Wednesday , November 21 2018
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / আন্ডারপাসে স্বাচ্ছন্দ্য পথচারীদের

আন্ডারপাসে স্বাচ্ছন্দ্য পথচারীদের

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :  ঢাকার ব্যস্ততম রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজের চেয়ে আন্ডারপাসে পথচারীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ আন্ডারপাস ব্যবহারে কষ্ট কম, নিরাপদও। অনেকটা চওড়া হওয়ায় একসঙ্গে অনেকেই ব্যবহার করতে পারছেন। এটি ব্যবহারে সময়ও বাঁচে। সচেতন পথচারীরা এমনটিই বলছেন।

কিন্তু ঢাকায় এই আন্ডারপাস যে আছে হাতেগোনা মাত্র তিনটি। কারওয়ান বাজার ও গাবতলীতে দু’টি আন্ডারপাস রয়েছে। এই দুই আন্ডারপাস দিয়ে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পারাপার হতে দেখা যায়। তবে কাগজেকলমে ঢাকায় আরও একটি আন্ডারপাস আছে, তা হলো গুলিস্তানে। এটি গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি মার্কেট হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আর গত ১২ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে একটি আন্ডারপাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে চার বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে আন্ডারপাসে (প্রজাপতি গুহা) ঢোকেন ষাটোর্ধ্ব আশরাফ মিয়া। পূর্ব সিঁড়ি বেয়ে রাস্তায় ওঠার সময় নাতিকে কোলে তুলে নেন তিনি। গুহা নিয়ে নাতির আগ্রহে আসেন তিনি, আর বলেন, এটাও রাস্তা। মাটির ভেতর দিয়া।

under-(1)

আশরাফ মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এখানে ফুটওভার ব্রিজ নাই। এটাই ভরসা। কিন্তু এখানে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও হয়তো এই গুহাই ব্যবহার করতে হতো। কারণ ফুটওভার ব্রিজ অনেক উঁচু। আমার মতো বয়স্ক মানুষ কিংবা আবার নাতির মতো বয়সের বাচ্চাদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা কষ্টকর।

তিনি বলেন, ‘কারওয়ান বাজার ব্যস্ত এলাকা। এখানে নেই ফুটওভার ব্রিজের ব্যবস্থা। এখন তো রাস্তা পারাপারে অপেক্ষা বেড়েছে। পুলিশ যেতে দেয় না। একটা মাত্র গুহা, এপার থেকে ওপারে যেতে মানুষের যেন ঢল নামে এ গুহায়। আশপাশে আরও একটা আন্ডারপাস তৈরির দাবি এ বয়োবৃদ্ধের।

শুধু আশরাফ মিয়া নন অধিকাংশ পথচারীর দাবি, রাজধানীর অনেক ফুটওভার ব্রিজ যথাযথ স্থানে তৈরি করা হয়নি। যেখানে প্রয়োজন বেশি, সেখানে নেই। যেকারণে রাজধানীর অনেক ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে অনীহা পথচারীদের।

আবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে যেসব ফুটওভার ব্রিজ আছে, সেগুলোর উচ্চতা বেশি, নোংরা পরিবেশ, হকার, ভিক্ষুক, বখাটে ও মাদকসেবীদের দখলে থাকার কারণে রাস্তা পারাপারে এগুলো ব্যবহারে পথচারীদের মধ্যে ভীতির সঙ্গে অনীহাও দেখা যায়। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী।

গত শনিবার দুপুরে ফার্মগেটে গিয়ে দেখা যায়, বড় ফুটওভার ব্রিজে পথচারীদের ভিড়। তবে তার পাশেই খামার বাড়ি সংলগ্ন সড়কের ফুটওভার ব্রিজ, কারওয়ান বাজার যেতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনের ফুটওভার ব্রিজে পথচারীদের ভিড় নেই। অনেকে আগের মতোই যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন।

স্কুল ছাত্র তন্ময় বলছিল, এখানকার ফুটওভার ব্রিজ খুবই উঁচু। মা প্রতিদিন আমাকে স্কুল থেকে নিয়ে এপার-ওপারে যান। ওই ফুটওভার ব্রিজটি উঁচু হওয়ায় আমার যেমন কষ্ট, তার চেয়ে বেশি কষ্ট বৃদ্ধ পথচারীদের। এখানে আন্ডারপাস কিংবা চলমান ফুটওভার ব্রিজ দরকার ছিল।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী ফুটওভার ব্রিজ নেই। আবার যা আছে তাও অপর্যাপ্ত। ফুটওভার ব্রিজ না করে আন্ডারপাস করলে ভালো হবে।

under-(2)

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা হতে হবে। যেসব জায়গায় পথচারীদের সংখ্যা বেশি- যেমন শাহবাগ, সেখানে একটা ফুটওভার ব্রিজে তো সম্ভব না। সেক্ষেত্রে তো পথচারীদের চাপ আপনি সামাল দিতে পারবেন না। বাধাও দিতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে চলাচলকারী যানবাহনের চাপ কমাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রুট নির্ধারণ করে আলাদা সড়কে ডাইভার্ট করে দিতে হবে।

এ নগর পরিকল্পনাবিদ আরও বলেন, আমাদের ফুটওভার ব্রিজগুলো প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি উঁচু। অনেকক্ষেত্রে তিনতলা বাসের চেয়েও বেশি উঁচু। এমন ফুটওভার ব্রিজকে তো পথচারীবান্ধব বলা যাবে না। বৃদ্ধ কিংবা শিশু পথচারীদের জন্য চলমান কিংবা এক্সেলেটর সংযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ চালু করতে হবে। শুধু চালু করলেই হবে না, তা তত্ত্বাবধান ও রক্ষাবেক্ষণ করতে হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ওসমান গণি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকায় আরও এক ডজন আন্ডারপাস নিমার্ণ করার। অবস্থা বুঝে আরও বেশ কটি চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভার ব্রিজও তৈরি করা হবে। এর বাইরে দুই সিটি মিলে আরও অর্ধশত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করবে।

Check Also

সংসদীয় কমিটির খরচ ১০ কোটি, উপস্থিতি অর্ধেক

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    দশম জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করেও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *