবুদ্ধির উদয় ও বিজয়ই আমরা কামনা করছি।

Check Also

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যুবশক্তির গুরুত্ব

মো. ওসমান গনি  :   টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের নতুন চ্যালেঞ্জ এখন আমাদের সামনে। ইতোমধ্যেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *