Tuesday , November 20 2018
Home / উপ-সম্পাদকীয় / জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কি সরকারি মহল বিচলিত?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কি সরকারি মহল বিচলিত?

মুনশী আবদুল মাননান   :    জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠনের পর সরকারি মহল থেকে যা বলা হচ্ছে, তাতে তুচ্ছতাচ্ছিলের ভাবটা যেমন আছে, তেমনি আক্রমণাত্মক ভাবটাও আছে। একদিকে বলা হচ্ছে, যুক্তফ্রণ্ট গণবিচ্ছিন্ন, জনসমর্থন বলতে আর কিছু নেই। এটি বিএনপির সঙ্গে সিকি-আধুলির সংযোগ। এই অভিমতে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের ভাবটি পরিষ্কার। অন্যদিকে এই ফ্রণ্ট গঠনের মধ্যে ‘ষড়যন্ত্রের’ উপাদান আছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কঠোরভাবে তাকে মোকাবিলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দেশকে বিশৃংখল ও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে তা যে কোনো মূল্যে দমন করা হবে। অথচ বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, অধ্যাপক ডা. বি চৌধুরীর বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রণ্টের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া যখন চলে এবং এক পর্যায়ে ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর নাটমঞ্চে যখন এদের নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যখন সরকারি মহল থেকে এক প্রকার সন্তোষই প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঐক্যের প্রয়াস স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এই সন্তোষ প্রকাশ ও স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করার পেছনে আসল কারণ কি ছিল তা সরকারি মহলই বলতে পারে। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রতি চোখ রেখে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠবে না, সরকারি মহল সম্ভবত এরকমই মনে করেছিল। ঐক্যের চূড়ান্ত রূপ লাভের সময়ে ডা.বি. চৌধুরীর সরে পড়ার ঘটনায় সেটা প্রতীয়মান হয়। যা হোক, ডা. বি চৌধুরী পিঠটান দেয়া সত্তে¡ও বৃহত্তর ঐক্যের প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠিত হয়েছে। ডা. বি চৌধুরীর বিকল্পধারাই কেবল জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টে নেই। তার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রণ্টের দুই শরীক আসম আবদুর রবের জেএসডি এবং মাহমুদর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য এখন জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের শরীক। সরকারি মহলের ভাষায়, ‘জগাখিচুড়ি’ ঐক্য হলেও এই ঐক্য এখন বাস্তব। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। দেশব্যাপী সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ ও আন্দোলন করার লক্ষ্য নিয়ে ফ্রণ্টনেতারা এখন কাজ করছেন।
বিএনপি অনেকদিন ধরেই বৃহত্তর ঐক্য গঠনের জন্য চেষ্টা করে আসছিল। সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট যে সাত দফা দাবি ঘোষণা করছে তা মূলত বিএনপিরই দাবি। বিএনপির এটা বড় ধরনের সাফল্য। অনেকেই এখন বলতে চেষ্টা করছেন যে, ডা. বি চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ করে তার পুত্র মাহি বি চৌধুরীর সঙ্গে সরকারি মহলের কোনো অংশের ‘সম্পর্ক’ বা ‘যোগসাজস’ ছিল। বৃহত্তর ঐক্য ঠেকানোই ছিল এর লক্ষ্য। এ লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে। ডা. বি চৌধুরী-মাহি বি চৌধুরী এখন না ঘরকা না ঘাটকা। প্রশ্ন উঠতে পারে, সরকারি মহল জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট নিয়ে এখন যে তুচ্ছতাচ্ছিল করছে, আসলেই তা কি তুচ্ছতাচ্ছিল্য, নাকি ‘ভয় তাড়ানোর গান’? জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠনে সরকারি মহল বিচলিত কিনা এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও ১৮ দলের নেতাদের অনেকেই বলেছেন, তারা মোটেই বিচলিত নন। তবে তাদের হাবভাবে বিচলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠনে সরকারের আতে ঘা লেগেছে। ঐক্যফ্রণ্ট গঠনের পর থেকে সরকারকে আমরা বিচলিত দেখতে পাচ্ছি। পর্যবেক্ষকদের মতে, মওদুদ আহমদের অভিমত অনেকাংশই সত্য। সরকারি মহলের আচরণে বিচলিত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট তার প্রথম কর্মসূচী হিসাবে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল। ২৩ অক্টোবর এই সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সে অনুমতি দেননি। রীতি মোতাবেক, জনসভার জন্য আবেদন দেয়া হলেই ধরে নেয়া হয়, অনুমতি পাওয়া গেছে। অন্যার্থে বলা যায়, এটা অভিহিতকরণ, যাতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ আইনশৃংখলা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ-পদক্ষেপ নিতে পারে। সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানোর পর জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের তরফে সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার মহানগর পুলিশ কমিশনার আবেদনকারীদের জানিয়ে দেন, ‘সমাবেশের অনুমতি দেয়া গেলনা।’ অনুমতি না দেয়ার কারণ হিসাবে বলা হয়, বিএনপির যে নেতাদের নামে সমাবেশের অনুমতির আবেদন করা হয়েছে তাদের নামে অনেক মামলা আছে। এ অবস্থায় সমাবেশের অনুমতি দিলে বিশৃংখলার আশংকা রয়েছে। আসলে এটা কোনো যুক্তি নয়, যুক্তি হতেও পারেনা। সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না, এটাই মূলকথা। কিছু একটা বলতে হয়, তাই বলা। অনেকেই বলতে পারেন, এটা স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। কর্তৃপক্ষ যা ভালো বিবেচনা করেছে, সে অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখানে সরকার বা সরকারি মহলের হাত নেই। তার কিছু করারও নেই। এটাও কোনো যুক্তি নয়, কথার কথা মাত্র। পুলিশ চলে সরকারের নির্দেশে। সরকারের কোনো নির্দেশনা না থাকলে পুলিশ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বা দিতে পারেনা। মানুষ এটাই বিশ্বাস করে।
জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট ২৪ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশে করার অনুমতি চেয়ে ফের আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রেও নিরাপত্তার অজুহাতই দেখানো হয়েছে। ঐক্যফ্রণ্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি না পেলেও ওই দিন নেতারা সিলেটে যাবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করার কর্মসূচী রয়েছে। সিলেটে সমাবেশের জন্য আরো অপেক্ষা করলে অন্যান্য স্থানে সমাবেশ করা বিলম্বিত হবে। পরবর্তী পরিকল্পনায় রয়েছে চট্টগ্রামে ও রাজশাহীতে সমাবেশ করা। এ দু’ সমাবেশের ক্ষেত্রে সিলেটের পুনরাবৃত্তি হবে কিনা এখনো স্পষ্ট হয়। নেতৃবৃন্দের আশংকা, ওই দুই সমাবেশের ব্যাপারেও হয়তো একই পন্থা অবলম্বিত হবে। এভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টকে যদি সমাবেশ করতে না দেয়া হয়, মাঠে নামতে না দেয়া হয়, তাহলে কি হবে, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রশ্ন।
নির্বাচনের খুব বেশিদিন বাকী নেই। তফসিল ঘোষণা হলেই শুরু হয়ে যাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এর আগেই জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট চায় যতটা সম্ভব সমাবেশ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শো ডাউন করা এবং তার সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। সরকার যদি সে সুযোগ না দেয়, তাহলে ঐক্যফ্রণ্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভবপর হবে কিনা সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার বারিত করা হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল আছে, সেটা আর বলা যাবে না। অনেকেই বলছেন, সরকার যে অবস্থান নিয়েছে তাতে নির্বাচনের ব্যাপারেই সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলে থাকেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন এবার হবে না। সরকারি মহলও এতে সহমত পোষণ করে। কিন্তু মুখে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে বিরোধীদলগুলোর এতটুকু স্পেস দিতে চাইছেনা। বিরোধীদলগুলোর পক্ষে নির্বাচনের ব্যাপারে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, তার মধ্যে একটা সাধারণ ঐক্য রয়েছে। বিএনপি হোক, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য দল হোক, ইসলামী দল হোক কিংবা বামপন্থী দল হোক-ুসকলেই অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। আন্তর্জাতিক মহলও বরাবরই এরকম একটি নির্বাচনের তাকিদ দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিককালে তাদের এই তাকিদ জোরদার হয়েছে।
অবাধ,সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলো, নির্বাচনের মাঠে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বাস্তবে আমরা দেখছি, মাঠ সমান নয়। সমান করার কোনো উদ্যোগ-পদক্ষেপ না আছে সরকারের, আর না আছে নির্বাচন কমিশনের। সরকার বিরোধী মত ও দলের প্রতি কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করছে। আর নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে নির্বাচন প্রশ্নে মতৈক্যর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে যাতে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কাঙ্খিত নির্বাচন করা সম্ভব কিনা বা তার সে সক্ষমতা আছে কিনা। সময়ের একেবারে শেষ মাথায় এসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের প্রচারণায় বিরোধীদলগুলো যাতে খুব কম সময় পায়, তার জন্যই সম্ভবত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বিলম্বিত করা হচ্ছে। এদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাধে ও উৎসবের আমেজে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছে। পক্ষান্তরে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি মাঠেই নামতে পারছে না। হামলা-মামলা-গ্রেফতারের আশংকা ও আদালতে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতেই বিএনপির নেতাকর্মীদের সময় পার করতে হচ্ছে। যে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট গঠিত হয়েছে, তার জন্যও কোনো স্পেস দিচ্ছে না সরকার। তাহলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কিভাবে?
জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের তরফে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে, দেশের অধিকাংশ মানুষ তা সমর্থন করে। নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, নির্বাচনের মাঠে সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের সময় ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, বিতর্কিত ইভিএম-এ ভোট না নেয়া-এসব দাবি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচিত। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবির প্রশ্নে সরকারকে আলোচনায় বসার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছে। সরকার তার এই লাগাতার অনুরোধ লাগাতারই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টও আলোচনার মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তার পথ বের করার জন্য বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সরকারকে আলোচনায় বসার জন্য ফের আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি মহল থেকে এর একটি শক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তাহলে এখন আর ১০-১২ দিনের মধ্যে কে কার সঙ্গে সংলাপ করবে? দেশে সংলাপ করার মতো এমন কোনো পরিবেশ নেই, এমন কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি। সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।
দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক মহল মনে, করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে আলোচনার-সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। এবং সেই আলোচনা-সমঝোতার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউটের (এনডিআই) সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনটি হবে হাই টেনশনের। তবে যদি সরকার ও বিরোধীদল একটি সত্যিকারের সংলাপের বসে তবে একটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও সবার জন্য মাঠসমতলকারী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন জাতীয় সমঝোতা ধারার সূচনা এবং জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে চমৎকার অগ্রগতি ঘটেছে তা চলমান থাকতে পারে।
রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত বিভিন্ন মৌলিক উপাদান রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারার তার ইতিহাস আছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, গতিশীল মিডিয়া, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যেলালিত নাগরিক সমাজ, ক্রমবর্ধমানহারে তরুণদের সক্রিয়তা এবং সহিংসতার প্রতি জনসাধারণের কম সহনশীলতার দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের অনুকূলে এই দিকগুলো বিদ্যমান থাকার পরও এনডিআই রিপোর্টে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়েছে, এসব সত্ত্বেও আগামী নির্বাচনটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক মেরুকরণ, উচ্চতর উত্তেজনা এবং একটি সংকুচিত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এনডিআই’র রিপোর্টে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হাই টেনশনের হলেও কিভাবে সেই হাই টেনশন দূর করে বা সীমিত করে নির্বাচনটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যার উপায়ও বাতলে দেয়া হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে ফলপ্রসু আলোচনাই সে উপায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে ভাষায় আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গে যেরূপ মনোভাব ও আচরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে তাতে আশংকা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিসর আরো সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এটি একটি বড় বিবেচনা। আমরা আশা করতে চাই, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সম্ভব্য কোনো সুযোগই সরকারের হাতছাড়া করা উচিৎ নয়। বিরোধীদলগুলোরও এক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখাতে হবে। আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমেই কাঙ্খিত নির্বাচন সম্ভবপর হয়ে উঠতে পারে। আর রাজনৈতিক পরিসর বাড়াতে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টসহ সকল বিরোধীদলের সমাবেশে ও অন্যান্য কর্মসূচী অবাধে পালন করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

Check Also

মানবস্বাস্থ্যের উপর পরিবেশ দূষণের প্রভাব

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার  :     পরিবেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মাটি, পানি ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *