Home / সারা বাংলা / এক বালুমহালের অভাবে সবই হারাচ্ছে

এক বালুমহালের অভাবে সবই হারাচ্ছে

গাইবান্ধা  প্রতিনিধি  :  গাইবান্ধায় সরকারি কোনো বালুমহাল না থাকায় নদ-নদী ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সকল কাজ হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে যেমন নদ-নদীগুলোতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে তেমনি ফসলি জমি ভেঙে পড়ছে বালুর গর্তে। অনেক সময় এসব বালুর গর্তে ডুবে প্রাণহানীও ঘটছে। এছাড়া বালুমহাল না থাকায় সরকারও প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভবন, রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ, নিচু জমি ও গর্ত ভরাট করাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে বালুর প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে জেলায় সরকারি কোনো বালুমহাল না থাকায় ফসলি জমি, পুকুর, ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা, যমুনা, করতোয়া, বাঙ্গালী, ঘাঘট, আলাই ও মানস নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে এসব উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। সবকাজ ঠিকমতো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সরকারিভাবে বালুমহাল না থাকায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

Gaibandha

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের তালতলা বাজার এলাকায় ভাঙন কবলিত ঘাঘট নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মার্চ মাসে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের এক সদস্য উত্তর উড়িয়া গ্রামের আজাদ মিয়া, সোফাজ্জল হোসেন ও নুরজামাল মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে স্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করেন। ফলে এখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সে স্থানটি ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া জুলাই মাসের প্রথম দিকে সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মথরপাড়া গ্রামে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে আশপাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়নি।

Gaibandha

বছরের পর বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই বালু উত্তোলনের ধারাবাহিকতা চলছেই। আর এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, ঠিকাদারসহ জনপ্রতিনিধি ও তাদের আত্মীয়রা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের খামার বোয়ালী গ্রামের বালু ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া বলেন, আমরাও চাই জেলায় বালুমহাল ঘোষণা করা হোক। নির্দিষ্ট বালুমহাল ছাড়া জেলার যেকোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও বালু উত্তোলন করেই কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সকল কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

Gaibandha

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, গাইবান্ধায় বালুমহাল চালু করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত কিছু বিষয় আছে, সেটা মেনে বালুমহাল চালু করার চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা নিয়ম বহিঃর্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করছে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেটা বন্ধ করছি।

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ জেএমবির ১০ বছর করে কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জ    প্রতিনিধি :    চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি মামলায় ছয় জেএমবি সদস্যকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *