Wednesday , November 21 2018
Home / জাতীয় / মানবসম্পদ সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

মানবসম্পদ সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

 

ঢাকার ডাক রিপোর্ট :  বৈশ্বিক মানবসম্পদ সূচক বা হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের করা নতুন এক সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল ছাড়া সবার চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের ১৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর জরিপ করে এই তালিকাটি করা হয়েছে। এতে কোন দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেঁচে থাকার অন্য অনুষঙ্গগুলো বিবেচনা করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এরপর যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকং। আর তালিকার তলানিতে রয়েছে আফ্রিকার দেশ শাদ ও দক্ষিণ সুদান।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন শিশু বড় হয়ে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হওয়ার সম্ভাবনা ৪৮ শতাংশ। ভারতে এই হার ৪৪ শতাংশ আর পাকিস্তানে ৩৯ শতাংশ। তবে শ্রীলঙ্কা ও নেপালে এই হার যথাক্রমে ৫৮ ও ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জন শিশুই ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ভারত ও পাকিস্তান এই হার  ৯৬ ও ৯৩ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ৯৯ জন।  বাংলাদেশে চার বছর বয়সী শিশু স্কুল শুরু করলে ১৮ বছর হওয়ার আগে স্কুলজীবনের ১১ বছর শেষ করতে পারে। ভারতে শেষ হয় ১০ দশমিক ২ বছরে। পাকিস্তানে ৮ দশমিক ৮ বছর। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এটি ১৩ বছর।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে।  আর প্রাপ্তবয়স্কদের বেঁচে থাকার হার বাংলাদেশ ৮৭ শতাংশ। ১৫ বয়সীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশই ৬০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। আর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ শিশুই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া প্রক্রিয়া ও বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৬ শতাংশ শিশুর।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এতে বলা হয়, বর্তমানে জন্ম নেওয়া বিশ্বের ৫৬ শতাংশ শিশু কর্মক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ বিকাশ করতে পারবে না। আর এজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারই দায়ী। স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এই তালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, এটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু কোথায় বরাদ্দ বাড়ানো দরকার সেই তথ্য প্রকাশ না করে আমরা থাকতে পারি না।

জিম ইয়ং বলেন, মূলত বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এমনটা করা হয়েছে। কারণ এর সঙ্গে উৎপাদন হার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জড়িত।

Check Also

স্ত্রী-সন্তানের নির্যাতনকারী জাতিকে কী দেবে?

ঢাকার ডাক ডেস্ক   :    যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজ রাখেন না, অধিকার হরণ করেন, নির্যাতন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *