Home / সাহিত্য / ভালবাসার আরেক নাম…..

ভালবাসার আরেক নাম…..

(১৮ পর্ব)
সাদিয়া আক্তার  :  আপা, হুম! বল? ও খেয়েছে? খেলো। কাজী সাহেব আসেন। মা মিলাই, আসবো? আসো মামা। এখানে একটা স্বাক্ষর করে দে তো। কেন? অপূর্বর সঙ্গে তোর এখন বিয়ে। বিয়ে! কি বলছো মামা? হ্যাঁ। এখানে একটা স্বাক্ষর করো। না, না এ হতে পারে না। খুব হতে পারে। আমি তো বিবাহিত । না! তুমি বিবাহিত না। কে বলেছে, আমি বিবাহিত। তুমি বিবাহিত ছিলে কিন্তু এখন অবিবাহিত। কিভাবে? কিভাবে আমি বলছি। সেদিন তুমি একটা পেপারে স্বাক্ষর করেছিলে? হ্যাঁ। ওটাই ছিল তোর ডির্ভোসের পেপার। বাবা! তুমি তোমার মেয়ের সাথে গাদদারি করলে? যে মেয়ে বাবা’র কথা ভাবে না, তার জন্য আমার কোন দুঃখ নেই। আর সন্তানের ভালোর জন্য বাবা-মা সব কিছু করতে পারে। বাবা, তুমি এমন করো না।
আমি আবিরকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। খুব পারবে। মা, তুমি কিছু বল? আমি তোমাদের পায়ে ধরছি, আমার সাথে এমন অন্যায় করে না। আমি মরে যাবো, সত্যিই আমি মরে যাবে। তোমরা আমাকে বিষ খেতে বলো, আমি তা খেতে রাজি কিন্তু বিয়ে করতে বল না। বাবা, তুমি আমাকে রক্ষা করো। আমি তোমার মেয়ের পরিচয়ে আর কোনদিন আসবো না, তুমি শুধু আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আর কোন দিন তোমাদের এই মুখ দেখাবো না। আমাকে এভাবে মেরে ফেলো না। এখানে সই করো। আমি পারবো না। সই করো বলছি। বললাম তো আমি সই করবো না। করবে না? না। তাহলে তোমার বাবা তোমার সামনে বিষ খাবে। যে মেয়ে বাবার কষ্ট বোঝে না, তাকে বেঁচে থাকার কোন দরকার নেই। বাবা! হ্যাঁ হ্যাঁ। তুই বিয়ে করবি কিনা বল? ঠিক আছে, আমি বিয়ে করছি। তবে বাবা তুমি ঠিক করলে না। তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছিলে বলে, তোমার কথা রাখলাম। আবিরকে তো আমার মন থেকে সরাতে পারবে না।
অপূর্বরা কিছুই জানে না। তারা যদি জানে, তাহলে মা তুই আমার মরা মুখ দেখবি। মা, তুমিও? ঠিক আছে। এতে তোমরা যদি সুখী হও,তাই হবে। তোমরা তাহলে এই জন্য আমাকে আনলে? তোমার কি মনে হয়, আবিরের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য আনলাম? তা হয় না মা। আমার মোবাইলটা নিতে পারি? না, তুমি কোনভাবে আবিরের সাথে যোগাযোগ করবে না। আর আবিরকে যা বলার আমি বলবো। বলবে তো সব মিথ্যা কথা। ওটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। তুমি এখন অপূর্বের সাথে কিভাবে সুখে থাকবে, সেটা ভাবো। মা, শুনেছি মেয়ে বিপদে পরলে মা সাহায্যে করে আর তুমি আমাকে আরো বিপদের মধ্যে ঠেলে দিলে। কেন করলে? তোর ভালোর জন্য। আমি আবিরকে ছাড়া যে, ভালো থাকবো না জেনেও? সব ঠিক হয়ে যাবে। মা, আজ থেকে তোমাদের সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক রইলো না। জন্ম দিয়েছিলে তার ঋণ তো শোধ করতে পারবো না, হয়তো তোমাদের কথা রেখে কিছুটা শোধ করলাম। যদি কখনো সুযোগ আসে, আমার জীবন দিয়ে শোধ করবো। মিলাই, এ কথা বলিস না। খুব কষ্ট হয়। আর কিছুই বলছি না। তোমরা ভালো থেকো। আজ বুঝলাম সংসারে আপন-পর বলে যে একটা কথা আছে, সে কত অর্থহীন। দুনিয়ায় আপনার পর কেউ নেই।স্রোতের টানে কে যে কখন কাছে আসে, আর কে যে ভেসে দূরে যায় তার কোন হিসাব কেউ জানে না।

মিলাই, তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে? এসিটা বাড়িয়ে দিবো? না, আমি ঠিক আছি। তুমি তো ঘেমে গেছো, খুব গরম লাগছে? না! আজ আমাদের বাসর রাত। তো? বাসর রাত তো কি হয়েছে? কি হয়েছে মানে? এই রাতটি প্রতিটি ছেলে-মেয়ের কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, তুমি ভাবতে পারছো? আমার এত ভাবার সময় নেই। অপূর্ব, তুমি আমার কাছে আসবে না। কেন? আমি তোমার হ্যাজবেন্ড! জানি, কিন্তু আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে। ঠিক আছে, তুমি যখন কাছে আসতে বলবে,তখন আমি তোমার কাছে আসবো। তার আগে না। থ্যাঙ্ক ইউ। আমাদের হানিমুন? কোন কিছুই এখন হবে না। ওকে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
অবন্তী, এই সব কি শুনলাম? মিলাইয়ের আবার বিয়ে হয়েছে? হ্যাঁ, আপু। আমার খুব খারাপ লাগছে, খুব কাঁন্না পাচ্ছে। আবির সাহেব জানেন? হুম, রাতে দাদা জানিয়ে দিয়েছে এবং ডির্ভোস পেপার পাঠিয়ে দিয়েছে। মিলাই কেন আসলো, ও বোকা নাকি? এ সময় কেউ আসে। দাদা’রাই তো আনলো আর বললো এক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দিবে। মিলাই একা একা বিয়ে করে যেমন ভুল করেছিল এখন আবার চলে এসে তার থেকেও বড় ভুল করলো। তোমার ফুপীর সাথে তোমার কথা হয়েছে? না। ফুপীর কাছে ফোন নাই। আহা’রে জীবন, আহা’রে জীবন।
‘শত জনমের স্বপ্ন, তুমি আমার জীবনে এল, কত সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে। এই মধু মিলনে- মালা আর চন্দনে, হৃদয়ের সবটুকু সুবাস দিয়েছি ঢেলে! কত সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে।’ মিলাই, গানটা অনেক সুন্দর না? আমার যতগুলো প্রিয় গান আছে তার মধ্যে এটি একটা। আর গানের কথার সাথে আমার জীবনের মিল আছে। তাই! মিলাই, তোমার কি মন খারাপ? আমি দেখছি তোমার মুখে কোন হাসির চিহ্ন পর্যন্ত নেই। কেন বলো তো, আমাকে তোমার পছন্দ হয়নি? অপূর্ব, কোথায় যেন পড়েছিলাম, সংসারে কারো ওপর ভরসা করো না, নিজের হাত এবং পায়ের ওপর ভরসা করতে শেখো। কথাটা যে এত মূল্যবান ছিলো আগে বুঝিনি। এখন তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। কি হয়েছে বলবে? আপনি আমার অতীতের কোন কথা জিজ্ঞাসা করলেন না তো? কেন? আর তোমার অতীতের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তুমি আমার বর্তমান, তুমিই আমার ভবিষৎ।
আর ডাঃ এপিজে আব্দুল কালাম একটা কথা বলেছেন যে, কখনও কোনো মানুষকে তার অতীত দেখে বিচার করতে যেও না। কারণ মানুষ শেখে। মানুষ পরিবর্তন হয়। মানুষ তার পরিবর্তন করতে পারে। মিলাই, জীবনটাকে নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য কখনো কখনো সবকিছু ছেড়েছুড়ে হারিয়ে যেতে হয়। এই কথার মানে? সব কিছুর মানে খুঁজতে যেও না, তাহলে তুমি নিজেই হারিয়ে যাবে। অপূর্বসাহেব, আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুর থেকে হারিয়ে যাই… সবার আড়ালে থেকে সবকিছুর থেকে দূরে থেকেই বোধ হয় নিজেকে নিজের মতো করে পাওয়া যায়, হয়তো শূন্যতার মাঝেই আছে সেই কাঙ্খিত পূর্ণতা….. মিলাই, তুমি তৈরি হয়ে নাও আমরা বাইরে বের হবো। কোথায়? দেখা যাক কোথায় যাওয়া যায়। আমি গোসল করে নিই। ওকে। শুনেন? কি? আপনার মোবাইলটা একটু দেবেন? এভাবে বলছো কেন, নাও। ধন্যবাদ। অল রাইট।
আবির, মিলাই তুমি কোথায়? আবির আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। তুমি ভেঙ্গে পড়ো না, কি হয়েছে আমাকে বলো? বাবা-মামা জোর করে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। আমি শুনেছি, তুমি এত কাঁন্না-কাটি করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি এখন কোথায়? অপূর্বদের বাসায়। মিলাই, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুমি প্লিজ চলে আসো। আবির, আমিও তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। শোন, অপূর্ব আমাকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছে, আমি তোমার কাছে চলে আসছি। সত্যি বলছো? প্লিজ তুমি চলে আসো। মিলাই, তুমি সোজা বাসায় চলে আসো। ওকে,জান। আবির তুমি এ নাম্বারে কল দিও না। ওকে, সোনা।

অপূর্ব আপনি এখানে দাঁড়ান আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি। ঠিক আছে, আমি তাহলে কফির অর্ডার দিই তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। ওকে, যাও। কি ব্যাপার এতক্ষণ লাগছে কেন, কোন সমস্যা হল না তো? এক্সকিউস মি? জ্বি বলুন? ওয়াশরুমে আমার ওয়াইফ গেছে দয়া করে যদি একটু ডেকে দিতেন, খুব উপকার হতো। ও শিউর। আপনি দাঁড়ান আমি ডেকে দিচ্ছি। আপনার ওয়াইফের নাম যদি বলতেন? মিলাই। ঠিক আছে। সরি, ভিতরে মিলাই নামের কোন মেয়ে নেই। কি যা-তা বলছেন? আমি নিজের চোখে মিলাইকে ওয়াশরুমে যেতে দেখলাম আর আপনি বলছেন নেই। যদি কিছু হয় তাহলে আপনার রেস্তোরেন্ট আমি উড়িয়ে দিবো। আপনি গিয়ে চেক করতে পারেন। সরেন। কোথাও তো নেই, তাহলে গেলো কোথায়? দেখি ভিতরে কোথাও আছে কিনা। সব জায়গায় খুজলাম কোথাও পেলাম না। আমি এখন কি করবো? মিলাইয়ের কাছে তো ফোনও নাই যে কল দিবো। হে খোদা তুমি রক্ষা করো। হ্যাঁলো! বাবা? কে অপূর্ব? তুমি কেমন আছো? জ্বি ভালো। বাবা, বলছিলাম মিলাই কি আপনাদের বাসায় গেছে? কি বলছো, মিলাই আমাদের বাসায় আসবে কেন? না,মানে মিলাইকে নিয়ে আমি বের হয়েছিলাম, মিলাই, ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছে তারপর থেকে আর মিলাইকে খুঁজে পাচ্ছি না। হোয়াট? তুমি কি করেছো,এখন আমার কি হবে? অপূর্ব, তুমি আমাদের বাসায় চলে আসো। ওকে।

মিলাই, তোমার আসতে কোন সমস্যা হয়নি? না গো।আসো আসো। আবির, আমি তো ভেবেছিলাম তোমাকে আমি সারাজীবনের মতো হারিয়ে ফেলেছি। ধুর পাগলি! আমাদের এই বন্ধন এক মৃত্যু ছাড়া আলাদা করতে পারবে না। আবির, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। মিলাই, আর কোন ভয় নেই, এখন তুমি নিরাপদে আছো। তোমাকে ছাড়া আমি ঘর বাঁধতে গিয়েছিলাম পারিনি, আমাকে ছাড়া তুমি ঘর বাঁধতে পারোনি। দু’টি মনের মিলন না হলে কি আর ঘর বাঁধা যায? তাই তো আমি তোমার কাছে বার বার ফিরে আসছি, আর তুমি আমাকে বারবার গ্রহণ করছো। হয়তো বা তাই। মিলাই, তুমি হঠাৎ করে চলে আসলে কি করে? যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। তা ঠিক বলেছো। তুমি তোমার বাবা-মা’কে জানিয়ে দাও, তুমি আমার কাছে আছো। আমি আমার বাবা-মা’কে কোন দিন ক্ষমা করতে পারবো না। তা বললে কি হয়! ক্ষমাই যদি করতে না পারো, তবে তাকে ভালবাসো কেন? তোমার কি মনে হয় তাদেরকে ক্ষমা করা যায়? দেখো, কোন বাবা-মা’ই চাই না তার সন্তান কষ্টে থাকুক। কিন্তু আমি তো তোমার কাছে সুখেই আছি। তুমি যেটা বুঝতে পারবে, তারা সেটা নাও বুঝতে পারে আর পারছে না বলেই এত কিছু।

Check Also

লোক গবেষণার সাদা শাপলা গোলাম এরশাদুর রহমান

সরোজ মোস্তফা  :    চলে গেলেন ‘চন্দ্রকুমার দে’ পরবর্তী নেত্রকোণার লোকসাহিত্য গবেষোণার প্রবাদ-পুরুষ গোলাম এরশাদুর রহমান। গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *